ঘর থেকে ঘরে ঘরে

হঠাৎ দুটো হাত দুই পাশ থেকে এসে আটকে দেয় দমকা হাওয়া, তেমনি প্রথম আলোর সেই হাত দুটি হলো পাঠকের হাত। তারা আস্থা রাখে আলোয়।

অলংকরণ
আরাফাত করিম

রাত ৯টা ৩০ মিনিট। প্রথম আলোর প্রথম পাতা তৈরি হচ্ছে পল্টনে আর শেষ পাতা উত্তরায়। পাঁচের পাতা পুরান ঢাকায়, তো জাম্পের পাতা মিরপুরে। বার্তা ব্যবস্থাপকেরা কেউ মোহাম্মদপুরে, কেউ–বা পূর্ব রাজাবাজারে। ডেডলাইন ১০টা ৩০ মিনিট। মূল ছবি যে আলোকচিত্রী পাঠাচ্ছেন, তিনি জিগাতলায়, যাঁর নেতৃত্বে শেষবার বানান–বাক্য চূড়ান্ত করে পড়া হচ্ছে, তিনি আছেন মগবাজারে। ঢাকার তেজগাঁও, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার প্রেসে ছাপা হয়ে এই পত্রিকা আগামীকাল সকালে আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যাবে লাখো পাঠকের হাতে। ভাবুন একবার বিষয়টা। এ-ও কি সম্ভব? কিন্তু লকডাউনের মধ্যে আইটি বিভাগের দুর্দান্ত সহযোগিতায় এই অসম্ভবকেই সম্ভব করেছে প্রথম আলো পরিবার। ঘরে বসে কাজ করে পৌঁছে গেছে ঘরে ঘরে।

করোনার ভয় ছাপিয়ে পত্রিকার নেশা

২১ এপ্রিল থেকে গোটা প্রথম আলো ‘হোম অফিসে’ চলে যায়। চলে ৬ জুন পর্যন্ত। তারপর সীমিত আকারে শুরু। এর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ মেনে সুরক্ষার নানা উদ্যোগ নেওয়া হয় অফিসে। ১৯ এপ্রিল পাঠকের শওকত হোসেন, আমাদের মাসুম আক্রান্ত হলেন করোনাভাইরাসে। ২০ এপ্রিল তাঁকে ভর্তি করা হয় মুগদা হাসপাতালে। তিনিই প্রথম আলোর প্রথম কোভিডে আক্রান্ত কর্মী। স্পষ্ট মনে আছে, সম্পাদকের একটি ফোন এল। তখন বিকেল। ধরা গলায় তিনি জানালেন, আজ থেকে সমস্ত কর্মী বাসা থেকে কাজ করবেন। পাশাপাশি বললেন, মাসুমের পাশে আছি আমরা। ওর পরিবারের পাশেও আছি। ফোনে যার সঙ্গেই কথা বলি, তিনি কান্না চাপার ব্যর্থ চেষ্টা করেন। স্বাভাবিক সময়েই একটি দৈনিক পত্রিকার সঙ্গে যুদ্ধক্ষেত্রের তুলনা সাংবাদিকতার পাঠ্যপুস্তকেই লেখা। রাত যত বাড়ে, অফিস তত গরম। এত মাথা, এত যন্ত্র, এত সফটওয়্যার একসঙ্গে মিলেও যুদ্ধের সঙ্গে তুলনা, এবার মাত্র কয়েক ঘণ্টার নোটিশে তা যখন শতভাগ হোম অফিস হয়ে যায় এবং ডেডলাইন একই থাকে, তখন করোনার আতঙ্কের চেয়েও বড় আশঙ্কা, কাল কাগজটা বের করা যাবে তো? অনলাইন তো আছেই। করোনার চাইতেও নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের আতঙ্ক পিঠ দিয়ে শির শির করে নামে। তাই শতভাগ হোম অফিসের নির্দেশনার পরও বার্তা বিভাগের তরুণ ব্যবস্থাপকেরা কিংবা আলোকচিত্রী দলের তরুণ নেতা নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে আম্পানের ঝড়ের দিন (২০ মে ২০২০) অফিসে চলে আসেন। যদি বিদ্যুৎ–বিভ্রাট হয়, নেটওয়ার্ক বিপর্যয় ঘটে, সামাল তো দিতে হবে। ঘোর বরষার মতো ঘোর করোনা উপেক্ষা করে জিতে যায় পত্রিকার নেশা।

গা–ছমছম অফিসে নির্ভরযোগ্য জয়দেব

কোনো মানুষ নেই, কিন্তু কম্পিউটারগুলো সচল। কারণ, সিস্টেমে কাজ চলছে বাড়িতে বাড়িতে। পাতা তো তৈরি হলো, কিন্তু ছাপাখানায় পাঠানোর জন্য আউটপুট দেবে কে? একজন অন্তত চাই। নির্ভরযোগ্য হিসেবে দায়িত্ব পড়ল গ্রাফিক ডিজাইনার জয়দেব সরকারের ওপর। ২১ এপ্রিল থেকে ৬ জুন। দেড় মাস এই দুরূহ কাজটা টানা করে গেছেন জয়দেব। পরে তাঁর সঙ্গে এসে যোগ দিয়েছিলেন একই বিভাগের আরেক তরুণ আবু সাঈদ।

জয়দেবের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে খুঁজে পাই ভেতরের মানুষটাকে। মাকে নিয়ে সংসার। চার ভাইবোন। বাবা মারা যাওয়ার সময় সবার দায়িত্ব দিয়ে গেলেন বড় সন্তান তাঁকেই। সেই থেকেই সবার বিয়ে, সংসার, সন্তান, কাজ—সবটাতেই ছায়া হয়ে আছেন। বুঝতে পারি জয়দেব কেন নির্ভরযোগ্য। ভয় লাগেনি? প্রশ্ন শেষ করার আগেই আত্মবিশ্বাসে উত্তর, ‘নাহ্​, অশোকদা (প্রধান শিল্প নির্দেশক অশোক কর্মকার) ফোন করে বললেন তোকে দায়িত্ব নিতে হবে, আমি এক দিনও বাদ দেই নাই।’ মা রাজি হলো? ‘মাকে বলি নাই যে আমি একা অফিসে। মায়ের মন তো, ভয় পেয়ে যেত। আসতাম বিকেলে। ফিরতাম গভীর রাতে। পিপিই পরে থাকতাম। অফিসের গাড়িতে আসা-যাওয়া। তবে মানুষের শব্দের অভাব বোধ করতাম। এরই মধ্যে আইটি বিভাগের জরুরি সেবা দিতে আসা রোনাল্ড কিংবা অনীকের মতো কারও সঙ্গে দেখা হলে কিংবা হঠাৎ শুকনা খাবার নিয়ে পল্লব ভাই (যুগ্ম ফিচার সম্পাদক পল্লব মোহাইমেন) দেখা করে গেলে মনে হতো এই তো মানুষ আছে।’

হোয়াটসঅ্যাপ, জুম এবং বাংলা কল

সহকারী বার্তা সম্পাদক আবুল হাসনাত হোম অফিসের এক দিনের হিসাব দিয়ে বললেন, বেলা ২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত তাঁর মুঠোফোন দিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেছেন ৮৫টি কলে। আর এসএমএস চালাচালি করেছিলেন ৩০৫টি। তাঁর ভাষায়, ‘পাগল হওয়ার জোগাড়’। উপবার্তা সম্পাদক রাজীব হাসান বললেন, ‘হোয়াটসঅ্যাপ, জুম, গুগল মিটে চলত নানা ধরনের যৌথ মিটিং। সম্পাদকের সঙ্গে, নিজেদের ছোট দলে, একটু বড় কলেবরে। এরই মধ্যে ঢুকে যেত বাংলা কল। কেটে দিলে আবার ঢুকত। ওরে যন্ত্রণা।’ বাংলা কলটা কী? হো হো করে হেসে দিলেন তিনজন। হেড অব রিপোর্টিং টিপু সুলতান, ডেপুটি হেড অব রিপোর্টিং ইমাম হোসেন সাঈদ আর রাজীব। নরমাল কলকে লকডাউনে বাংলা কল নাম দিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের কাছ থেকে গল্প শুনি সেই সব রিপোর্টার আর আলোকচিত্রীর, যাঁরা করোনাকে ভয় না পেয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁরাও যে সম্মুখযোদ্ধা, যাঁরা খবর বা ছবি সংগ্রহের জন্য নির্ভয়ে ঢুকে গেছেন করোনা হাসপাতালে। মোহাম্মদ মোস্তফা কিংবা শুভ্রকান্তি দাশ। ড. আনিসুজ্জামানের দাফন হচ্ছে, তাঁরা উপস্থিত কবরস্থানের ভেতরে। মুশতাক আহমেদ বা সাইফুল ইসলাম। এ রকম উদাহরণ আরও অনেক দেওয়া যায়। পত্রিকায় শব্দসংখ্যা সীমিত। তবে স্যালুট জানাই সবাইকে।

হোম অফিসের সময় অনলাইনে মিটিংগুলোর নানা নাম হয়েছিল। আমাদের প্রথম মিটিংয়ের নাম ছিল ‘সকাল ১০টা’, আবার বার্তা বিভাগের জরুরি বৈঠক ‘মিটিং থ্রি থারটি’, আবার ফিচারের ‘গ্রপ ফিচার’—এভাবে বিশাল বাংলা, বাণিজ্য, ক্রীড়া, সম্পাদকীয়, বিনোদন, আন্তর্জাতিক—প্রতিটি বিভাগই তাদের মতো করে দূরে থেকেও কাছে থেকেছে। একজন আরেকজনের শক্তি হয়েছে। করোনাবিষয়ক সবচেয়ে অভিজ্ঞ বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল নিজেই যখন করোনায় আক্রান্ত হলেন, তখন রিপোর্টার দলের নেতাকে একই সঙ্গে দুটো কাজ করতে হয়েছে। শিশিরের মনোবল যাতে ভেঙে না পড়ে, পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত তরুণ প্রতিবেদক যেন সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে পারেন। দায়িত্ব এসে পড়ল রিয়াদুল করিম আর শামসুর রহমানের কাঁধে বেশি। আবার এই শিশির মোড়লই সুস্থ হয়ে চিরকুমার (আজ পর্যন্ত) টিপু সুলতান করোনায় আক্রান্ত হলে রেড জোনে গিয়ে খাবার দিয়ে আসেন তাঁর বাড়িতে। টিপু বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে গভীর রাতে সম্পাদকের তত্ত্বাবধােন তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান প্রথম আলোর কর্মীরাই। জরুরি জুম মিটিং থেকে বেরিয়ে উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছিকে অসুস্থ সহকর্মীর করোনা পরীক্ষা করার ব্যবস্থা নিতে হয়।

হোম অফিসের শুরুতে বাড়ির বাচ্চারা নাকি খুশি হয়েছিল। বাবা অফিসে যাবে না। কিছুদিন পর তারা ব্যাপক হতাশ। বাবা ফোন ছাড়ে না। কখনো হোয়াটসঅ্যাপ, কখনো গুগল মিট, কখনো বাংলা কল...।

যাত্রী একই তরণির

মেকআপ শেষ, এর মধ্যেই এল নতুন বিজ্ঞাপন। ভাঙ মেকআপ। মনে গজগজ। গ্রাফিক ডিজাইনারকে একটু তোষামোদ করে আবার পাতা বানাও। কনটেন্ট আর বিজ্ঞাপন বিভাগের কর্মীদের এ লড়াই চিরচেনা। অথচ লকডাউনের মধ্যে যখনই বিজ্ঞাপন বিভাগের কারও ফোন পেতাম ‘আপা নকশায় এবার পাঁচটা, ‘আশায় বুক বাঁধতাম।’ আর গ্রাফিকসের মনিরুল ইসলামও একবাক্যে কাঁধে তুলে নিতেন পাতার মেকআপের বাড়তি চাপ। সার্কুলেশনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অরূপ কুমার ঘোষের কাছে জানতে চাইলাম কী করে সামলেছেন লকডাউন? বললেন প্রেস, বাইন্ডিং, বিতরণ—তাঁরা তো মাঠেই কাজ করেছেন, ঝুঁকি নিয়েই। আমরা সুরক্ষার চেষ্টা করেছি। ফ্ল্যাটে পত্রিকা ঢুকতে দিত না। ফার্মেসিতে রাখতাম। জরুরি সেবার আওতায় সংবাদপত্র, তবু পত্রিকার গাড়ি আটকে দিত, তা ছাড়াতে হতো। কাগজের মাধ্যমে করোনা ছড়ায় না—বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এই বার্তা প্রচার করার চেষ্টা করেছি। তবে পাশে ছিলেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম হকার্স সমিতি কিংবা এজেন্ট আইয়ুবের মতো মানুষেরা।

করোনায় আক্রান্ত কর্মীর পাশে থাকার চেষ্টা করেছে প্রশাসন, মানবসম্পদ বিভাগ। প্রথম আলোর জ্যেষ্ঠ পরিবহন সহকারী একরামুল হকের কথাই বলি। যে সময় করোনায় আক্রান্ত মাকে জঙ্গলে ফেলে এসেছে সন্তানেরা, সেই সময় প্রথম আলোর করোনায় আক্রান্ত কর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে সশরীর সহযোগিতা করেছেন একরাম। অফিস সহকারী মো. ফরিদ উদ্দীনও তেমনই একজন। কর্মীরা এবং তাঁদের পরিবার যাতে মানসিকভাবে চাঙা থাকে, তাই তাদের জন্য সৃজনশীল কাজের প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হলো। ছবি তোলা, লেখা, ভিডিও। ব্যস্ত থাকুন সৃজনশীল পরিবেশে।

নতুন ভোরে নতুন আলোয়

মুখে মুখে কথাটা শুনেছি অনেক। ২০২০ টিকে থাকার বছর। প্রতিদিনের জীবনযুদ্ধে তা আরও স্পষ্ট। তবু ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জেগে ওঠে ফিনিক্স পাখি। এটা ঠিক, প্রথম আলোর আদল বদলেছে লকডাউনে। কিন্তু পাঠককে নতুন ভোরে নতুন কিছু দেওয়ার আকাঙ্ক্ষা বেড়েছে বৈ কমেনি। তাই তো করোনার খবরে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া বিমর্ষ পাঠকের জন্য সম্পাদকের পরামর্শে বেশ কয়েকটি নতুন উদ্যোগ নেওয়া হলো। সুখবর খুঁজতে শুরু করি আমরা। পাঠকের মন ভালো রাখতে হবে যে। ‘অফুরন্ত সূর্যালোক, বুক ভরা হাওয়া’ শিরোনামের লেখা দিয়ে ১১ এপ্রিল শুরু হলো করোনাকালে জীবনগাথা—পাঠকের লেখা। দেশ-বিদেশ থেকে পাঠকেরা লিখলেন, নাকি মন হালকা করলেন খানিকটা? হাসতে হবে, বাঁচতে হবে, খাটাতে হবে মাথা। শুরু হলো ‘একটু থামুন’। কার্টুন কুইজ পাজল। ঘরে বসে থাকা মানুষকে ভালো কিছু পড়তে দিতে হবে। ৫–এর পাতায় দীর্ঘ প্রতিবেদন। পাঠকের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় সম্পাদকের পরামর্শে ৪৮ ঘণ্টার প্রস্তুতিতে এল স্বাস্থ্যবিষয়ক নতুন পাতা প্র স্বাস্থ্য। আর বলার অপেক্ষা রাখে না করোনাকাল সংবাদপত্রজগৎকে বাধ্য করেছে নতুন যুগের সাংবাদিকতায় দ্রুত প্রবেশ করতে। নতুন স্বাভাবিকতায় নতুন সাংবাদিকতা। তাইতো চাহিদা বাড়ে ইনফো গ্রাফিক কিংবা ভিডিওর। একটু দেখায়, একটু রেখায় অনেক কথা বলা হয়ে যায়।

যাহা বুধ তাহাই শুক্র

সাধারণ সময়ে সম্পাদক অফিসে আসতেন বেলা ১১টায়। আর হোম অফিসে সকাল সাড়ে সাতটায় ঝরঝরে গলায় সম্পাদকের প্রথম ফোন ‘হোয়াটসঅ্যাপ চেক করেন, একটা ভিডিও পাঠিয়েছি, সবাইকে দেখতে বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইনফো গ্রাফিকসটা খুবই জরুরি...।’ ভোরে মেইল চেক করতে গিয়ে দেখা যেত সম্পাদকের জরুরি মেইল। পাঠানোর সময় রাত দেড়টা। আমরা সবাই ভুলে গিয়েছিলাম সপ্তাহের বারের কথা। যাহা বুধ তাহাই শুক্র।

না বলাই থেকে গেল বেশি

যা বলা হলো, তার চেয়ে না বলাই থেকে গেল বেশি। দুর্যোগে–দুঃসময়ে প্রমাণিত হয় শক্তি। করোনা দুর্যোগে এক দিনের জন্যও নিভে যায়নি প্রথম আলোর আলো। খুব জোরে বাতাসের ধাক্কা লাগলে কুপির আলো যেমন দুলতে থাকে, তেমনটা হয়েছে ঠিকই। তবে হঠাৎ দুটো হাত দুই পাশ থেকে এসে আটকে দেয় দমকা হাওয়া, তেমনি প্রথম আলোর সেই হাত দুটি হলো পাঠকের হাত। তারা আস্থা রাখে আলোয়। তাই তো বিশ্বজুড়ে নেমে আসা দুর্যোগেও প্রথম আলো আবার নতুন স্বপ্ন দেখে এবং দেখায়।


সুমনা শারমীন ফিচার সম্পাদক