বৈরী আবহাওয়ায় ব্যাহত স্বাভাবিক জীবনযাত্রা
এদিকে বরিশাল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক মো. আসিনুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে ২৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে কোনো নিম্ন অথবা লঘুচাপের প্রভাবে নয়, মৌসুমি বজ্রমেঘের কারণে বৃষ্টি ও বজ্রঝড় হচ্ছে। এতে বড় ধরনের কোনো ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা নেই। তবে কালবৈশাখী হতে পারে। এমন বৈরী আবহাওয়া আজ বুধবার পর্যন্ত চলতে পারে বলেও জানান তিনি।
গতকাল বরিশাল নগর ও বিভাগের সর্বত্র বৃষ্টি ও ঝোড়ো আবহাওয়া ছিল। এতে নগরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। স্কুল-কলেজে উপস্থিতি ছিল কম। ঝোড়ো আবহাওয়ার কারণে নদীবন্দরে ২ নম্বর ও সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে।
গত সোমবার সকালে আকস্মিক ঝড়ে বরগুনার আমতলী ও তালতলী উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দুই শতাধিক ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। দুই উপজেলার ৩০টি ইটভাটার অন্তত এক কোটি কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে তরমুজসহ রবিশস্য খেতের। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছ। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে ও তাঁর ছিঁড়ে এই দুই উপজেলায় ১৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল বন্ধ।
স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, সোমবার সকাল ছয়টার দিকে আকস্মিক ঝড় আঘাত হানে আমতলী ও তালতলী উপজেলায়। ২০ মিনিটের ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে যায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। কালবৈশাখী থেমে গেলেও প্রায় দুই ঘণ্টা চলে মুষলধারে বজ্রবৃষ্টি। এতে বঙ্গোপসাগরের পায়রা নদীর মোহনায় ১৬টি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়।
তালতলীর সোনাকাটা ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য আলমগীর হাওলাদার বলেন, আকস্মিক ঝড়ে ডুবে যাওয়া এসব ট্রলার ও ট্রলারে অবস্থানরত জেলেদের ঝড় থেমে যাওয়ার পর স্থানীয় ব্যক্তিরা উদ্ধার করেন।
ঝড়ে আমতলী উপজেলার উত্তর-পশ্চিম চিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বকুলনেছা মহিলা কলেজের ক্ষতি হয়। এ ছাড়া দুই শতাধিক কাঁচা ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
আমতলী ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি নাজমুল আহসান জানান, দুই উপজেলায় ৩০টি ইটভাটায় প্রায় এক কোটি কাঁচা ইট পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
আমতলী শহরের বাসুকি গ্রামের শাহজাহান মিয়া বলেন, সোমবার ভোরে আকস্মিক ঝড় শুরু হয়। তীব্র ঝড়ের সঙ্গে বজ্রপাতে তাঁরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ঘরের চালা উড়িয়ে নেওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান। এর কিছুক্ষণ পড়েই পুরো ঘরটি বিধ্বস্ত হয়।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম বদরুল আলম বলেন, বৃষ্টিপাত দীর্ঘায়িত হলে রবিশস্যের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।