এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রথম আলোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মিডিয়াস্টার লিমিটেড ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান।

প্রথম আলোর ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ শনিবার রাজধানীর পাঁচ তারকা র‌্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে সুধীজনদের নিয়ে আয়োজিত আনন্দসন্ধ্যায় দেওয়া বক্তৃতায় এই আশা প্রকাশ করেন তিনি। নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্টজনকে নিয়ে চলছে এই প্রীতিসম্মিলনী। রাত আটটায় যন্ত্রসংগীতের মনোরম সুরের মূর্ছনায় শুরু হয় অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান।

এই অনুষ্ঠানে মিডিয়াস্টার লিমিটেড ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নামে চালু করা বর্ষসেরা সাংবাদিকতার পুরস্কার দেওয়া হয়। গত বছর এই পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়। এবার নিয়ে দ্বিতীয়বার এ পুরস্কার দেওয়া হল।

ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান প্রথম আলোকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেটি শতবর্ষ অতিক্রম করবে। তিনি তাঁদের মধ্যেও এই স্বপ্ন বুনে গেছেন। আগামী বছর প্রথম আলো সিকি শতাব্দীতে পৌঁছাবে। ইনশা আল্লাহ ২০৯৮ সালে প্রথম আলো শতবর্ষে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, ‘সেদিন আমরা থাকব না, কিন্তু আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ থাকবে। সুতরাং, নতুন এক প্রজন্ম সেই মাইলফলকের সাক্ষী হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত লতিফুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন সিমিন রহমান। লতিফুর রহমান প্রথম আলোকে কতটা ভালোবাসতেন, তা-ও উঠে আসে তাঁর কথায়। তিনি বলেন, তাঁর বাবা ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান প্রতিবছর প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের অপেক্ষায় থাকতেন। প্রথম আলোর প্রতি ছিল তাঁর অন্য রকম ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা ছিল আবেগ ও দেশপ্রেমের। ২৪ বছর ধরে প্রথম আলো বাংলাদেশের মানুষের বস্তুনিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করেছে। প্রথম আলো আপসহীন ও সত্যনিষ্ঠতার চর্চা করে। প্রথম আলোর প্রত্যেকে সাহসী সাংবাদিকতা করেন, এটি নিয়ে গর্বিত ছিলেন প্রয়াত চেয়ারম্যান। প্রথম আলো সব সময় এই চেতনা ও শক্তি অব্যাহত রাখবে। প্রথম আলোর ২৪ বছরের পথচলা, এককথায় ‘সত্যে তথ্যে ২৪’-এর মাধ্যমে চিত্রায়ণ যথোপযুক্ত হয়েছে বলেও মনে করেন সিমিন রহমান।

প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের নৈতিকতা ও মূল্যবোধের কথা বলতে গিয়ে সিমিন রহমান বলেন, নৈতিক ব্যবসার জন্য তাঁর ছিল স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। প্রথম আলোর সত্যের পাশে দাঁড়ানোর দৃষ্টিভঙ্গি সেটাকেই তুলে ধরে।

বক্তব্যে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানের কথাও বিশেষভাবে তুলে ধরেন সিমিন রহমান। তিনি বলেন, মতিউর রহমানের নামটি এখন প্রথম আলোর সমার্থক হয়ে গেছে। এ সময় প্রথম আলোর দুটি স্লোগান উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। এগুলো হলো ‘ভালোর সাথে আলোর পথে’ ও ‘সত্যে তথ্যে ২৪’।

পাঠকদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে সিমিন রহমান বলেন, প্রথম আলোও বিষয়টি খেয়াল করছে ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। বাংলাদেশের এই পরিবর্তনের সঙ্গে প্রথম আলোও এগিয়ে চলছে এবং ভবিষ্যতেও প্রতিটি বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে। তিনি বলেন, ছাপা হোক বা ডিজিটাল, প্রথম আলো সব সময় আলাদা ছিল এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চা চালিয়ে যাবে।

সিমিন রহমান বলেন, প্রথম আলো গত ২৪ বছর পাঠকদের সত্য তথ্য দিয়ে এসেছে। এ কারণে প্রথম আলো পাঠকের অগাধ আস্থা অর্জন করেছে।

সম্পাদক মতিউর রহমানের নেতৃত্বে প্রথম আলোর বিকাশের কথাও তুলে ধরেন সিমিন রহমান। তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো বাংলাদেশের শীর্ষ সংবাদপত্র থেকে এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান। আমি গর্বিত যে আপনি (মতিউর রহমান) প্রথম আলোকে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বাংলা ডিজিটাল গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হওয়ার পথে নিয়ে গেছেন।’

পাঠকদের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হওয়ার কথা উল্লেখ করে সিমিন রহমান বলেন, প্রথম আলোও বিষয়টি খেয়াল করছে ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিচ্ছে। বাংলাদেশের এই পরিবর্তনের সঙ্গে প্রথম আলোও এগিয়ে চলছে এবং ভবিষ্যতেও প্রতিটি বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে।

তিনি বলেন, ছাপা হোক বা ডিজিটাল, প্রথম আলো সব সময় আলাদা ছিল এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার চর্চা চালিয়ে যাবে।

ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান বলেন, প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান প্রথম আলোকে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যেটি শতবর্ষ অতিক্রম করবে। তিনি তাঁদের মধ্যেও এই স্বপ্ন বুনে গেছেন। আগামী বছর প্রথম আলো সিকি শতাব্দীতে পৌঁছাবে। ইনশা আল্লাহ ২০৯৮ সালে প্রথম আলো শতবর্ষে পৌঁছাবে। তিনি বলেন, ‘সেদিন আমরা থাকব না। কিন্তু আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ থাকবে। সুতরাং নতুন এক প্রজন্ম সেই মাইলফলকের সাক্ষী হবে।’

সিমিন রহমান বলেন, প্রথম আলো নানা নতুনকে ধারণ করে বিকশিত হবে। তবে তার বার্তা একই থাকবে। সেটি হলো আলোর বার্তা, আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জয়, বাংলাদেশের মানুষের জয়।