নিজের অভিষেক রাঙালেন সাদমান

টেস্ট অভিষেকেই ফিফটি পেলেন সাদমান। ছবি: শামসুল হক
টেস্ট অভিষেকেই ফিফটি পেলেন সাদমান। ছবি: শামসুল হক
>টেস্ট অভিষেকে ফিফটি পেয়েছেন সাদমান ইসলাম। কিন্তু সেঞ্চুরি পর্যন্ত যাওয়া হলো না। যদিও আশা জাগিয়েছিলেন...

বাংলাদেশের টেস্ট দলে নিজের অন্তর্ভূক্তির যথার্থতা প্রমাণ করছেন ওপেনার সাদমান ইসলাম। অভিষেক রাঙিয়ে তুলে নিয়েছেন ফিফটি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্টে সিরিজে বাংলাদেশ দলে প্রথমে জায়গা হয়নি এই বাঁ হাতি ব্যাটসম্যানের। কিন্তু পরে বিশেষ বিবেচনায় দলে নেওয়া হয় তাঁকে। চট্টগ্রামে অভিষেক হয়নি। কিন্তু মিরপুরে সাদমান হাসি ফোটালেন নির্বাচকদের মুখে। সেঞ্চুরির আশা জাগিয়েও শেষ পর্যন্ত ৭৬ রান করে আউট হয়েছেন। অভিষেকে যেটি বাংলাদেশের পক্ষে সপ্তম সর্বোচ্চ। প্রথম ইনিংস বিবেচনা নিলে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

সেঞ্চুরি না-পাওয়ার আক্ষেপ ঘোচানোর আরও একটা সুযোগ সাদমান পেতেই পারেন। দ্বিতীয় ইনিংস তো এখনো বাকি। এই অপূর্ণতাটুকু বাদ দিলে তাঁর ইনিংসে প্রাপ্তিযোগই বেশি। ১৯৯ বল খেলেছেন, মনেই হয়নি অভিষেক ম্যাচ খেলছেন। এমন শান্ত-সুস্থির একজন ওপেনারের ভীষণ প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশ দলের। সাদমান অবশ্য টেস্ট ক্রিকেটে নিজের খাতা খুলেছেন চার মেরেই। পুরো ইনিংসে ৬টি চার আছে এই বাঁহাতির।

বাংলাদেশের টেস্ট ক্যাপটা ‘সস্তা’ হয়ে যাচ্ছে কিনা—গত কয়েক টেস্টে অভিষিক্ত ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের কারণে যে শঙ্কাটা চাউর হয়েছে সাদমানের ব্যাটিং সেটিকে কিছুটা হলেও দূর হবে। সাদমানের একপ্রাপ্ত আগলে রাখার সুফল শুরু থেকে পেয়েছে বাংলাদেশ। গত কিছুদিন ধরে দ্রুত দুই-তিন উইকেট হারিয়ে মিডল অর্ডারে মেরামতের চেষ্টা বাংলাদেশের জন্য ছিল নিয়মিত দৃশ্য। আজ অন্যপ্রাপ্তে সাদমান থাকার কারণে প্রথম তিন উইকেট জুটিতে বাংলাদেশ যথাক্রমে ৪২, ৪৫ ও ৬৪ রান যোগ করেছে। বিশেষ করে তৃতীয় উইকেটে তাঁর ও মিঠুনের জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর এক সময় ২ উইকেটে ১৫১ দেখাচ্ছিল। যদিও ১০ রানের মধ্যে দুজনই ফিরে আসেন। তার পরও ১৬১ রানে ৪ উইকেট হারানো বাংলাদেশ যে ২০০ পার করল ৫ উইকেট হাতে রেখে, মূল ভূমিকা সাদমানেরই।

শেষ পর্যন্ত দেবেন্দ্র বিশুর বলে ফিরেছেন। ততক্ষণে অভিষেক ইনিংসে ১ কম দুই শ বল খেলা হয়ে গেছে। আমিনুল ইসলামের (৩৮০ বল) পর এই প্রথম অভিষেক ইনিংসে বাংলাদেশের পক্ষে কেউ এতগুলো বল খেলল।