default-image

হাওরবেষ্টিত একটি অঞ্চল বা জেলা হচ্ছে কিশোরগঞ্জ। সেই ব্রিটিশ–পূর্ববর্তী সময় থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তির সঙ্গেই যেন এই কিশোরগঞ্জ জেলার নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এ দেশের অঞ্চলগুলো যেমন তার স্বতন্ত্র ভাষা ও সংস্কৃতি দ্বারা আলাদা, তেমনি এই কিশোরগঞ্জ জেলাও তার নিজস্ব লোকসংস্কৃতিতে অনন্য।

এ জেলার শহর থেকে গ্রাম, হাওর থেকে বাঁওড়ে লুকিয়ে আছে নানা সংস্কৃতি। বাংলা সাহিত্যের মঙ্গলকাব্যের প্রথম রচয়িতা দ্বিজবংশী দাসের পুণ্যভূমি এ কিশোরগঞ্জ। তাঁরই কন্যা মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের আদি মহিলা কবি চন্দ্রাবতী। তিনিই রামায়ণের সার্থক অনুবাদকারী ফোকলোর কাব্যের নায়িকা। তা ছাড়া ড. দীনেশ চন্দ্র সেন যে গীতিকাকে উদ্ধার করে ইংরেজিতে অনুবাদ করে আমাদের বিশ্বের কাছে বরেণ্য করে তুলেছেন, তার ৪৪টি গীতিকার মধ্যে ৩০টি এ অঞ্চলের ছিল বলা যায়। কিশোরগঞ্জের নিজস্ব ভাষারীতি এ অঞ্চলের মানুষকে একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য দান করেছে। তাই তো সুযোগ পেলেই কথা বলেন রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। প্রাণ খুঁজে পায় সাধারণ মানুষও।

ঐতিহ্যের প্রাচীনতা থাকলেও কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতিচর্চার সর্বগামী ব্যাপকতা খুব একটা প্রাচীন নয়। সাধারণত বড় বড় ব্যবসাকেন্দ্র এবং বাণিজ্যিক এলাকাকে ঘিরেই এ জেলায় সংস্কৃতিচর্চার বলয় গড়ে ওঠে। ঊনবিংশ শতকের ষষ্ঠ দশকে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে আমন্ত্রিত শিল্পীরা ভৈরবে এসে যাত্রাপালা ‘রামলীলা’ পরিবেশন করেছিলেন বলে জানা যায়। ১৮৮৩ সালে এ অঞ্চলে বিদেশিরা নাট্যাভিনয়ের প্রথম সূত্রপাত ঘটান।

জানা যায়, রমণী প্রসাদ নিকলী উপজেলায় একটি নাট্য সংগঠন গড়ে তোলেন এবং এর আদলে ‘কৃষ্ণকীর্তন’, ‘রাধাকৃষ্ণ’সহ পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর অনেক নাটক মঞ্চায়ন করেন। বিংশ শতকে ভৈরবে বেণীমাধব ভট্টাচার্য একটি যাত্রাদল গঠন করেন, যা ভারতবর্ষে অনেক খ্যাতি অর্জন করেছিল।

স্বাধীনতা–পরবর্তীকালে কিশোরগঞ্জের সংস্কৃতির আঙিনায় এক নতুন মাত্রা যোগ হয়। জেলার আর্টস কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে নব উদ্দীপনায় এখানে নাটক ও সংগীতের সুবাতাস বইতে শুরু করে। নবান্ন উৎসব শেষে পালাগান, বাউলগান, নাটক, লাঠিখেলা, যাত্রাপালার আসর বসতে থাকে। এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রখ্যাত বাউলসংগীত–শিল্পীদের এনে সারা রাতব্যাপী বাউল গানের আসর বসে।

শিশু একাডেমি জেলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করার জন্য আগামী দিনের কুশলী শিল্পী সৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনে কিশোরগঞ্জ জেলা যেন কৃতিত্বের সাক্ষী রেখে চলেছে। বর্তমানে সংগীত, নাটক, যাত্রাপালা এমনকি চলচ্চিত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে এ জেলা।

*লেখক: শিক্ষার্থী

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন