সাফে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ কতটা শক্তিশালী
>এবারের সাফে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অন্য দলগুলো কেমন? প্রস্তুতিতেই–বা তারা কতটা এগিয়ে আছে?

২০০৩ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতার পর কেটে গেছে ১৫ বছর। এই সময় হাহুতাশ করেই কেটেছে বাংলাদেশের ফুটবলের। মাঝখানে একবার ২০০৫ সালে করাচিতে শিরোপার কাছাকাছি গেলেও ফাইনালে বাইচুং ভুটিয়ার ভারতের কাছে হেরে স্বপ্নের সমাধি হয়েছে। এরপর থেকে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ মানেই যেন ব্যর্থতা। ২০০৯ সালে ঘরের মাটিতে সর্বশেষ সেমিফাইনাল খেলা হলেও গত তিনটি আসরে বাংলাদেশের বিদায় ঘটেছে গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার আবার ঘরের মাঠে সাফ। ইংরেজ কোচ জেমি ডের অধীনে ঘুরে দাঁড়ানোরই স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অন্য দলগুলো আসলে কতটা শক্তিশালী?
এবারের সাফে বাংলাদেশের প্রস্তুতিটা কিন্তু একেবারেই মন্দ নয়। অস্ট্রেলীয় কোচ আন্ড্রু ওর্ডের অধীনে গত মার্চে প্রস্তুতি শুরু হয় কাতারে অনুশীলন ক্যাম্প দিয়ে। পরে লাওসের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ ড্র করে শুরুটা ইতিবাচকই ছিল দলের। কিন্তু সমস্যা হয় ওর্ড থাইল্যান্ডে বেশি বেতনে চাকরি পেয়ে চলে যাওয়াতে। প্রস্তুতিতে ঘটে যায় ছন্দপতন। পরে জুনে ইংরেজ কোচ জেমি ডে দায়িত্ব নেওয়ার পর সবকিছু শুরু হয় নতুন করেই। আবারও কাতারে অনুশীলন ক্যাম্প করে দল। অনুশীলন ক্যাম্প ও প্রস্তুতি ম্যাচ হয় দক্ষিণ কোরিয়াতেও। জাকার্তা এশিয়ান গেমসে জাতীয় দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই অংশ নিয়ে ইতিহাস গড়ে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে ড্র আর কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় রাউন্ড নিশ্চিত করে দল। দ্বিতীয় রাউন্ডে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারলেও আশাবাদী হওয়ার মতো ফুটবলই খেলেছে জেমির শিষ্যরা। সে কারণেই সাফে নিজেদের নিয়ে নতুন করে স্বপ্ন দেখছে গোটা দল।
সাফ শুরুর মাত্র পাঁচ দিন আগে নীলফামারীতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারটা অবশ্য কালো দাগ হয়েই থাকছে। তবে সে ম্যাচে তো আর সাদউদ্দিন, বিপলু আহমেদের মতো তরুণেরা ছিলেন না। এশিয়ান গেমসে আলো ছড়ানো এই তরুণেরা সাফেও ভরসা। তরুণদের নিয়েই এবারের সাফে স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ। কিন্তু গ্রুপের অন্য তিনটি দলের প্রস্তুতি কেমন? বাংলাদেশের চেয়ে কতটা এগিয়ে বা পিছিয়ে তারা। আসুন, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক...
প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ ভুটান ‘ফর্মহীন’?
সাফে নাকি ভুটান এসেছে সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ নিয়ে। সেনাবাহিনীর ‘কমান্ডো’ ইউনিটের সঙ্গে প্রশিক্ষণ নেওয়াটা মাঠের ফুটবলের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ, সেটি বোঝা যাবে মাঠেই। কিন্তু এবারের সাফে ভুটানই সম্ভবত সবচেয়ে ফর্মহীন দল। কারণ, ২০১৬ সালের অক্টোবরে নিজেদের মাঠে বাংলাদেশকে হারানোর পর আর কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচে জেতেনি তারা।
বাংলাদেশকে হারিয়ে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বে সুযোগ পেয়ে তারা বুঝেছে, আন্তর্জাতিক ফুটবল কতটা কঠিন। মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপের মতো দলও তাদের হারিয়েছে হেসেখেলে। কোচ মরগান দলে ওলট-পালট এনেছেন। ভবিষ্যতের কথা ভেবে তারুণ্যনির্ভর দল সাজিয়েছেন। তবে এসবের পরীক্ষাটা হবে সাফেই। সাফেই বোঝা যাবে ভুটানের ফুটবল কতটা এগিয়েছেন।
‘রহস্যময়’ পাকিস্তান
আন্তর্জাতিক ফুটবল আর পাকিস্তান যেন পুরোপুরি ভিন্ন মেরুর। গত তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দূরে তারা। ফিফার নিষেধাজ্ঞার খড়্গ এসেছে। সবকিছু ছাপিয়ে দেশের ফুটবলকে ঢেলে সাজানোর কাজ করছে পাকিস্তান ফুটবল ফেডারেশন। দীর্ঘদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে অনুপস্থিতির কারণে সাফে এবার পুরোপুরি ‘রহস্যময়’ এক দল তারা। এশিয়ান গেমসে নেপাল সেটি বুঝেছে ভালোভাবেই—হেরে গিয়ে। এশিয়াডের আগে বাহরাইনে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। ব্রাজিলীয় কোচ হোসে অ্যান্তনিও নোগেইরার অধীনে এবার সাফে নতুন করেই বাজিমাতের স্বপ্ন দেখছে তারা। দলে বিদেশি বংশোদ্ভূত খেলোয়াড়েরা হতে পারেন পাকিস্তানের বড় ভরসা।
বড় চ্যালেঞ্জ নেপাল
অনেকেই নেপালের ফুটবলে শেষ দেখে ফেলেছিল। কিন্তু ২০১৬ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পরে বদলে যায় নেপালের ফুটবল। বাংলাদেশ থেকে গিয়ে মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি সলিডারিটি কাপেও চ্যাম্পিয়ন হয় হিমালয়ের দেশটি। টানা দুটি টুর্নামেন্ট বিজয়ের জ্বালানিতেই আবার ঘুরে দাঁড়ায় দলটি। নিয়মিত দেশের বাইরে গিয়ে অনুশীলন করে তারা। থাইল্যান্ডে প্রস্তুতি ও ভালো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে অনুশীলন ম্যাচ খেলে তরুণ দলটা কী করতে পারে, সেটির ঝলক এই এশিয়ান গেমসেই দেখা গেছে। সব কটি ম্যাচে হারলেও এশিয়ার পরাশক্তি ও টুর্নামেন্টের রানার্সআপ জাপানের ঘাম ছুটিয়ে ছেড়েছিল নেপাল। শেষ পর্যন্ত হেরেছে ১-০ গোলে।
নেপাল ফুটবল ফেডারেশনের যুব একাডেমি থেকে বেরিয়ে আসা ফুটবলাররা এখন নেপালি জাতীয় দলের মূল ভরসা। এশিয়াডে ভালো খেলার আত্মবিশ্বাস আর তরুণ প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের নিয়ে নেপাল এবারের সাফে কঠিন চ্যালেঞ্জই জানাবে।