শীত আছে শীত নেই

এই মাঘে প্রকৃতির আচরণ বোঝা মুশকিল। কখনো দেখা যাচ্ছে বসন্তের মতো একটা গরম-গরম ভাব, আবার কখনো হি হি শীত। এই তো, মাত্র কদিন আগে গত শনিবার ফেনী জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়। রাজধানী ঢাকায়ও সেদিন ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দিন চারেক যেতে না যেতেই মাঘ মাস যেন চিরচেনা আচরণ করছে। বইতে শুরু করেছে শৈত্যপ্রবাহ। তবে মাঘের শীতের দাপট চললেও রাজধানী ঢাকায় তেমন একটা নেই।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, অবকাঠামোগত কারণ, বিপুলসংখ্যক যান চলাচল ও সুউচ্চ ভবনের কারণে ঢাকার বুকে এখন আর শীত জেঁকে বসতে পারছে না।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর জানুয়ারি মাসে শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে শুরু করলে ঢাকা শহরে তাপমাত্রা কখনো কখনো ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচেও নেমে যায়। ২০১৮ সালের ৮ জানুয়ারি সারা দেশে হাড়কাঁপানো শীত পড়লে ঢাকার তাপমাত্রাও হয় ৯ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কিন্তু বিশাল এই নগরে এবার এর ধারেকাছেও শীত পড়েনি। এবারের শীত মৌসুমে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৫ জানুয়ারি ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এরপর থেকে রাজধানীর তাপমাত্রা বেড়েই চলছিল। তাই শৈত্যপ্রবাহের পরশও এখন পর্যন্ত পাননি ঢাকাবাসী। আর ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে তাপমাত্রা না নামলে আবহাওয়াবিদেরা শৈত্যপ্রবাহ বলেন না।
তবে ঢাকা শহরে না এলেও শৈত্যপ্রবাহের কারণে কিছুটা হলেও দুদিন ধরে জড়সড় হয়ে আছে দেশের অধিকাংশ অঞ্চল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের আজ বুধবার সকালের পূর্বাভাস থেকে জানা গেছে, টাঙ্গাইল, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, রাজশাহী, পাবনা, রংপুর, পঞ্চগড়, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, খুলনা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, বরিশাল, ভোলা ও মৌলভীবাজার জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি মাত্রার শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এটি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমলেও দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে।
ঢাকায় শীতের মাত্রা কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও শৈত্যপ্রবাহের ধারেকাছেও নেই। আজ সকালে ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ময়মনসিংহে ১১, চট্টগ্রামে ১৭ দশমিক ২, সিলেটে ১২ দশমিক ৮, রাজশাহীতে ৮ দশমিক ৪, রংপুরে ১০, খুলনায় ৯ দশমিক ৮ এবং বরিশালে ৮দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদ আবদুল মান্নান প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা শহরে কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা কমছে না। কিন্তু এটিকে শৈত্যপ্রবাহ বলা যাচ্ছে না। অবকাঠামোগত কারণে ঢাকায় শীত অনুভূত হচ্ছে না। এই শহরে এখন মধ্যরাত পর্যন্ত প্রচুর যান্ত্রিক যানবাহন চলাচল করে। এসব যান থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হয়। শহরে গাছপালাও কমে গেছে। তা ছাড়া বড় বড় ভবনের কারণে বায়ুপ্রবাহ বেশ কম।