এ তিনটি ঘটনার তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে বিচিত্র অভিজ্ঞতা হলো। যেমন শিক্ষামন্ত্রীর ভাই জাওয়াদুল রহিম ওয়াদুদ ওরফে টিপুর জমি দখলের খবর নিতে হাইমচর উপজেলার প্রত্যন্ত চরে ছদ্মবেশে যেতে হয়েছিল। গিয়েছিলাম পাঞ্জাবি, পাজামা ও টুপি পরে। অতিরিক্ত সতর্কতা থেকে এই বেশ। সাংবাদিক পরিচয় প্রকাশ হলে বড় বিপদ হতে পারে। কারণ, টিপুনগর ও আশপাশে টিপুর লোকজন আছে। প্রমাণ পেয়েছি হাতেনাতে। ওই এলাকায় অপরিচিত দেখে অনেকে পরিচয় ও আগমনের কারণ জানতে চেয়েছেন। একেকজনকে একেক উত্তর দিয়েছি। 

সেলিম খানের খবর নিতে গিয়েও ভিন্ন রকম অভিজ্ঞতা। তাঁর ভয়ে স্থানীয় সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও বাসিন্দারা কথা বলেন না। অপরিচিত কাউকে দেখলে মানুষ আরও বেশি ভয় পায়। এমনকি চাঁদপুর শহরে পরিচিত অনেকেও সেলিম খানের কথা শোনার পর কেউ সহযোগিতা করতে চাননি। 

সর্বশেষ স্থানীয় এক তরুণের সহযোগিতায় মেঘনার ডুবোচরে সেলিম খানের নির্বিচার বালু তোলার চিত্র দেখার সুযোগ হলো। নৌকায় ওঠার আগে চালক বলে রাখলেন, বালু তোলার কোনো ছবি তোলা যাবে না। এরই মধ্যে নানা জায়গা ঘুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি অধিগ্রহণের নামে টাকা লোপাট করতে সেলিম খান যা যা করেছেন, তা-ও জানার সুযোগ হলো। নানা বেশে ওই এলাকায় যেতে হয়েছে।

স্বস্তির খবর, জমি অধিগ্রহণের নামে সেলিম খানদের ৩৯২ কোটি টাকা লোপাটের আয়োজন ভন্ডুল হয়েছে। তিনি এখন কারাগারে। আর টিপুনগরের জমি উদ্ধারেও কাজ হচ্ছে শুনেছি। 

লেখক: নিজস্ব প্রতিবেদক, প্রথম আলো