বলা বাহুল্য, সেই সময়ের একটি ছাপা পত্রিকা একই সময়ে তার বহির্বিশ্বের পাঠকদের জন্য ইন্টারনেট সংস্করণের পরিকল্পনা করবে, সেটা ভাবাই যেত না। কিন্তু প্রথম আলো প্রকাশের প্রথম দিন থেকেই কাজটি করেছে। কারণ, শুরু থেকে প্রথম আলো সারা বিশ্বে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা বাংলাভাষীদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হতে চেয়েছে। তাই এই ২৪ বছরের ব্যপ্তিতে ছাপা পত্রিকার লেখা ইন্টারনেট সংস্করণে প্রকাশ করা থেকে প্রথম আলো এখন হয়ে উঠছে বিশ্বের এক বড় গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান। এখন তাই প্রথম আলোর অনলাইন জেগে থাকে বছরের ৩৬৫ দিন, ২৪ ঘণ্টা।

ছাপা পত্রিকার জনপ্রিয়তার পাশাপাশি প্রথম আলোর ওয়েবসাইটটি শুধু সংবাদমাধ্যমে নয়, বাংলা ভাষায় সব ধরনের ওয়েবসাইটের মধ্যে পৃথিবীর এক নম্বর ওয়েবসাইটে পরিণত হয়েছে। বিশ্বের ২১০টির বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে প্রতিদিন পাঠক অনলাইনে ঢুকে দেখে নেন সর্বশেষ সংবাদ। কেউ কেউ মোবাইল অ্যাপে তা জেনে নেন। আর কেউ কেউ ইন্টারনেটেই প্রথম আলোর ই–পেপারে পেয়ে যান ছাপা পত্রিকার অভিজ্ঞতা।

বিশ্বের এক নম্বর বাংলা ওয়েবসাইট

শুধু সংবাদমাধ্যম নয়, পাঠকসংখ্যা ও পেজভিউ বিবেচনায় সব ধরনের বাংলাদেশি ওয়েবসাইটের মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রথম আলো অনলাইন (www.prothomalo.com)। এটি বাংলা ভাষার ওয়েবসাইটগুলোর মধ্যে বিশ্বে এক নম্বর।

২১০টির বেশি দেশ ও অঞ্চল থেকে অনলাইনে নিয়মিত প্রথম আলো পড়েন দেড় কোটির কাছাকাছি পাঠক। পাঠকসংখ্যা বিশ্লেষণ ও র‌্যাঙ্কিংকারী বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান সিমিলারওয়েবের সেপ্টেম্বর ২০২২ সালের উপাত্ত বলছে, বাংলাদেশের সব সংবাদ ও মিডিয়া প্রকাশকের মধ্যে এর অবস্থান শীর্ষে (#১)। বাংলাদেশ থেকে যত ওয়েবসাইট দেখা হয়, তার মধ্যে প্রথম তিনে নানাভাবে থাকে গুগল, ইউটিউব ও ফেসবুক। এর ঠিক পরেই চার নম্বরে (#৪) আছে প্রথম আলো ডটকম। এর মানে হলো বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশের আর কোনো ওয়েবসাইট প্রথম আলোর ওয়েবসাইটের মতো দেখা হয় না। অনেকেই ভাবেন, তরুণদের মধ্যে সংবাদ পড়ার ঝোঁক কম। কিন্তু প্রথম আলোর অনলাইন পাঠকদের মধ্যে ৬৩ শতাংশের বয়স ৩৫-এর নিচে!

শুধু ওয়েবসাইটে লগইন করে নয়, প্রথম আলো পড়া যায় এর অ্যাপ থেকে।

এ ছাড়া রয়েছে প্রথম আলোর ইংরেজি সংস্করণ (en.prothomalo.com)।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম আলো

প্রায় সব যোগাযোগমাধ্যমে প্রথম আলোর রয়েছে সরব ও সক্রিয় উপস্থিতি। ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, লিংকডইনে প্রথম আলো তার অনুসারীদের নিয়মিত হালনাগাদ সংবাদ, তথ্য ও বিশ্লেষণ পৌঁছে দেয়। ১ কোটি ৮৯ লাখের বেশি অনুসারী নিয়ে বাংলাদেশের সব ধরনের প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও ব্র্যান্ডের ফেসবুক পেজের মধ্যে এক নম্বরে আছে প্রথম আলো। প্রথম আলোর অনুসারীদের ৭০ শতাংশই তরুণ, যা প্রমাণ করে প্রথম আলো তার তারুণ্য ধরে রেখেছে ২৪ বছর ধরে।

টুইটারে রয়েছে প্রথম আলোর যথাক্রমে ২৫ লাখ অনুসারী। অতি সম্প্রতি প্রথম আলো সক্রিয় হয়েছে ইনস্টাগ্রামে। বর্তমানে সেখানেও ৫ লাখ ৮৫ হাজার অনুসারী রয়েছে। এ ছাড়া ইউটিউবে প্রথম আলোর মূল চ্যানেলে রয়েছে ৩৩ লাখ গ্রাহক।

ভোরের সূর্যের সঙ্গে যেদিন প্রথম আলোর প্রথম মোলাকাত হয়, সেদিন থেকে ডিজিটাল দুনিয়ায় প্রথম আলো তার সরব ও সক্রিয় অবস্থান ধরে রেখেছে। আগামী দিনগুলোতে সেটা অব্যাহত থাকবে—এটাই পাঠকের কাছে প্রথম আলোর অঙ্গীকার।

লেখক: প্রধান সমন্বয়ক, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন