কে বলেছে ফুটবল মরেছে?

বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে অগণিত দর্শকের ভিড়। ছবি: প্রথম আলো
বাংলাদেশ ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ দেখতে গ্যালারিতে অগণিত দর্শকের ভিড়। ছবি: প্রথম আলো

শেখ কামাল স্টেডিয়াম থেকে উত্তরে নীলফামারী কবরস্থান মোড়ের দূরত্ব আধা কিলোমিটার। আর দক্ষিণে নীলফামারী আধুনিক হাসপাতালের গেট থেকে স্টেডিয়ামের দূরত্ব এক কিলোমিটারের মতো। দুই দিকেই লম্বা সারি। পুলিশ, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি—এই বাহিনীর সম্মিলিত চেষ্টায় দর্শকদের সেই সারিকে ‘সারিবদ্ধ’ রাখা যাচ্ছে ঠিকই, তবে এর মধ্যেও কেউ সুযোগ খুঁজছেন কীভাবে সারি ভেঙে একটু এগিয়ে যাওয়া যায়।

এই সারিবদ্ধ সরলরেখার মধ্যে মজাও চলছে। কেউ সেলফি তুলছেন, ওদিকে স্টেডিয়ামের মাইকে ‘জিতবে কে রে’—কথাটা ভেসে আসতেই সমস্বরে উঠল‘বাংলাদেশ’ ধ্বনি।

রাস্তার এই লম্বা সারি পেরিয়ে স্টেডিয়ামের মুখেও জটলা। নিরাপত্তা তল্লাশি চলছে। সেখানেও শৃঙ্খলা রাখতে পুলিশ রীতিমতো গলদঘর্ম। এরপর স্টেডিয়ামের ভেতরে? এখনো প্রায় অর্ধেক আসন ফাঁকা। স্বাভাবিক, না হলে তো আর বাইরে এত দর্শক দাঁড়িয়ে থাকেন না!

তবু যা এসেছে, চোখের আন্দাজে দশ-বারো হাজার তো হবেই। মাথার ওপরে কাঠফাটা রোদ, ২০ হাজার ধারণক্ষমতার জেলা পর্যায়ের এই স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে ছাউনি নেই। তাই রোদকে মাথায় করেই চলছে উৎসব। মাইকে গান, গ্যালারিতে নাচ, কারও মুখে ভুভুজেলা...। মাথায় বাংলাদেশের পতাকা না থাকার তো প্রশ্নই আসে না।

এত উত্তেজনা, এই উচ্ছ্বাস একটা ফুটবল ম্যাচ দেখার জন্য। তা-ও এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, ম্যাচের তখনো দেড় ঘণ্টা বাকি। ফুটবল নিয়ে দেশের মানুষের আশা যে মরেনি, দর্শককের এই উল্লাসমুখর অপেক্ষাই বুঝি তার প্রমাণ।

ঢাকার বাইরে ফুটবল সব সময়ই উপচে পড়া গ্যালারি উপহার দিয়েছে। কিন্তু ২০ হাজার ধারণক্ষমতার একটা স্টেডিয়ামে এমন উপচে পড়া ভিড়, পাশে নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের ছাদে এখনই অনেক দর্শক...বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা প্রীতি ম্যাচ নিয়ে উত্তেজনার পারদ যে চড়েছে, তা আর বলতে!

২.৪০ মিনিটে যখন হাজারো দর্শকের মাঝেই খেলোয়াড়দের গাড়িবহর ঢুকেছে, মামুনুল-জামালদের কেমন লেগেছে, কে জানে। একটু উচ্ছ্বাস কী হয়নি এই ভেবে যে, নাহ, ফুটবলটা একেবারে এখনো মরেনি!