মাটিবাহী ট্রাক্টরের চাকায় ক্ষতবিক্ষত সড়ক
>

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
ইটভাটার মাটি বহনের কাজে ব্যবহৃত অবৈধ যান ট্রাক্টরের চাকার আঘাতে বেহাল হয়ে পড়েছে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়ক। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। ফলে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যানবাহনের চালক, যাত্রী ও পথচারীরা।
উপজেলা প্রশাসন ও পৌর প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভা ও উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর এক থেকে দুই বছর আগে নতুন করে সড়ক পাকাকরণ ও পুরোনো সড়ক সংস্কার করে। ছয় মাস ধরে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক ভিত্তিতে পুকুর খনন করে সেই মাটি ইটভাটায় বহন শুরু হয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের মাটি নিয়ে প্রতিদিন গড়ে ৪০টি ট্রাক্টর এসব সড়কে চলাচল করছে। এ কারণে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বেড়েছে জনদুর্ভোগ।
মাটি টানার কাজে ব্যবহৃত এসব ট্রাক্টর এবং তিন চাকার যান সড়ক-মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ থাকলেও প্রশাসনকে ম্যানেজ করে চলাচল করছে এসব অবৈধ যান। এতে করে সরকারের কোটি কোটি টাকায় নির্মিত সড়কগুলো নষ্ট হচ্ছে। পৌর প্রকৌশল অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মাসিক সমন্বয় সভায় কয়েক দফায় বিষয়টি তুলে ধরা হলেও এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টরগুলো।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গুরুদাসপুর পৌরসভার মধ্যমপাড়াসহ উপজেলার ধারাবারিষা, মশিন্দা ইউনিয়নে গড়ে উঠেছে ১১টি ইটভাটা। এসব ভাটায় ইট তৈরির জন্য উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পুকুর খনন করে মাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। ট্রাক্টরে বহন করা হচ্ছে সেসব মাটি। অতিরিক্ত ভারবাহী এসব যানবাহনের চাপ গ্রামীণ সড়কগুলো সইতে পারছে না। এ কারণে সড়কগুলোর কার্পেটিং উঠে গিয়ে ছোট–বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। গাড়ি চলার সময় ট্রাক্টরের মাটি গিয়ে পড়ছে পাকা সড়কের ওপর। ফলে যানবাহন চললে সড়কে উড়ছে ধুলা।
গত বুধবার সকালে গুরুদাসপুর পৌরসভার মধ্যমপাড়া, তাড়াশিয়াপাড়া এবং চিৎলাপাড়া এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, পাকা সড়কজুড়ে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কে চলাচল করা সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের কয়েকজন চালক বলেন, মাটি বহনকারী ট্রাক্টর চলার কারণে সড়ক বেহাল হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির কারণে খানাখন্দে পানি থাকায় বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের।
মধ্যমপাড়ার বাসিন্দা এম এম আলী আক্কাছ বলেন, ইটভাটার মাটি বহনের ট্রাক্টরে কোটি কোটি টাকার সড়ক নষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়া মারাত্মক শব্দদূষণ ও ধুলাবালির কারণে সড়কসংলগ্ন বাড়িতেও বাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার ও পৌর প্রকৌশলী মো. সেলিম রেজা বলেন, বিষয়টি মাসিক সমন্বয় সভায় তুলে ধরা হলেও প্রশাসন এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। পৌর মেয়র মো. শাহনেওয়াজ আলী বলেন, ট্রাক্টরে মাটি পরিবহন বন্ধে পৌরসভার পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। তবু বন্ধ হচ্ছে না। ইটভাটার মালিকদের সতর্ক করতে পৌরসভার পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ট্রাক্টরে মাটি বহন বন্ধে ইটভাটার মালিকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।