ব্রাজিলের জন্য বিশ্বকাপের আশা ছেড়েছেন যিনি

>জন্ম বেলজিয়ামে কিন্তু পিতৃভূমি ব্রাজিলে। আন্দ্রেয়াস পেরেইরা খেলতে পারতেন দুই দলের যেকোনোটির হয়ে
বেলজিয়ামের হয়ে খেলো, বেলজিয়ামের হয়ে খেলো—কানের কাছে বারবার একই কথা বলে যেতেন রোমেলু লুকাকু। কে জানে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সতীর্থের অনুরোধ রাখলে হয়তো বিশ্বকাপ অভিষেকও হয়ে যেত আন্দ্রেয়াস পেরেইরার। কিন্তু তিনি ছিলেন অন্য অপেক্ষায়—পিতৃভূমি ব্রাজিলের কোচ তিতের কাছ থেকে কবে ডাক আসে।
ইউনাইটেডের ২২ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের সেই অপেক্ষা ফুরিয়েছে। এই মাসে দুটি প্রীতি ম্যাচের জন্য তিতের দলে ডাক পেয়েছেন পেরেইরা।
লুকাকু যে তাঁকে এত দিন বেলজিয়ামের হয়ে খেলার অনুরোধ করে গেছেন, সেই গল্পটাও এত দিনে এসে বললেন পেরেইরা, ‘ও আমাকে অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছে। আমাকে সে বলেছিল, “তোমার বেলজিয়ামের হয়ে খেলা উচিত।” সে সব সময়ই এটা নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলত।’
বাবা ব্রাজিলিয়ান, তবে পেরেইরার জন্ম হয়েছে বেলজিয়ামের ডাফেলে। খেলেছেন বেলজিয়ামের অনূর্ধ্ব-১৫, ১৬ ও ১৭ দলে। সে সময় হয়তো একদিন বেলজিয়াম জাতীয় দলের জার্সি গায়ে পরার স্বপ্নই দেখতেন পেরেইরা। কিন্তু ২০১৪ সালে তাঁকে দলে ডেকে বসেন ব্রাজিল অনূর্ধ্ব-২০ দলের কোচ। পেরেইরাও হলুদ জার্সি পরে খেলতে শুরু করে দেন। ২০১৬ সালে ডাক পান ব্রাজিলের অনূর্ধ্ব-২৩ দলে। পেরেইরার স্বপ্নও যায় বদলে।
পাঁচ তারকাখচিত বিখ্যাত হলুদ জার্সি—এই জার্সি একবার গায়ে উঠলে কি আর অন্য কিছুতে মন টানে! লুকাকুর অনুরোধও তাই বদলাতে পারেনি পেরেইরাকে, ‘আমি তাকে বলেছি, “লুকাকু, এটা কঠিন। আমি এটা (বেলজিয়াম দলে খেলা) করতে পারব না। বেলজিয়াম আর ব্রাজিলের হয়ে খেলা এক ব্যাপার নয়। বেলজিয়ামের জন্য খেলা একটা ব্যাপার। আর সেলেসাও...ব্রাজিল ব্রাজিলই।”’ একটা সময় রণে ভঙ্গ দেন লুকাকু। পেরেইরা বললেন, ‘এরপর সে বলেছিল, তাহলে তোমার হৃদয়ের কথা শোনো।’
শুধু লুকাকু কেন, বেলজিয়ামে তাঁর বন্ধু, বাবার বন্ধুরাও একই অনুরোধ করে যেতেন দিনের পর দিন। রাশিয়া বিশ্বকাপে বেলজিয়ামের কাছে ২-১ গোলে হেরে কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই ছিটকে পড়েছে ব্রাজিল। সেই সময় বেলজিয়ামে ছিলেন পেরেইরা। মনের ওপর দিয়ে বড়সড় একটা ঝড় বয়ে গেছে সেদিন, ‘আমি বেলজিয়ামে বসে ব্রাজিলকে হারতে দেখেছি। সবাই আমাকে খোঁচাচ্ছিল। কী বলব...আমি খুব রেগে গিয়েছিলাম। একটা সময় তো আমি রুম ছেড়ে চলে গেলাম।’
ব্রাজিল হেরে যাওয়ায় পেরেইরার বাবার বন্ধুরা তাঁর মন বদলানোর চেষ্টা করলেন আরেকবার। কিন্তু পেরেইরা অটল থাকারই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ‘আমার বাবার বন্ধুরা বলতে শুরু করেছিলেন, “দেখো না ব্রাজিল কী করছে, তোমার উচিত বেলজিয়ামকেই বেছে নেওয়া। বেলজিয়ামের জার্সিতে খেলো।” আমি বলেছি, কখনোই না। এটা আমি করতে পারি না।’