ভারতের টেস্ট দলে নতুন দ্রাবিড় আর নতুন লক্ষ্মণ
>পৃথিবী শ ও হনুমা বিহারি এই মুহূর্তে ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে খেলছেন চার দলের একটি সিরিজ। বেঙ্গালুরুতে সেই সিরিজ চলার সময়ই খবর এল, দুজনই ধরতে হবে ইংল্যান্ডের বিমান। শেষ দুই টেস্টের দলের জন্য যে ডাক পেয়েছেন!

পৃথিবী শ নামটা তবু অনেকের চেনা। বেশ কিছুদিন ধরেই তাঁকে নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। এ বছর ভারতকে যুব বিশ্বকাপও জিতিয়েছেন অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক হিসেবে। কিন্তু হনুমা বিহারি? ভারতেরই অনেকের কাছে নামটি অচেনা। এই দুজন ডাক পেয়েছেন ইংল্যান্ড সফরের শেষ দুটি টেস্টের জন্য। তখন থেকেই অনেকেরই প্রশ্ন, কে এই হনুমা বিহারি? কেউ কেউ জানতে চান পৃথিবীর কথাও।
হনুমা সম্পর্কে প্রথমেই যে তথ্য জানা দরকার, এখনকার ক্রিকেটারদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তাঁর গড় সবচেয়ে বেশি। এমনকি স্টিভেন স্মিথ পর্যন্ত তাঁর পেছনে। ৬৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ১৫ সেঞ্চুরিসহ ৫৯.৭৯ গড়ে ৫ হাজার ১৪২ রান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতার পুরস্কার হিসেবে টেস্ট দলে ডাক পেলেন এই ২৪ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের জন্য কতটা প্রস্তুত, তা পরখ করতে ভারতের ‘এ’ দলে ডাক পেয়েছিলেন। সেখানেও সফল। সর্বশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ দলের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ১৪৮ রানের ইনিংস খেলেছেন।
সর্বশেষ ১৯ বছরের মধ্যে প্রথম অন্ধ্র প্রদেশের ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট দলে ডাক পেলেন তিনি। এর আগে খেলেছেন যিনি, সেই মান্যব প্রসাদ এখন নির্বাচক কমিটির প্রধান। মান্যবের একটা ভূমিকা থাকলেও থাকতে পারে ঘরোয়া ক্রিকেটে দারুণ করেও প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকা এই ক্রিকেটারের জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার পেছনে।
শেষ দুই টেস্টের দল থেকে বাদ পড়েছেন মুরালি বিজয় আর কুলদীপ যাদব। আরেকটি জায়গা পূরণ করেছেন পৃথিবী শ। পৃথিবী অনেক ছোট থেকেই নিয়মিতই খবরে এসেছেন। ভারতীয় ক্রিকেটের বড় ভবিষ্যৎ ভাবা হচ্ছে এই ১৮ বছর বয়সীকে। ২০১৩ সালে স্কুল ক্রিকেটে ৫৪৬ রানের এক ইনিংস খেলে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন বিশ্বজুড়েই। মুম্বাইয়ের ব্যাটসম্যান, স্কুল ক্রিকেটের ইনিংস...সব মিলিয়ে স্বাভাবিকভাবেই টেন্ডুলকারের সঙ্গে তুলনাটা যায়। তবে নিজের মেন্টর হিসেবে রাহুল দ্রাবিড়েই বেছে নিয়েছেন পৃথিবী। তা ছাড়া বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে দ্রাবিড়ের সাহচর্য পেয়েছেন দীর্ঘদিন। যুব বিশ্বকাপজয়ী দলটার কোচও ছিলেন দ্রাবিড়।
ওদিকে হনুমাকে বলা হচ্ছে নতুন ভিভিএস লক্ষ্মণ। হনুমাও হায়দরবাদের ছেলে। তবে লক্ষ্মণের সঙ্গে তুলনা শুধু এ কারণে নয়। হনুমার ছোটবেলার কোচ জন মনোজ বলেছেন, ‘বিহারি যদি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যথেষ্ট সুযোগ পায়, সে ভারতের আরেক ভিভিএস লক্ষ্মণ হয়ে উঠবে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এখন ওর গড়ই সবচেয়ে বেশি।’
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে পৃথিবীর গড়ও দুর্দান্ত। ১৪ ম্যাচে ৫৬.৭২ গড়ে ১ হাজার ৪১৮ রান করেছেন। সাতটি সেঞ্চুরি। ভারতের মূল সফর শুরুর আগে ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ইংল্যান্ডে ভালো খেলেছেন। তখন কন্ডিশন ছিল আরও প্রতিকূল। এটিও তাঁর ডাক পাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। আর হনুমাও এসেক্সের প্রথম বিভাগের ক্রিকেটে ছয়টি সেঞ্চুরি করে গিয়েছিলেন। ফলে ইংলিশ কন্ডিশনে তাঁর সামর্থ্যের প্রতি আস্থা রেখেছেন নির্বাচকেরা। এখন কোচ ও অধিনায়কও আস্থা রাখবেন নিশ্চয়ই। চলতি সিরিজেই দুজনের একজনের অভিষেক হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। দুজনেরই অভিষেক হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।
সিরিজে ভারত ২-১-এ পিছিয়ে। তবে সর্বশেষ টেস্টে দুর্দান্ত জয় ভারতকে আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। ৩০ আগস্ট সাউদাম্পটনে শুরু হবে চতুর্থ টেস্ট।