
বড় ভাইয়ের ছেলে মানে আমার ভাতিজার সঙ্গে দিনের একাংশ কেটে যায়। নাম বায়েজীদ, দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ে। বায়েজীদ খুব কৌতূহলী। সারাক্ষণ প্রশ্ন করতে থাকে। ‘কাকু, এটা কী?’, ‘কাকু, ওটা কী?’। নানা ধরনের বাস্তব-অবাস্তব প্রশ্ন করে সে। তার জানার ইচ্ছা দেখে আমার বেশ ভালোই লাগে। কিন্তু অনেক সময় এমন সব প্রশ্ন করে বসে, যার উত্তর আমার কাছে থাকে না। আবার তার প্রশ্ন শুনে যখন আমার হাসি পায়, তখন উত্তরটাও রসিকতা করে দিই। দুটি ক্ষেত্রেই মাঝেমধ্যে বেশ বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
এলাকায় নির্বাচনের হাওয়া লেগেছে। মেয়র-কাউন্সিলরদের পোস্টারে রাস্তাঘাট ছেয়ে গেছে। হরেক রকমের মার্কা নিয়ে হরেক রকমের মানুষ নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে।
বায়েজীদকে নিয়ে সেদিন ঘুরতে বের হয়েছি। সে একটা পোস্টার দেখিয়ে আমাকে বলল, ‘কাকু, এই লোকটা নির্বাচনে জিতলে কি নৌকা চালাবে?’
আমি পোস্টারের দিকে তাকিয়ে দেখলাম, প্রার্থীর প্রতীক নৌকা। তাই বায়েজীদের কৌতূহলী মনে প্রশ্ন জেগেছে, লোকটা নির্বাচনে জিতলে হয়তো নৌকা চালাবে। আমার বেশ হাসি পেল। তাই উত্তরটাও রসিকতা করে দিলাম, ‘না, নৌকা চালাবে না। কিন্তু যারা নৌকা চালায়, নৌকা ব্যবহার করে চলাচল করে, তারা তাকে ভোট দেবে।’
উত্তরটা শুনে সে আরও কৌতূহলী হয়ে উঠল। পরদিন আরেকটা পোস্টার দেখিয়ে বলল, ‘কাকু দেখো, এই লোকটা নির্বাচনে জিততে পারবে না।’
আমি পোস্টারটার দিকে তাকিয়ে দেখলাম, হেলিকপ্টার মার্কা নিয়ে ভোটে দাঁড়িয়েছে। আমি বেশ কৌতূহলী হয়ে তাকে জিজ্ঞাস করলাম, ‘তোমার কেন এমন মনে হচ্ছে?’
সে হাসিমুখ করে বলল, ‘আমাদের এলাকায় কেউ তো হেলিকপ্টার চালায় না। আবার কেউ হেলিকপ্টার ব্যবহারও করে না, তাই সে একটা ভোটও পাবে না।’
আমার রসিকতা দেখি বুমেরাং হয়ে এল! আমি অস্ফুট স্বরে বললাম, ‘হয়তো।’ কিছুদূর যাওয়ার পর বায়েজীদ আরেকটা পোস্টার দেখিয়ে বলল, ‘কাকু, এই লোকটা এবার নির্বাচনে জিতবে। সবাই তাকে ভোট দেবে।’
আমি বেশ অনুসন্ধিৎসু হয়ে পোস্টারটির দিকে তাকিয়ে দেখলাম, পোস্টারের প্রার্থীটা আসলে কমোড মার্কা নিয়ে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে!