রাজনীতিবিদদের মধ্যে গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের, বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ, রুমিন ফারহানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বিশিষ্টজনদের মধ্যে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, বিশিষ্ট আইনজীবী এম আমীর–উল ইসলাম, মানবাধিকারকর্মী হামিদা হোসেন, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, ব্যবসায়ী আনিস উদ দৌলা প্রমুখ অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

কূটনীতিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চীনের রাষ্ট্রদূত লি জিমিং, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি, জার্মানির রাষ্ট্রদূত আখিম টোস্টার, নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত অ্যানি ভন লুইয়েনম, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত নাতালি শুয়ার্ড, ফ্রান্সের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত গিয়াম আউদ্রে দু কেদরে ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত মোস্তফা ওসমান তুরান। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, থাইল্যান্ড, ফিলিস্তিন, নেপাল দূতাবাসের কূটনীতিক এবং ইউনিসেফ ও আইএলওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহ্ফুজা আক্তার, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, সাবেক ফুটবলার শেখ মোহাম্মদ আসলাম উপস্থিত হন প্রীতিসম্মেলনে।

এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি এ কে আজাদ, ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বাণিজ্য সংগঠন বিজিএপিএমইএর সাবেক সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরী, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নাসের এজাজ বিজয়, ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন, অ্যাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, হাতিলের চেয়ারম্যান সেলিম এইচ রহমান, আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিহ্যাবের সাবেক সভাপতি তানভীরুল হক প্রবাল, এমটিবির এমডি মাহবুবুর রহমান, এইচএসবিসির এমডি মাহবুব উর রহমান, এনভয় গ্রুপের চেয়ারম্যান কুতুব উদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যদের মধ্যে সেন্ট্রাল উইমেনস ইউনিভার্সিটির পারভীন হাসান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির আতিকুল ইসলাম, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ভিনসেন্ট চ্যাং, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির তানভীর হাসান, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস, অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির আব্দুর রব, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির এ এফ এম মফিজুল ইসলাম, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির মো. ইউনুস মিয়া, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের আনোয়ারুল কবির, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজির মোস্তাফিজুল হক, ইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির সহিদ আকতার হুসাইন, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আবুল কাসেম মিয়া, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজির মো. ফৈয়াজ খান, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের এইচ এম জহিরুল হক, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ইমরান রহমান ও ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।

অতিথিরা আসতে শুরু করেন সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা থেকেই। পরিচিতজনদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও আলাপচারিতার সুযোগ করে দিতে মূল অনুষ্ঠান শুরুর আগে অনেকটা সময় রাখা হয়েছিল। অতিথিরা অনুষ্ঠানস্থলে এলে প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকেরা তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। হেমন্তের সন্ধ্যায় বিভিন্ন পেশার বিশিষ্টজনদের এ মিলনমেলায় আড্ডা, গল্পে সময় কাটান অতিথিরা।

প্রীতিসম্মিলনীর মূল পর্ব শুরু হয় যন্ত্রসংগীতের সুরের মূর্ছনায়। শিল্পীদের বাঁশির সুর, ঢোলের তাল আর দোতারার ছন্দে শুরু হয় অনুষ্ঠান। সুরসংগীতটি কম্পোজ করেছেন ইমন চৌধুরী। পরিবেশন করেন আনন্দ, সজল ও সাইদুজ্জামান সুমন। এরপর ইমন চৌধুরীর সংগীত আয়োজনে শাহ আবদুল করিমের গান গেয়ে শোনান শিল্পী বগা তালেব। ‘আমার হাত বান্ধিবি, পা বান্ধিবি’ এ গানে কণ্ঠ মেলান অন্তরা, মৌসুমী ও ইনিমা।

সম্প্রতি কুড়িগ্রামে ‘প্রথম আলো চর’ এবং কুষ্টিয়ার কুমারখালী গিয়েছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। পর্দায় ভেসে ওঠে কুড়িগ্রাম ও কুষ্টিয়ায় বানানো ভিডিওচিত্র।

১৯৯৯ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একটি এলাকা কীভাবে ‘প্রথম আলো চর’ নামে গড়ে উঠল, সেই গল্প শোনান মতিউর রহমান। সেই চরে ত্রাণ কার্যক্রম চালাতে এসেছিল প্রথম আলো ও প্রথম আলো বন্ধুসভা। দুই দশক ধরে এ চরের জনপদের জীবনের জয়গানের সঙ্গে রয়েছে প্রথম আলো। এ চরে ২০০৪ সালে ‘আলোর পাঠশালা’ স্কুল প্রতিষ্ঠা করে প্রথম আলো। দেশের দুর্গত এলাকায় এমন ছয়টি স্কুল পরিচালনা করছে প্রথম আলো ট্রাস্ট।

কুমারখালী থেকে ১৮৬৩ সালে প্রকাশিত হয়েছিল গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা। এ পত্রিকার ছাপাখানায় দাঁড়িয়ে মতিউর রহমান বলেন, ব্রিটিশ প্রশাসন আর জমিদারদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে লেখা হতো। এ সত্য প্রকাশের জন্য পত্রিকাটির বিরুদ্ধে হামলা হতো, আক্রমণ হতো। এই আক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষ দাঁড়িয়েছে, লালন সাঁই তাঁর দলবল নিয়ে এসে প্রতিরোধ করেছিলেন। এসব আক্রমণের মুখে গ্রামবার্ত্তা প্রকাশিকা বারবার বন্ধ হয়েছে, শেষ পর্যন্ত আর টিকে থাকতে পারেনি। পত্রিকা বন্ধ হয়ে গেছে।

ভিডিও প্রদর্শন শেষে মঞ্চে আসেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, সত্য তথ্য গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, তাতে দেশ এগিয়ে যায়, মানুষের জয় হয়। প্রথম আলো সব সময় সত্য প্রকাশ করে। সারা পৃথিবীতেই সংবাদমাধ্যমকে লড়তে হচ্ছে সত্য প্রকাশের স্বাধীনতা আদায়ে। এখনই সাংবাদিকতার সময়। প্রথম আলো সত্য প্রকাশে অবিচল থাকবে।

এরপর মঞ্চে আসেন প্রথম আলোর প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান মিডিয়াস্টার লিমিটেড ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সিমিন রহমান। তিনি ট্রান্সকমের প্রয়াত চেয়ারম্যান লতিফুর রহমানের স্মরণে প্রবর্তিত সাংবাদিকতায় ‘লতিফুর রহমান পুরস্কার’–এর ক্রেস্ট, সনদ ও পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক সোহরাব হাসানের হাতে। গত বছর এ পুরস্কার চালু হয়েছে। প্রতিক্রিয়ায় সোহরাব হাসান সৎ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যের শুরুতে প্রয়াত লতিফুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান। তিনি বলেন, তাঁর বাবা ও ট্রান্সকম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান লতিফুর রহমান প্রতিবছর প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপনের জন্য অপেক্ষায় থাকতেন। প্রথম আলোর প্রতি ছিল তাঁর অন্য রকম ভালোবাসা। সেই ভালোবাসা ছিল আবেগ ও দেশপ্রেমের।

সিমিন রহমান বলেন, ২৪ বছর ধরে প্রথম আলো বাংলাদেশের মানুষের বস্তুনিষ্ঠ কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করছে। প্রথম আলো আপসহীন ও সত্যনিষ্ঠতার চর্চা করে। এ কারণে প্রথম আলো পাঠকের অগাধ আস্থা অর্জন করেছে। প্রথম আলো নানা নতুনকে ধারণ করে বিকশিত হবে। তবে তার বার্তা একই থাকবে; সেটি হলো আলোর বার্তা, আলোকিত বাংলাদেশ, বাংলাদেশের জয়, বাংলাদেশের মানুষের জয়।

প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বরাবরের মতোই এবারও নির্মাণ করা হয় একটি প্রামাণ্যচিত্র। এ প্রামাণ্যচিত্র নির্মিত হয়েছে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলকে নিয়ে। ‘সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে’ শীর্ষক প্রামাণ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন রেদওয়ান রনি।

প্রামাণ্যচিত্রে উঠে আসে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ী মেয়েদের লড়াইয়ের কথা। ভারত সীমান্তবর্তী ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রাম কলসিন্দুরের কথা। এ গ্রামের আটজন মেয়ে খেলেছেন এবার সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়া বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। নানা দিক থেকে পিছিয়ে থাকা এই গ্রামের মেয়েদের এগিয়ে নিতে এগিয়ে এসেছে প্রথম আলো। প্রায় তিন বছর ধরে এই মেয়েরাসহ ২৫ জনকে স্কলারশিপ দেওয়া হতো প্রথম আলোর পক্ষ থেকে।

মঞ্চে আসেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক। তাঁর অনুরোধে মঞ্চে আসেন সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপাজয়ী ফুটবল দলের সদস্যরা। চ্যাম্পিয়ন দলের ২৩ জন খেলোয়াড় এবং কোচ ও সহকারীসহ ৩০ জনের প্রত্যেকের হাতে তুলে দেওয়া হয় এক লাখ টাকার চেক। অতিথিরা বিপুল করতালি দিয়ে এ অদম্য খেলোয়াড় ও কোচদের সম্মানিত করেন।

আরেকটা সুখবর জানান আনিসুল হক। তিনি বলেন, প্রথম আলোর সাংবাদিকেরা অনুসন্ধান করে জেনেছেন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী ফুটবলের উন্নয়নের জন্য তহবিল সমস্যা রয়েছে। নারী ফুটবলারদের ক্যাম্পে রেখে প্রশিক্ষণ দেওয়া, দেশে-বিদেশে প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলতে নিয়ে যাওয়ায় বিপুল অঙ্কের তহবিল প্রয়োজন। বাংলাদেশের নারী ফুটবলের উন্নয়নের জন্য সুহৃদদের অনুদানের মধ্য দিয়ে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা পেয়েছে। চ্যাম্পিয়ন দলের খেলোয়াড় ও কোচদের পুরস্কার বাদে বাকি ১ কোটি ২০ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে প্রথম আলো।

মঞ্চে আসেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এবং ফুটবল ফেডারেশনের নারী ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার। তহবিলের সহযোগীদের নিয়ে মঞ্চে আসেন মতিউর রহমান। তাঁরা ১ কোটি ২০ লাখ টাকার তহবিলের চেক তুলে দেন কাজী সালাউদ্দিন ও মাহফুজা আক্তারের হাতে।

কাজী সালাউদ্দিন বলেন, শিরোপাজয়ী মেয়েদের নিয়ে এ অনুষ্ঠানে আসতে পেরে তাঁরা গর্বিত, আনন্দিত। প্রথম আলো পরিকল্পনা করে তহবিল গঠন করায় ধন্যবাদ।

সাফ নারী চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া জানান। তিনি বলেন, ‘এমন সম্মাননা পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের অনুপ্রাণিত করবে। পরের প্রজন্মের মেয়েরা এগিয়ে আসছে। এ জয়ের ধারা অব্যাহত রাখতে চাই।’

আনিসুল হক বলেন, এ জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক। বাংলাদেশের জয় হবেই। মিলনায়তনে উপস্থিত অতিথিরা বাংলাদেশের জয়ের এ ধারাকে করতালি দিয়ে উৎসাহিত করেন। আনিসুল হক অতিথিদের নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানান।

৪ নভেম্বর ছিল প্রথম আলোর ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ৪ নভেম্বর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে আয়োজন করা হয় পাঠক উৎসবের। দিনভর সেই আয়োজনের প্রাণ ছিলেন প্রথম আলোর পাঠকেরা। উৎসবে অংশ নিতে ঢাকার পাশাপাশি ঢাকার বাইরে থেকেও প্রথম আলোর পাঠকেরা আসেন।

৬ নভেম্বর ঢাকায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় কর্মী উৎসবের। তাতে প্রথম আলোর ঢাকা কার্যালয়ের পাশাপাশি সারা দেশের কর্মীরা অংশ নেন। দেশের ৮৮টি স্থানে প্রথম আলোর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্‌যাপন চলছে। শিশুদের ছবি আঁকা প্রতিযোগিতা, সুধী সমাবেশ, সাংস্কৃতিক পরিবেশনাসহ নানা আয়োজন হচ্ছে। এ আয়োজনে সহযোগিতা করছে প্রথম আলো বন্ধুসভা।