নিজের সংগ্রামী জীবনের কথা স্মরণে রেখে তিনি চেষ্টা করেন দরিদ্র মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ কাজে নিয়োগ দিতে। সাধারণত যাঁরা এজেন্টদের কাগজ বাঁধা গ্রাহকদের কাছে বিলি করার জন্য কাজ নেন, তাঁরা কাগজ বিক্রির কমিশন পান না। মাসিক দুই থেকে সর্বোচ্চ তিন হাজার টাকা বেতন পান। এনামুল হক তাঁর নিয়োগ করা তরুণদের বেতনের পাশাপাশি কাগজের একটা কমিশনও দিয়ে থাকেন। ফলে তাঁদের আয় ৫ থেকে ৯ হাজার টাকা পর্যন্ত হয় প্রতি মাসে।

এনামুল হকের সঙ্গে কথা হলো রামপুরার ওয়াপদা লিংক রোডে তাঁর ভাড়া বাসায়। তিনি জানান, তাঁর বাঁধা গ্রাহকই ছিল প্রায় চার হাজার। করোনার পরে কমে এখন আড়াই হাজারে নেমেছে। কর্মী আছেন ১০ জনের মতো। মানবিক কারণে কাউকে বাদ দিতে পারছেন না। এদিকে নিজের সংসার, দুই ছেলের পড়ার খরচ। বেশ কঠিন হয়ে যাচ্ছে এখন। ফলে অন্যদিকে ব্যবসা বাড়াতে হয়েছে। রামপুরা বাজারে মনিহারি দোকান দিয়েছেন। অনেকটা সময় দিতে হচ্ছে সেখানে।

এনামুল হক জানান, স্নাতক পাস করার পর তিনি গণপূর্ত বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী হিসাবরক্ষকের সরকারি চাকরি পেয়েছিলেন। তখন ওই পদের বেতনস্কেল ছিল ১ হাজার ৭৫০ টাকা, মোট বেতন ৩ হাজার ৬০৫ টাকা। কিন্তু সংবাদপত্রের ব্যবসায় তখন তাঁর মাসিক আয় ওই বেতনের প্রায় তিন গুণ বেশি। সে কারণে আর চাকরিতে যাননি। এ নিয়ে অবশ্য এত দিন তাঁর কোনো আক্ষেপও ছিল না। এখন করোনার দুর্যোগে পড়ে ব্যবসায় যে ধস নেমেছে, তাতে তাঁর মনে হয় সে সময় চাকরিতে যোগ দিলেই হয়তো ভালো হতো।

তবে এনামুল হকের মনে একটি পরিতৃপ্তি আছে যে তিনি তাঁর মতোই কিছু সংগ্রামী তরুণকে পথ দেখিয়েছেন। সহায়তা করতে পেরেছেন।