'মনে হয়েছে বাংলাদেশ-ব্রাজিল খেলা হচ্ছে'

>এশিয়ান গেমস হকিতে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৭-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ পেরে উঠবে না, এটা জানা কথাই। আজ জাকার্তায় হয়েছেও তাই। বল পজিশন, আক্রমণ, সবকিছুতেই মালয়েশিয়া ৮০ তো বাংলাদেশ ২০। দুই দলের লড়াইটা বরাবরই এমন হয়েছে। তবে গোল যত কম খাওয়া যায় সেই লক্ষ্যটা আজ বোধ হয় পূরণ হয়নি বাংলাদেশের। নয় নয় করে মালয়েশিয়া বাংলাদেশের পোস্টে বল পাঠিয়েছে মোট ৭ বার (৭-০)।
প্রথম কোয়ার্টারটা ছিল গোলশূন্য। এটিই এই ম্যাচে সবচেয়ে বেশি মনে রাখবে বাংলাদেশ। বাকিটা ভুলে যাওয়ার মতোই। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে মালয়েশিয়া গোল করেছে তিনটি। সেই যে বাঁধ ভাঙল তা আর জোড়া লাগানো যায়নি। তৃতীয় কোয়ার্টারে আরও তিনটি। শেষ কোয়ার্টারে একটি।
বাংলাদেশের কৌশল ছিল প্রতিপক্ষকে পেনাল্টি কর্নার দেওয়া যাবে না। কিন্তু মালয়েশিয়ার বিশ্বমানের খেলোয়াড়েরা কি আর তা মানেন! তাঁরা ম্যাচে আদায় করে নিয়েছে ১১টি পেনাল্টি কর্নার। যা থেকে গোল করতে পেরেছে দুটি। একটি গোল স্ট্রোক থেকে এসেছে।
বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের গোলমুখে এসেছে হাতে গোনা কয়েকবার। কিন্তু জিমি-সারোয়ারদের সামর্থ্য হয়নি গোল আদায় করে নেওয়ার। এশিয়ান গেমসে গতবার চতুর্থ হওয়া মালয়েশিয়ার রক্ষণ এত জমাট যে ফাঁকফোকর বের করাও কঠিন ছিল জিমিদের পক্ষে।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ কোচ গোবিনাথন কৃষ্ণকে খুব হতাশ লাগেনি। কারণ, এমন হার তাঁর কাছে অস্বাভাবিক নয়। তিনি আবার মালয়েশিয়ান। নিজের দেশের হকি দলকে ভালো করেই চেনেন। তবে একটু অতৃপ্তি আছে একটা জায়গায়, ‘এক-দুটি গোল আমরা আটকাতে পারতাম। সেটা করা উচিত ছিল। তাহলে মনে করতে পারতাম স্কোরলাইন ঠিক আছে।’
গোবিনাথন এরপর মজার একটা উদাহরণ দিলেন, ‘আসলে আমি বলব, ফুটবলে যেমন বাংলাদেশ-ব্রাজিল ম্যাচ হলে ফল যা হবে আজ হকি মাঠেও এক অর্থে মনে হয়েছে বাংলাদেশ-ব্রাজিল খেলা হচ্ছে। দুই দলে পার্থক্যটা আসলে অনেক বেশি।’ সঙ্গে সংযোজন, ‘এই হারে কোনো লজ্জা নেই। মালয়েশিয়ানরা টেকনিক্যালি অনেক ভালো। ওরা বিশ্বকাপসহ অনেক বড় বড় টুর্নামেন্টে খেলে। খুব ভালো দল। বাংলাদেশ কোথায় দাঁড়িয়ে সেটা সবাই জানেন।’
মিক্সড জোনে এসে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের গোবিনাথন বলেন, ‘এশিয়ান গেমসের জন্য মালয়েশিয়া ২ বছর প্রস্তুতি নিয়েছে। আমি সময় পেয়েছি ২ মাস। তা ছাড়া আমার নির্দেশনা ছেলেরা মাঠে পুরোপুরি অনুসরণ করতে পারেনি।’ কোচ জানান, বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক খেলেনি। আক্রমণে এসেছে। তবে ম্যাচের আসল চিত্র ভিন্ন। বাংলাদেশ ঘর সামলাতেই ছিল বেশি ব্যস্ত। তবে হাতে গোনা যে কয়েকবার বাংলাদেশ এসেছে মালয়েশিয়ান বক্সে, মিমো সহজ সুযোগ হারিয়েছে একবার। কৌশিকের ক্রসে মিমো স্টিক ছোঁয়াতে পারলে হয়তো একটা গোল পেতে পারত বাংলাদেশ।
সেটি না পেলেও আগের দুই ম্যাচে ওমানকে ২-১ এবং কাজাখদের ৬-১ গোলে উড়িয়ে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানেই আছে গ্রুপে। তিন ম্যাচে ২ জয়ে ৬ পয়েন্ট। ২৪ আগস্ট থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচ জিতলে ৫-৬ স্থানের জন্য খেলা যাবে। সেটি হলে এশিয়াড থেকে বাংলাদেশ হকি দল ফিরবে মাথা উঁচু করেই।