অচেনা রোগে হাসপাতালে শিশু তাইন
ভর্তির পাঁচ দিন পরও শিশু তাইনের রোগ শনাক্ত করতে পারেননি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকেরা। তাঁরা শুধু বলেছেন শিশুটি বিরল রোগে আক্রান্ত। রোগ শনাক্ত হলেই তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
অস্বাভাবিক আকৃতির দুই পা নিয়ে গত ২৯ মার্চ ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ভর্তি হয়েছে যশোরের যোগীপাড়ার মো. নাজমুল হোসাইনের চার বছরের ছেলে মো. আসওয়াদ হোসাইন তাইন। আজ শনিবার নাজমুল হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি চাই আমার ছেলে সুস্থ হয়ে উঠুক। কিন্তু তার আগে জানতে চাই আমার ছেলের রোগটি আসলে কী?’
নাজমুল ও তাঁর স্ত্রী তানজিয়া শারমিনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, তাদের দুই যমজ ছেলে আসওয়াদ তাইন ও সুলতাজেম মোস্তাকিম। জন্মের পর থেকেই তাইনের পা ও নিতম্ব অস্বাভাবিক বড় এবং শরীরে তাপ বেশি। এত দিন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের পরামর্শমতো চলেছেন। ফল না পেয়ে ঢাকা মেডিকেলে এসেছেন।
আজ দুপুর দেড়টার দিকে তাইনকে নেওয়া হয় শিশু বিভাগের ২১০ নম্বর ওয়ার্ডে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাইনের পা দেখার পর ১৩৫ নম্বর কক্ষে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকের কক্ষে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর ওই কক্ষে হাজির হন শিশু বিভাগের প্রধান মো. আবিদ হোসেন মোল্লা।
কক্ষ থেকে বের হয়ে আবিদ হোসেন মোল্লা এই প্রতিবেদককে বলেন, এটি একটি বিরল রোগ। তবে কী রোগ, তা এখনই বলা সম্ভব হচ্ছে না। এরপর তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা বিভাগীয় প্রধানের কক্ষে যান। তাঁদের কাছে থাকা বইপত্র ও ইন্টারনেট ঘেঁটে লক্ষণ মিলিয়ে জানার চেষ্টা করেন রোগটা কী। তবে নির্দিষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
তাইনের দুই পায়ের পাতা অস্বাভাবিক বড়। প্রতিটি পায়ের তিনটি আঙুল অনেক বড় ও মোটা। বাঁ পাশের নিতম্বে মাংস অনেক বেশি। চিকিৎসকেরা এক্স-রে প্রতিবেদন দেখে বলেছেন, পায়ের পাতার হাড়গুলো বড় হয়েছে। তাইন তীব্র অপুষ্টির শিকার।
পরে আবিদ হোসেন মোল্লা এই প্রতিবেদককে বলেছেন, এটি জন্মগত ও বিরল রোগ এটুকুই আপাতত বলা সম্ভব হচ্ছে। রোগটি সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করার চেষ্টা তাঁরা অব্যাহত রাখবেন।