ফুটবলাররা যখন করপোরেট চাকুরে

বিশ্বকাপ এসেছে চার বছর পর। আবার চলেও যাবে কদিনের মধ্যে। কিন্তু অফিস ছিল, অফিস থাকবে। একটু ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন, অফিসে কিন্তু থেকে যাবেন বিশ্বকাপের তারকারা। তাঁদের কথাবার্তা কেমন হয়, তা শোনাচ্ছেন আহমেদ খান


হিগুয়েন বনাম বস

: হিগুয়েন, আপনি এইটা কীভাবে পারেন?

: সবই ওপরঅলার ইচ্ছা, বস। আমি শুধু চেষ্টা করে যাই।

: তাই বলে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস, বছরের পর বছর?

: এইটাকে আপনি সাধনা বলতে পারেন, বস!

: না না, তা তো বটেই, তা তো বটেই! সাধনা না হলে আপনাকে যখন যে কাজ দেওয়া হয়, সেটার বারোটা থেকে একেবারে তেরোটা বাজিয়ে দেন কীভাবে?

: জি বস?

: আপনাকে ডি মারিয়া সাহেব সব তৈরি করে ফাইলটা দিয়েছিলেন না?

: জি বস। উনি তো খুবই মাই ডিয়ার মানুষ। ছোটাছুটি অনেক করেছেন এই ফাইলটার জন্য!

: আর আপনি, আপনি কী করলেন?

: আমিও তো স্যার কম ছুটিনি। মানে ক্লায়েন্টের অফিস পর্যন্ত চলে গিয়েছিলাম, বস। আমি বস প্রোপোজালটা খাইয়েও দিয়েছিলাম!

: আচ্ছা!

: সত্যি, বস। সব ঠিক ছিল। কিন্তু একেবারে শেষ মুহূর্তে ক্লায়েন্ট বলল, আপনার এই প্রোজেক্টের গোল কী? ব্যস, আমার সব গুলিয়ে গেল! গোলের কথা শুনলেই আমার সব গুলিয়ে যায়, স্যার!

: এই নিয়ে আপনি প্রায় এক শ বার গোল নিয়ে গুলিয়েছেন, হিগুয়েন সাহেব। আমি তো ভেবেই পাই না এই অফিসে আপনি চাকরি করছেন কীভাবে?

: এই তো বস, আপনাদের মেহেরবানি, বস!

: গেট আউট!

রোনালদো বনাম সহকর্মী

সহকর্মী ১: কী ভাই, খবর শুনছেন নাকি?

সহকর্মী ২: শুনব না আবার, অফিসে তো এখন দেখছি এই একটাই খবর! যেদিকে যাই, শুধু শুনি যে ওই রোনালদো ব্যাটায় নাকি শেষ ইভেন্টটাও নিজের নামে করে নিয়েছে!

সহকর্মী ১: খাতির, আসলে খাতির! বুঝলেন না, বসের সঙ্গে খুব খাতির। আর ওই যে ঝোপ বুঝে কোপটাও মারতে পারে তো, বোঝেন নাই?

সহকর্মী ২: সে কি আমরা মারার কম চেষ্টা করি? কিন্তু ওই ব্যাটা ঠিকই লাফায়া-লুফায়া নিজের কাজটা সবার আগে পেয়ে যায়, করেও ফেলে। এভাবে বেশি দিন কিন্তু অফিসে আমরা টিকতে পারব না, বলে দিলাম!

সহকর্মী ১: আরে শোনেন না, এখনই এত ভয় পাইয়েন না! পলিটিকস তো এখনো বোঝে নাই, এমন প্যাঁচে ফেলব, কোনো দিন আর। আরে আরে, কী সৌভাগ্য, রোনালদো যে, আমাদের মনে আছে তাহলে, ভাই?

রোনালদো: কী যে বলেন, মনে থাকবে না আবার! আপনারা আছেন বলেই এ অফিসে এত ভালো লাগে। কাজের মধ্যে আনন্দ পাই। নতুন লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছা করে!

সহকর্মী ২: হ্যাঁ হ্যাঁ, তুমি তো সেরা এ অফিসের। আরে, কোথায় যাচ্ছ? যাহ্, চলে গেল!

সহকর্মী ১: খুব কাজ দেখাল আর কি! আরে বাবা, আমরা কাজ জানি না নাকি, অ্যাঁ? কিন্তু কেন করব, কেন করব? সব কাজ কি আমরা একাই করব নাকি, যত্তসব!

মেসি বনাম বউ

: হ্যালো হ্যালো! হ্যালো... তুমি কি শুনতে পাচ্ছ?

: হুম।

: হুম মানে কী, মেসি? তোমাকে এক ঘণ্টা ধরে ফোন করছি, ফোন বন্ধ! আর এখন বলছ, হুম!

: আচ্ছা আচ্ছা।

: আচ্ছা আচ্ছা মানে? আচ্ছা আচ্ছাটা আবার কী? কী হয়েছে তোমার, হ্যালো...

: ওই তো!

: ওই তো মানে? তুমি এখন কই? তুমি কি ম্যারাডোনা ভাইয়ের সঙ্গে কোথাও গেছ? তাঁর দেওয়া কিছু খাইছ নাকি? মেসি, আমার মাথার কসম লাগে, তুমি যদি ওই সব আজেবাজে জিনিস খাও...

: না না।

: না না, আবার কী? ‘না না’ তো তুমি স্পষ্ট করে বলো না কেন তুমি এখন কোথায়?

: আমি অফিসে, বাবু। একটা কাজের মধ্যে আছি।

: কাজের মধ্যে কেন? এখন না লাঞ্চ টাইম! লাঞ্চ করেছ তুমি?

: হুম।

: আবার হুম? মানে তুমি লাঞ্চ করোনি, তাই না?

: হুঁ।

: তুমি লাঞ্চ না করে এখন বসে বসে কাজ করতেছ কেন? তোমার ফ্যামিলিতে না আলসার আছে। তুমি কি আলসার বানাতে চাও তোমার পেটে? আলসার লাস্ট স্টেজে গেলে কী হয় জানো? ক্যান্সার! যাও, খেতে যাও!

: এই তো যাব। আরেকটু কাজ বাকি!

: কেন, তোমার দলের সব কাজ তোমাকেই করতে হবে কেন?

: সবাই আশা করে তো...

: আশা করে, না? এই পরিস্থিতি তুমিই তৈরি করেছ! হিগুয়েন ভাইয়াকে দেখো, কেমন নির্ভাবনায় ঘুরে বেড়ায়। আর তুমি, তুমি সারা অফিসের দায় নিজের মাথায় নিয়ে ঘুরে বেড়াও। খেতে ভুলে যাও, ঘুমাতে ভুলে যাও। সেদিন আমার দিকে তাকিয়ে বললা, আপনি কখন এসেছেন? নিজের বউকে কেউ গেস্ট ভাবতে পারে আমার জানা ছিল না!

: হুম। সরি।

: সরি টরি না, মেসি। তোমাকে আজকে একটা কথা দিতে হবে। বলো দেবে, বলো?

: কী?

: কথা দাও, তুমি হিগুয়েন ভাইয়ার মতো হবে! কথা দাও, মেসি! বলো তুমি হিগুয়েন হয়ে যাবে! মেসি তুমি হিগুয়েন হয়ে যাবে, মেসি?

: (নীরব)

: মেসি, বলো তুমি হবে হিগুয়েন? মেসি...

: (নীরব)

: কী হলো মেসি, হবে না তুমি হিগুয়েন?

: (নীরব)


নেইমার বনাম মানবসম্পদ বিভাগ

: স্যার, ডেকেছিলেন?

: উম, কে? ও নেইমার... মানে নেইমার সাহেব!

: ভেতরে আসব, স্যার?

: অ্যাঁ? হ্যাঁ, আসুন।

: বসি, স্যার?

: আপনার নামে অনেক কমপ্লেইন, নেইমার... সাহেব! একটু না হয় দাঁড়িয়েই থাকলেন এখন!

: না মানে স্যার, বেশিক্ষণ স্যার, দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, স্যার! ধপ করে পড়ে যাই...

: কী বলেন, মৃগী নাকি?

: না, স্যার। আসলে মাঝেমধ্যে শুয়ে পড়তে খুব ভালো লাগে, স্যার! একটু জিরিয়ে নেওয়া যায় আর কি!

: তো আপনার এই পড়ার অভ্যাস কবে থেকে?

: ছোটবেলা থেকেই স্যার! আম্মা সব সময় পড়তে বলতেন। বলতেন যে পড়ায় মন দে মন দে। আমিও স্যার, ধাপুস ধুপুস...

: সেই অভ্যাসে কি অফিসেও এখানে-ওখানে পড়ে যাচ্ছেন?

: মানে, স্যার?

: মানে আমাদের অফিসে ৩৩ জন নারী এমপ্লয়ি, এর মধ্যে ৩৪টি কমপ্লেইন এসেছে যে আপনি নাকি তাঁদের প্রেমে পড়েছেন। কাহিনি কী?

: কাহিনি তো সোজা, স্যার। একজনের প্রেমে দুবার পড়েছি, স্যার। মানে স্যার, একবার পড়লাম, তারপর মনে হলো আরেকবার পড়ি...

: মনে হলেই পড়ে যান?

: হে হে হে।

: এবার পড়াপড়ি বন্ধ করেন। অফিসে আপনার রেপুটেশন নষ্ট হচ্ছে। সবাই বলাবলি করছে, আসল কাজ না করে আপনি নাকি এই পড়াকেই সরাজ্ঞান করেছেন!

: আপনার উপদেশ স্যার মনে থাকবে, কিন্তু আপনিও মনে রাখবেন, এই পড়া পড়া নয় আরও পড়া আছে, এই পড়ারে নিমু আমি সেই পড়ারও কাছে! এ এ এ এ...!