সবুজ জানালেন, সিটি করপোরেশন বেশির ভাগ যাত্রীছাউনি থেকেই সংবাদপত্র বিক্রয়কেন্দ্র ভেঙে দিচ্ছে। এখন হাতে গোনা কয়েকটি টিকে আছে। দোকান ভাঙার ধাক্কা কাটিয়ে উঠলেও করোনার ধাক্কা সামলানো তাঁর পক্ষেও বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে সংবাদপত্রের পাশাপাশি নানা ধরনের সাময়িকী, বই, খাতাপত্র ইত্যাদি মিলিয়ে নানা রকমের দ্রব্য বিক্রি করে দুর্যোগের ধকল কাটিয়ে ওঠার সংগ্রাম করছেন।

খিলগাঁও তালতলা এলাকায় তাঁর নির্ধারিত এলাকায় করোনার আগে নিয়মিত গ্রাহক ছিল চার শ, আর দোকানে খুচরা বিক্রি হতো দুই-আড়াই শ। সব মিলিয়ে ছয় থেকে সাড়ে ছয় শ কাগজ চলত। অন্য এলাকার চেয়ে খিলগাঁওয়ে সংবাদপত্রের নিয়মিত গ্রাহকেরা তুলনামূলক বেশি সংখ্যায় ফিরেছেন। সবুজ জানালেন, তাঁর চার শ নিয়মিত গ্রাহকের মধ্যে প্রায় দুই শ জনকে ফিরে পেয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম আলোর গ্রাহক দেড় শতাধিক। খুচরা বিক্রি হয় শ খানেক। সব মিলিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন শ কাগজ বিক্রি হয়। এ ছাড়া কিশোর আলো, বিজ্ঞানচিন্তা বেশ ভালো চলে। সেবা প্রকাশনীর এজেন্সি আছে তাঁর। প্রতি মাসে সেবার বইয়ের একটি নির্দিষ্ট বিক্রি আছে।

তাঁর বাবা আবদুল হাই ছিলেন খিলগাঁও হকার্স সমিতির সদস্য। সংবাদপত্রের ব্যবসা তিনিই শুরু করেছিলেন। ১৯৯৪ সালে বাবার মৃত্যুর পর থেকে সবুজ এটি নিয়েছেন পেশা হিসেবে।

সবুজের দুই ছেলে। বড় ছেলে ফরিদ ইসলাম এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। ছোট আবির ইসলাম পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। তাঁর সঙ্গে কথা বলার সময়ই দোকানে কিছু খাতা কিনতে এলেন স্থানীয় পল্লীমা সংসদের প্রচার সম্পাদক ও স্কুলশিক্ষক রোজি ইসলাম। প্রথম আলোর তিনি নিয়মিত গ্রাহক। মো. সবুজ জানান, রোজি ইসলামের মতো অনেক পুরোনো গ্রাহক ফিরে আসছেন। এতে তাঁর মনেও স্বস্তি ফিরে আসছে।