সকাল ৮টা ১০ মিনিটে ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রে পৌঁছে দেখা গেল ভোটারের দীর্ঘ সারি। সঙ্গে সঙ্গে ছবি তোলা শুরু করলাম। হঠাৎ আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী আকতার হোসেন এসে বললেন, ‘আপনারা এখানে কী করছেন? এখানে সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে, ছবি তুলে তাড়াতাড়ি চলে যান।’

আকতার হোসেনের তৎপরতা দেখে কেন জানি মনে হচ্ছিল কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। এখানে দুটি কেন্দ্র পাশাপাশি। তখন আমরা সেখানে বেশ কিছুক্ষণ থাকার সিদ্ধান্ত নিলাম। ১৫ মিনিট যেতে না যেতেই পাশের কেন্দ্র থেকে হইচইয়ের শব্দ কানে এল। ছুটে গেলাম সে দিকে। একজনকে ধরে কয়েকজন মারধর করছেন। শুরু হয়ে গেল দুই পক্ষের ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি। দূর থেকে সেই ছবি তুলছি দেখে কয়েকজন ছুটে আসছিল আমাদের দিকে। তখন আমরা দৌড়ে চলে গেলাম মূল সড়কে। সেখানকার অবস্থা আরও ভয়ংকর। বেশ কয়েকজন সমর্থক দেশীয় অস্ত্র হাতে ছোটাছুটি করছেন ততক্ষণে। গুলির শব্দ আসছে বিভিন্ন দিক থেকে। 

ছুটতে ছুটতে দেখা পেলাম কয়েকজন পুলিশের। চারদিক থেকে শুধু গুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে তখনো। একটু এগোতেই দেখি একজন পিস্তল উঁচিয়ে ডাকছেন প্রতিপক্ষকে। সেই ছবি তুলতেই হেলমেট পরা একজন গালি দিয়ে অস্ত্র দেখিয়ে বললেন, ‘দেখসছ এটা কি!’ আমি আবার একটু পেছনে এলাম। কয়েক মিনিট পর সেখানে এল কয়েকজন বিজিবির সদস্য। তাঁদের দেখে সামনে যেতেই দেখি, এ যেন যুদ্ধক্ষেত্র। সবার হাতে লাঠি, দেশীয় অস্ত্র, গুলতি আর বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র। আমি ছবি তুলতে লাগলাম। একটু পর ওই হেলমেট পরা লোকটি আমার দিকে তেড়ে আসতে চাইলে বিজিবির সদস্যরা তাঁকে বাধা দেন। 

কিছু সময় যেতে না যেতে তারা তাড়া করলেন আমাকে। দৌড়ে চলে এলাম ভোটকেন্দ্রের দিকে। সেখান থেকে অনলাইনের জন্য ছবি পাঠিয়ে দিলাম একটা। 

একটু পর ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক এসে বললেন, ‘এখানে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। আপনারা আমাদের ছাড়া বের হবেন না।’ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় আমরা সেখান থেকে বের হলাম। র​্যাবের সদস্যরা গাড়ি থেকে নেমে যখন বললেন, আপনারা এখন নিরাপদ। একটা নতুন জীবন আর কিছু অসাধারণ ছবি পাওয়ার অন্য রকম এক অনুভূতি হলো তখন। 

লেখক: জ্যেষ্ঠ ফটোসাংবাদিক, প্রথম আলো