চিন্তায় ছিলাম, এত লেখা, রিপোর্ট পাব তো? ঢাকা আর ঢাকার বাইরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করি। সবাইকে বিস্তারিত বলি। এরপর যা হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। প্রচুর লেখা, সাক্ষাৎকার আর প্রতিবেদন আসতে থাকল। তবে একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। সব স্টোরি হবে ইতিবাচক। কিন্তু সাংবাদিকতায় তো সমালোচনাও থাকবে। কথায় আছে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। আমাদের রিপোর্টাররাও ইতিবাচক-নেতিবাচক সব মিলিয়ে প্রতিবেদন পাঠালেন। সেটিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে হয়েছে আমাদের।

আসলে প্রথম আলোতে যেকোনো কিছু করা অন্য যেকোনো হাউসের তুলনায় সহজ। একটা উদাহরণ দিই। গত বছরের নভেম্বর। আমি তখন কালের কণ্ঠ–এ। কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক মারা গেছেন। তাঁকে নিয়ে একজন সাহিত্যিকের লেখা দিতে চাই। কিন্তু কয়েকজনের কাছে লেখা চাইলেও তাঁদের আগ্রহ কম। এখানেই আলাদা প্রথম আলো। কেউ নিরাশ করেন না। পদ্মা সেতু নিয়ে কোনো একজন বিশেষজ্ঞের সাক্ষাৎকার যাবে। কিন্তু তাঁর ভালো ছবি নেই। সাক্ষাৎকারে আমরা কী ধরনের ছবি দিই, সেটি জানানোর পর তিনি নিজেই ছবি তুলে পাঠালেন। এই হলো প্রথম আলোর শক্তি, গ্রহণযোগ্যতা। 

আমাদের গ্রাফিকস টিমের কথা না বললেই নয়। আমরা মেকআপ, ইনফো, যা যেভাবে চেয়েছি, পেয়েছি। প্রেস থেকে কড়া বার্তা ছিল, বিকেল পাঁচটার মধ্যে সেতু উদ্বোধনের সাপ্লিমেন্ট পাঠাতে হবে। টান টান উত্তেজনায় আমরা নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে হলেও কাজ শেষ করেছি। 

সর্বশেষ ছিল ২৫ জুন উদ্বোধনের মাহেন্দ্রক্ষণ। ওই দিন ‘আজি দখিন-দুয়ার খোলা’ শিরোনাম সবার দৃষ্টি কেড়েছে। উদ্বোধনের দু-তিন দিন আগে থেকেই আমাদের রিপোর্টার, ফটোসাংবাদিকেরা সেখানে চলে গেছেন। তাঁদের চেষ্টায় টানা এক মাস অন্যদের তুলনায় আমরাই মনে হয় পদ্মা সেতুর আদ্যোপান্ত পাঠকের কাছে সবচেয়ে ভালোভাবে তুলে ধরতে পেরেছি। 

সরকার অর্থায়ন করেছে। কারিগরেরা পদ্মা সেতু নির্মাণ করেছেন। আমরা এই সেতুর আদ্যোপান্ত পাঠকের কাছে উপস্থাপন করেছি। সরাসরি না হোক, প্রথম আলোর কল্যাণে আমরাও তো এই ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলাম। 

লেখক: উপবার্তা সম্পাদক, প্রথম আলো