আজহারউদ্দিনের স্ত্রীর জন্য দর্শক পেটাতে গিয়েছিলেন ইনজামাম

এ দৃশ্য অনন্য হয়ে আছে ক্রিকেটে। ফাইল ছবি
এ দৃশ্য অনন্য হয়ে আছে ক্রিকেটে। ফাইল ছবি

২৩ বছর আগের ঘটনা। তবু গ্যালারিতে ব্যাট নিয়ে দর্শকের দিকে ইনজামাম-উল-হকের তেড়ে যাওয়ার দৃশ্য কখনো পুরোনো হয় না দর্শকের মনে। ১৯৯৭ সালে সাহারা কাপে এক ভারতীয় দর্শককে পেটাতে গিয়েছিলেন ইনজামাম। তখন শোনা গিয়েছিলে, তাঁকে 'আলু' বলে ডাকায় খেপেছিলেন ইনজামাম। তবে ওয়াকার ইউনিসের দাবি, মোহাম্মদ আজহারউদ্দিনের স্ত্রীকে অপমান করাতেই এ কাজ করেছিলেন এই ব্যাটসম্যান।

কানাডায় অনুষ্ঠিত 'সাহারা কাপ'এর দ্বিতীয় ম্যাচে ১১৬ রান তাড়া করছিল ভারত। ইনিংসের ১৬তম ওভারে হঠাৎ গ্যালারিতে ছুটে যান ইনজামাম। ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিভ কুমার থিন্ডকে ব্যাট দিয়ে মারার চেষ্টা করেন পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যান। এতক্ষণ মেগাফোন ব্যবহার করে ইনজামামকে অপমানসূচক কথা বলা শিভও কম যাননি। ছুড়ে মেরেছিলেন মেগাফোন। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছিল। পরে বোঝাপড়া করে ছাড় পেয়েছিলেন দুজনই। যদিও ইনজামামকে দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ করে পাকিস্তান। মেগাফোন দিয়ে বারবার ইনজামামকে 'আলু' ও 'বুদ্ধ'এর সঙ্গে তুলনা দিচ্ছিলেন শিভ।

'দ্য গ্রেটেস্ট রাইভালরি'-পডকাস্টে এসে এতদিন পর সে ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত জানালেন ওয়াকার ইউনিস, 'হ্যাঁ, তাকে আলু বলে ডাকা হচ্ছিল। কিন্তু আরও যা হয়েছিল, দর্শকদের মধ্যে কেউ কেউ আজহারউদ্দিনের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলছিল-খুবই বাজে কিছু কথা-আর ইনজি যেহেতু ইনজি, ওর সেটা ভালো লাগেনি। আর দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বন্ধুত্ব খুবই অসাধারণ ছিল। সবাই সবাইকে শ্রদ্ধা করত।'

মাঠে যত লড়াই হোক না কেন, মাঠের বাইরে ভারত ও পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের মধ্যে সম্পর্ক খুব দারুণ ছিল। ওয়াকারের দাবি, সে সম্পর্কই ইনজামামকে এমন কিছু করতে বাধ্য করেছিল, 'আমরা মাঠে ভয়ংকর প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম, কিন্তু বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও একে অপরের খেয়াল রাখতাম। কেউ একজন আজহারের স্ত্রীকে নিয়ে খুব বাজে কিছু বলেছিল। আমি জানি না ইনজির কী হয়েছিল, তখন অধিনায়ক সম্ভবত সেলিম মালিক ছিল (রমিজ রাজা ছিলেন), তাকে বলে ফাইন লেগে গিয়েছিল। তারপর দ্বাদশ খেলোয়াড়কে ডেকে একটা ব্যাট চেয়ে নিয়েছিল। ব্যাট পেয়ে সিঁড়ি বেয়ে উঠে গিয়েছিল এবং মারতে চেয়েছিল।'

ব্যাট একটুর জন্য গায়ে লাগেনি শিভের। কানাডায় এমন ঘটনা ঘটায় আদালতেও যেতে হয়েছিল ইনজামামকে, 'ওর অনেক ক্ষতি হয়েছে এ ঘটনায়। ওকে ক্ষমা চাইতে হয়েছিল। এ ঘটনায় আদালতে যেতে হয়েছিল এবং আজহারকে যেতে হয়েছিল। আজহার দারুণ কাজ করেছিল। সে এসে ওই ভারতীয়র সঙ্গে কথা বলে মিটমাট করে নিয়েছিল ব্যাপারটা। এটা খুব বাজে ঘটনা ছিল। কিন্তু আমি যা বলতে চাচ্ছি, তা হলো দুই দলই একে অপরের খেয়াল রাখত ওবং ভালোবাসত।'

দুই ম্যাচ নিষিদ্ধ থেকে শেষ ম্যাচে ফিরেছিলেন ইনজামাম। এর আগেই চারটি ম্যাচ হেরে সিরিজ খুইয়ে বসা পাকিস্তানকে শেষ ম্যাচে অপরাজিত ৭১ রানের এক ইনিংসে জয় এনে দিয়েছিলেন পাকিস্তানের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান।