তানভীর জানালেন, ১৯৯৩ সালে তিনি তখন উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী, তখন থেকে বাবার সঙ্গে আসতেন রংপুর প্রেসক্লাব এলাকায়। বাবা তাঁকে দেখিয়ে দিতেন ব্যবসা। আর বলতেন, ‘তুমিই পারবে আমার ব্যবসার হাল ধরতে।’ প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে বেরিয়ে দেখতেন বাবা কীভাবে পত্রিকা বিক্রির কাজ করছেন। কীভাবে এত হকারের টাকার হিসাব রাখতেন। হকারদের সঙ্গে সুসম্পর্কের বিষয়টিও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যবসার হাল ধরার জন্য তাঁকে হাতেনাতে কাজ শিখিয়েছেন বাবা তোহাম্মেল।

বাবার মৃত্যুর পর তানভীর এই ব্যবসার হাল ধরে প্রথমেই হোঁচট খান। কোনো কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না। হকারদের পত্রিকা বিতরণ, টাকা তোলা এবং পত্রিকা অফিসে টাকা পাঠানো নিয়ে নানামুখী সমস্যা লেগেই থাকত। এটা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ। মাঝেমধ্যেই মনে হতো এই ব্যবসা আর চালিয়ে যাওয়া হয়তো সম্ভব হবে না। কেননা বাবার আমলের কিছু দেনাও রয়েছে। কীভাবে শোধ করবেন, দুশ্চিন্তার শেষ নেই। সব মিলিয়ে ব্যবসা পরিচালনা তাঁর জন্য অনেকটা কষ্টকর হয়ে ওঠে।

তানভীর জানালেন, এমন এক দুরবস্থার মধ্যে প্রথম আলো পত্রিকা তাঁর পাশে এসে দাঁড়ায়। বাবার বকেয়া টাকা ধীরে ধীরে পরিশোধ করার জন্য সুযোগ করে দেয়। এরপর মনে জোর পান তিনি। বললেন, ‘প্রথম আলো বিক্রি করে নিয়মিত টাকা পরিশোধ করছি। পত্রিকার আয়রোজগার থেকে সংসার বেশ ভালোই চলছে।’

তানভীরের সংসারে রয়েছেন মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান। বড় ছেলে স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ছে। আর ছোট মেয়ের বয়স ৪ বছর।

প্রথম আলো পত্রিকা বিক্রি প্রসঙ্গে তানভীর বলেন, ‘আমি প্রথম আলোর কাছে ঋণী। কেননা প্রথম আলো না হলে সংসার চালানো কষ্টকর হতো। প্রথম আলো ঢাকা ও রংপুর অফিসের দায়িত্বরত কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। সুখে–দুঃখে সবাইকে কাছে পাই, সব কথা শেয়ার করতে পারি। প্রথম আলো পত্রিকা আমাকে নতুন জীবন দিয়েছে।