আমি কিছুটা মজা করে বললাম, সেদিন তো ভালোবাসা দিবস। তিনি হেসে বললেন, ‘হ্যাঁ। আমাদের বিদায় দিবসও।’ ২০২২ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি ছিল নূরুল হুদা কমিশনের শেষ কর্মদিবস।

তখন অনেকটা দাবি নিয়ে বললাম, ‘স্যার, তাহলে এর আগে কাউকেই সাক্ষাৎকার দিতে পারবেন না। আপনার বিস্তারিত সাক্ষাৎকার সবার আগে আমাকেই দিতে হবে।’ স্যার বললেন, ঠিক আছে।

এরপরও বেশ কয়েকবার আমি সাক্ষাৎকার দেওয়ার অনুরোধ করি। মাহবুব তালুকদার একই জবাব দেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তাঁদের মেয়াদ শেষ হয়ে আসছে। নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। একদিন সম্পাদক মতিউর রহমান আমাকে বললেন মাহবুব তালুকদারের সাক্ষাৎকার নেওয়া যায় কি না দেখার জন্য। সেটি এ বছরের শুরুর দিকে।

তারপর জানুয়ারির কোনো এক দিন মাহবুব তালুকদার রাজি হলেন, ১৪ ফেব্রুয়ারির আগেই সাক্ষাৎকার দেবেন। তিনি জানালেন, অনেকেই তাঁর সাক্ষাৎকার নিতে চান। তবে তিনি যেহেতু আমাকে কথা দিয়েছেন, তাই সবার আগে আমাকেই বিস্তারিত সাক্ষাৎকার দেবেন।

মাহবুব তালুকদার সব সময় শব্দচয়নে অত্যন্ত সতর্ক ও হিসাবি ছিলেন। সব সময় তিনি বক্তব্য দিতেন লিখিত। তিনি বললেন, তিনি সাক্ষাৎকার দেবেন, তবে লিখিত প্রশ্ন পেলে সুবিধা হবে। আমি বললাম, একটি প্রশ্নের জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে সম্পূরক প্রশ্ন আসতে পারে। তিনি বললেন, সে প্রশ্নের জবাবও তিনি দেবেন। এরপর স্থির হলো, লিখিত প্রশ্নের লিখিত জবাব দেবেন মাহবুব তালুকদার। জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রশ্ন জাগলে সেগুলোর জবাব দেবেন এবং এই প্রক্রিয়া শেষে একদিন মুখোমুখি বসে এই সাক্ষাৎকারের প্রশ্নোত্তর নিয়ে আলোচনা করবেন। অর্থাৎ লিখিত ও মৌখিক—অনেকটা দুভাবেই সাক্ষাৎকার নেওয়া হবে।

২৫ জানুয়ারি আমি স্যারকে লিখিত ১১টি প্রশ্ন দিলাম। তাঁর জবাবের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন প্রশ্ন মিলিয়ে শেষ পর্যন্ত মোট প্রশ্ন দাঁড়াল ২১টি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি তাঁর দপ্তরে মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা। পরদিন প্রথম আলোতে প্রধান শিরোনাম হিসেবে ছাপা হলো নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সাক্ষাৎকার। শিরোনাম: ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন ব্যর্থতার গ্লানি’। সেদিন সকালে আমি চট্টগ্রাম যাচ্ছিলাম। বাসে স্যারের ফোন পেলাম: ‘রিয়াদুল, তুমি তো ফাটাইয়া দিছ। আমি ফোন ধরে কূল করতে পারছি না! এত রেসপন্স!’  

লেখক: জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, প্রথম আলো