চেয়ারগুলো কি ঠিক হবে না?

সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপের খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। কিন্তু গ্যালারিতে এসে তাঁরা বসবেন কোথায়, অধিকাংশ চেয়ারই যে ভাঙা।


দর্শকেরা হলেন খেলার প্রাণ। তাঁরা ফুটবল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন বলেই তো প্রাণ হারিয়ে বসে আছে দেশের ফুটবল। কিন্তু গাঁটের পয়সা খরচ করে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে কেন আসবেন দর্শক? না হয় চোখধাঁধানো ফুটবল, না আছে খেলা দেখার পরিবেশ!

এক সপ্তাহ পর বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপ-খ্যাত টুর্নামেন্টের খেলা মাঠে বসে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে বসে আছেন ফুটবলপ্রেমীরা। এশিয়ান গেমসে কাতারকে হারানোর পর জামাল ভুঁইয়াদের নিয়ে মানুষের আগ্রহটা এখন বেশ। ইতিমধ্যে অনেকে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন, কবে কার বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ। কিন্তু দর্শকেরা খেলা দেখতে এসে বসবেন কোথায়। গ্যালারিতে যা চেয়ার আছে, তার অধিকাংশই যে ভাঙা। বিশেষ করে পশ্চিম গ্যালারিতে হাঁ হয়ে থাকা ভাঙা চেয়ারগুলো স্টেডিয়ামে ঢুকলে অনেক দূর থেকেও চোখে পড়বে সহজেই। সাত দেশের আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারির অবস্থা যদি হয় এমন ভাঙাচোরা, তাহলে মুখ লুকানোর জায়গা কোথায়!

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারির চেয়ারের বেহাল অবস্থা। ছবি: প্রথম আলো
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারির চেয়ারের বেহাল অবস্থা। ছবি: প্রথম আলো

আর সাফ ফুটবলের আগে বা টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই অবস্থার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়ে দিলেন স্টেডিয়ামের প্রশাসক মোবারক করিম, ‘পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে নতুন চেয়ার ও গ্যালারির ছাউনি নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করবে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। কিন্তু সাফের আগে চেয়ার পরিবর্তন হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনাই নেই। চাহিদা অনুযায়ী আধুনিকায়ন করা হয়েছে দুটি ড্রেসিংরুম।’

আসলে চেয়ার না থাকলেও সমস্যা হতো না। যেমন যুব গেমসের আগে গ্যালারির কিছু অংশের ভাঙা চেয়ার উঠিয়ে ফেলে বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ভাঙা চেয়ারে না পারবে কোনো দর্শক বসতে, না পারবে দাঁড়িয়ে থাকতে। এ ছাড়া ময়লা-আবর্জনার স্তূপ তো আছেই।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারির চেয়ারের বেহাল অবস্থা। ছবি: প্রথম আলো
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারির চেয়ারের বেহাল অবস্থা। ছবি: প্রথম আলো

সমস্যার শেষ এখানেই নয়। ফ্লাড লাইটের আলো নিয়েও আছে বিপত্তি। সাফের স্পনসর প্রতিষ্ঠান ‘লাগাডিয়ার স্পোর্টসের’ চাওয়া অনুযায়ী ফ্লাড লাইটের আলো ১২০০ লাক্স-এ (আলো পরিমাপের একক) উন্নীত করতে পারেনি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। এ নিয়েও বাফুফে ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের মধ্যে চিঠি চালাচালি হয়েছে অনেক। শেষ পর্যন্ত ১০০০ লাক্সের কাছাকাছি আলো পাওয়া যাবে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে তা-ও পুরো মাঠে সমানভাবে আলো পড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।

৪ থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় সাফের ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে আছে ভুটান, পাকিস্তান ও নেপাল। ‘বি’ গ্রুপে ভারত, মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা। ৪ সেপ্টেম্বর উদ্বোধনী ম্যাচে অংশ নেবে নেপাল ও পাকিস্তান। একই দিন দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে ভুটানের বিরুদ্ধে।