বদলি হিসেবে নেমে ট্রিপল হ্যাটট্রিক!

চীনের নারী ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ওয়াং শানশানের কীর্তি এ সপ্তাহের আলোচিত খবর। ফাইল ছবি
চীনের নারী ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ওয়াং শানশানের কীর্তি এ সপ্তাহের আলোচিত খবর। ফাইল ছবি

রবার্ট লেভানডফস্কি শুনে একটু মুখ বাঁকিয়ে হাসতে পারেন। বছর দুয়েক আগে বুন্দেসলিগায় ভলফ্সবুর্গের বিপক্ষে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নেমেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখ স্ট্রাইকার, নেমেই ৯ মিনিটের একটা ঝড়। একে একে পাঁচবার বল ঠেলে দেন ভলফ্সবুর্গের জালে। তো ৯ মিনিটে যদি ৫ গোল হয়, তাহলে ২৯ মিনিটে কয়টা হওয়া উচিত? ঐকিক নিয়ম বলে, ১৬-১৭টি গোল হতেই পারে।

কিন্তু ফুটবল কি আর ঐকিক নিয়ম মানে! নেয়নি বলেই বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলেছে এশিয়ান গেমস খেলতে যাওয়া চীনের নারী ফুটবল দলের স্ট্রাইকার ওয়াং শানশানের কীর্তি। লেভানডফস্কির মতো তিনিও ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে নেমেছিলেন। তাজিকিস্তানের মেয়েরা মনে মনে হয়তো এখন ভাবছেন, না নামলেই ভালো ছিল! গত সোমবার গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ১৬-০ গোলে তাজিকিস্তানকে উড়িয়ে দিয়েছে চীনের মেয়েরা, তাতে ৯ গোলই শানশানের। তা-ও মাত্র ২৯ মিনিটে!
এমনই অবস্থা, চীনে তাঁকে আদর করে ‘৯ গোলের নায়িকা’ বলে ডাকা হচ্ছে। কেউ কেউ মজা করে এ-ও বলছেন, ২৮ বছর বয়সী শানশানকে চাইলে ছেলেদের দলেও খেলিয়ে দেওয়া যায়।

এভাবে বলার কারণ এশিয়ান গেমসে চীনের ছেলে ও মেয়েদের দলের গোলমুখে বৈপরীত্য। মেয়েরা যেখানে গোলবন্যায় ভাসিয়ে চলেছে প্রতিপক্ষকে, ছেলেদের গোলের পথে মরুভূমির শুষ্কতা। এক শানশানই তিন ম্যাচে করেছেন ১১ গোল, যা ছেলেদের পুরো দল মিলিয়ে তিন ম্যাচের গোলের সমান! তাজিকিস্তানের পাশাপাশি হংকং ও শক্তিশালী উত্তর কোরিয়াকে নিয়ে গড়া গ্রুপে তিন ম্যাচে মেয়েদের দলের সব মিলিয়ে গোল ২৫ টি, একটি গোলও না খেয়ে দলটি উঠে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে।

শানশানের এভাবে মুড়িমুড়কির মতো গোল করে চলাও এক বিস্ময়। এক সপ্তাহ আগেও চীনা মেয়েদের দলে গোলস্কোরিংয়ে পটুদের তালিকায় তাঁর নাম ওপরের দিকে ছিল না। ৪১ ম্যাচের ক্যারিয়ারে তাজিকিস্তান ম্যাচটি বাদ দিলে বাকি ৪০ ম্যাচে তাঁর গোল মাত্র ১১ টি। অবশ্য এর কিছু কিছু দর্শনীয়। গত বছর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ব্যাকহিল ভলিতে যেভাবে গোল করেছিলেন, সেটি দেখে নাকি অনেকের মনে হয়েছে, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো-লিওনেল মেসিরাও তেমন গোল করতে পারলে গর্বিত হতেন।

স্বাভাবিকভাবেই চারদিকে এখন চীনের ৯ গোলের দেবীর বন্দনা। নিজ দেশে ছেলেদের ফুটবল লিগের (চায়নিজ সুপার লিগ) অনেক আড়ালে অনাদরে পড়ে থাকা মেয়েদের লিগে খেলেন শানশান। তাঁকে নিয়েই দেশটির টেনচেন্ট স্পোর্টস পত্রিকার অনলাইনে লেখা, ‘গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ১১ গোল করে ওয়ান শানশান চীনের মেয়েদের ফুটবলের প্রাণভোমরা হয়ে উঠেছেন।’

এই দলে আরেকজন ওয়াংও আছেন-ফ্রান্সের প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ের মেয়েদের দলে কিছুদিন আগে নাম লেখানো ওয়াং শং। তাজিকিস্তানের বিপক্ষে চীনের গোল-উৎসবের শুরু তাঁর পায়েই। এই দুই ‘ওয়াং’কে ঘিরেই এশিয়ান গেমস মেয়েদের ফুটবলে সোনার স্বপ্ন দেখছে চীন। সোনা আসলেই জেতা হবে কি না, তা ৩১ আগস্টের পর জানা যাবে। তবে সে পথে প্রতিপক্ষ প্রতিটি দলের এখন বড় মাথাব্যথার নাম ওয়াং শানশান। তাঁকে ঠেকানোর দুশ্চিন্তা নিয়ে কাল রাতে ঘুমাতে গেছেন থাইল্যান্ডের কোচ নুয়েংগ্রুথাই সাথংভিয়েন। আজ কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের প্রতিপক্ষ থাইল্যান্ড।