মাহ্ফুজ আনামের কাছে প্রথম আলো কেন শ্রদ্ধার, তার তিনটি কারণ উল্লেখ করেন তিনি। প্রথম কারণ, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। তিনি বাংলাদেশের সেরা সম্পাদক এবং ২৪ বছর ধরে তা প্রমাণ করে যাচ্ছেন। দ্বিতীয় কারণ, যাঁরা দেশসেবা করতে চান, মানুষের পাশে দাঁড়ান ও সত্য বলতে চান—তাঁদের এসব মূল্যবোধ প্রকাশের জায়গা হলো প্রথম আলো।

তৃতীয় কারণ হিসেবে মাহ্ফুজ আনাম প্রথম আলোর রুচিশীলতা ও সৃজনশীলতার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘প্রথম আলো দেখলে স্মার্ট লাগে। একেকটি পাতা খুলে দেখুন, কী সুন্দর লে-আউট (পৃষ্ঠাসজ্জা)! রঙের বিন্যাস ও শিরোনাম নির্বাচনের ব্যাপারে বিচক্ষণতা দেখুন।’

প্রথম আলো সার্বক্ষণিক সৃজনশীলতার চর্চা করে বলেও উল্লেখ করেন মাহ্ফুজ আনাম। তিনি বলেন, ‘চারদিকে রুচির অবক্ষয়ের মধ্যে প্রথম আলো আমাদের সবার রুচির উন্মেষ ঘটাচ্ছে।’

সাহসিকতার জন্যও প্রথম আলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানান মাহ্ফুজ আনাম। তিনি বলেন, ‘এত চাপের মধ্যেও সত্য কথা প্রকাশ করে, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, বলিষ্ঠ সম্পাদকীয় ও অত্যন্ত আকর্ষণীয় উপসম্পাদকীয়র মাধ্যমে প্রথম আলো আমাদের সবাইকে অভিভূত করে রাখছে।’

বিশ্বের যে পরিবর্তন হচ্ছে, তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে মাহ্ফুজ আনাম বলেন, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অনেক দেশেই সরকার বা নির্বাহী বিভাগ অনেক বেশি ক্ষমতাধর হয়েছে, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ দুর্বল হয়েছে। এমন অবস্থায় সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্তদের দায়িত্ব হচ্ছে সত্যের প্রতি নিষ্ঠা, দেশপ্রেম এবং মানবতার সেবা। প্রথম আলোর কর্মীদের উদ্দেশে ডেইলি স্টার সম্পাদক বলেন, ‘এই মুহূর্তে আপনাদের দায়িত্ব হচ্ছে জনগণের কথা বলা, বর্ণবাদ, উগ্র ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে কথা বলা।’