আর কেউ পারবে না!

অ্যান্ডারসনকে ডাকছে ইতিহাস। সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারী
অ্যান্ডারসনকে ডাকছে ইতিহাস। সর্বোচ্চ টেস্ট উইকেটশিকারী

অব্যাখ্যাত কিছু না হলে এটা নিশ্চিত, গ্লেন ম্যাকগ্রার রেকর্ড ভাঙছেই। দিন গোনাও শুরু করে দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার পেস কিংবদন্তি। তা করারই কথা, আর মাত্র ৭টি উইকেট পেলেই ম্যাকগ্রাকে পেছনে ফেলে টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে যাবেন ইংল্যান্ডের জেমস অ্যান্ডারসন। তারপর, অমরত্ব! অন্তত ম্যাকগ্রা তাই মনে করেন।

লন্ডনের ডেইলি মেইল-এ নিজের কলামে ম্যাকগ্রা লিখেছেন, ‘আমার বিশ্বাস, যখনই সে আমাকে ছাড়িয়ে যাবে আর কখনোই কেউ তাকে পেছনে ফেলতে পারবে না।’ ৫৬৩ উইকেট নিয়ে ২০০৭ সালে অবসরে গেছেন ম্যাকগ্রা। সংখ্যাটা টেস্ট ইতিহাসে কোনো পেসারের সর্বোচ্চ। অস্ট্রেলীয় বোলারের ওপরে আছেন শুধু তিন স্পিন কিংবদন্তি মুত্তিয়া মুরালিধরন, শেন ওয়ার্ন ও অনিল কুম্বলে। ৫৫৭ উইকেট নিয়ে অ্যান্ডারসন আছেন পাঁচে।

পরশু সাউদাম্পটনে শুরু ইংল্যান্ড-ভারতের চতুর্থ টেস্ট। ওই ম্যাচেই অ্যান্ডারসন ম্যাকগ্রাকে ছাড়িয়ে যাবেন কি না সময়ই বলবে। ম্যাকগ্রার তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই। কারণ তিনি জানেন রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য, ‘সব রেকর্ডই ভালো। টেস্ট ইতিহাসে অন্য যেকোনো ফাস্ট বোলারের চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পেরে আমি খুবই গর্বিত। তবে যেকোনো উচ্চতাই পেরোনো সম্ভব, আর জিমি আমাকে ছাড়িয়ে গেলে আমি সমান গর্বই করব। কারণ ফাস্ট বোলারদের ইউনিয়ন একতায় বিশ্বাসী, তা সে যে দেশ থেকেই আসুক না কেন।’

রেকর্ড মানেই ভাঙাগড়ার খেলা, তারপরও ম্যাকগ্রা কেন মনে করছেন এরপর আর কোনো ফাস্ট বোলার অ্যান্ডারসনের মতো উইকেট পাবেন না? ম্যাকগ্রার যুক্তি আপনি ফেলতে পারবেন না, ‘জিমি আমাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পর রেকর্ডটা কোন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চায়, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। আজকাল খেলাটার যে ধরন হয়েছে, যে পরিমাণ টি-টোয়েন্টি খেলা হচ্ছে, আমার বিশ্বাস আর কোনো ফাস্ট বোলার তাঁকে ছাড়াতে পারবে না।’

ফাস্ট বোলারদের কাজ কতটা কঠিন, ম্যাকগ্রার চেয়ে সেটি বেশি করে জানা লোক খুব বেশি নেই, ‘খেলাটার সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো ফাস্ট বোলার হওয়া। মানুষ তো দেখে না, মাঠের বাইরে একজন ফাস্ট বোলারকে কতটা কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তাঁরা জানতেও পারে না জিমির মতো শীর্ষ বোলার হতে কতটা সময় ব্যয় হয়। অন্য যে কারও চেয়ে আমাদের বেশি যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। আর এ করেই ১৫ বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কাটিয়ে দেওয়ার পরও অ্যান্ডারসন এখনো সেরাদের একজন। সে যত ওভার বোলিং করেছে, সেই সংখ্যাটাই তার পরিশ্রমের ধরন এবং শারীরিক ও মানসিক শক্তির পরিচয় তুলে ধরে।’

২০০৩ সালে টেস্ট অভিষেকের পর ১৪১ টেস্টে ৫১৭৭.৩ ওভার বোলিং করেছেন অ্যান্ডারসন। ৫৫৭ উইকেটের মালিক উইকেটপ্রতি রান খরচ করছেন ২৬.৮৫। ম্যাকগ্রার চেয়ে এরই মধ্যে ১৭ টেস্ট বেশি খেলে ফেলেছেন অ্যান্ডারসন, বলও বেশি করেছেন প্রায় ২০০০।

শুধু অ্যান্ডারসনের পরিশ্রম নয়, ম্যাকগ্রা মুগ্ধ ৩৬ বছর বয়সী অ্যান্ডারসনের সুইং করানোর ক্ষমতা দেখেও, ‘যখন তাঁর বিপক্ষে প্রথম খেলেছি সেই সময় থেকেই বলে আসছি জিমি জাত খেলোয়াড়। আমি লক্ষ করেছি সে কীভাবে সহজাতভাবে দুই দিকেই সুইং করায়। এটা সত্যিকারের এক শিল্প।’

সেই শিল্পের আরেক মহান শিল্পী ওয়াসিম আকরামের সঙ্গেই অ্যান্ডারসনের তুলনা টেনেছেন ম্যাকগ্রা, ‘এটা (সুইং) করার মতো মানুষ খুব বেশি নেই। আমার আর যার কথা মনে পড়ে, সে হলো ওয়াসিম আকরাম। কী দারুণভাবেই না সে এটা করত।’

ম্যাকগ্রার বিশ্বাস, তাঁকে ছাড়িয়ে সম্ভবত অনিল কুম্বলের ৬১৯ উইকেটকে পাখির চোখ করবেন অ্যান্ডারসন। তা করতেই পারেন চিরসবুজ ইংলিশ পেসার, থামার যে কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না তাঁর মধ্যে।

সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী পেসার

খেলোয়াড়

টেস্ট

উই.

ইনিংস সেরা

ম্যাচ সেরা

গ্লেন ম্যাকগ্রা

১২৪

৫৬৩

৮/২৪

১০/২৭

জেমস অ্যান্ডারসন

১৪১

৫৫৭

৭/৪২

১১/৭১

কোর্টনি ওয়ালশ

১৩২

৫১৯

৭/৩৭

১৩/৫৫

কপিল দেব

১৩১

৪৩৪

৯/৮৩

১১/১৪৬

রিচার্ড হ্যাডলি

৮৬

৪৩১

৯/৫২

১৫/১২৩