অনশনরতদের চিকিৎসাসেবা ও অর্থ সহায়তা নেওয়ার মুঠোফোন নম্বর বন্ধ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
ফাইল ছবি

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন আহমেদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার রাতে চিকিৎসকদের দল স্বাস্থ্যসেবা বন্ধের পর রাত আড়াইটার দিকে সংবাদ সম্মেলন করেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের খাবার ও চিকিৎসার খরচ জোগাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে যে নম্বরগুলোতে তাঁরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা নিতেন, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার দুপুরে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন শুরুর পর শাবিপ্রবির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে একটি চিকিৎসক দল গঠন করে চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও হাসপাতালটির ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. নাজমুল হাসান।

চিকিৎসাসেবা বন্ধের বিষয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সেখানে যাঁরা অসুস্থ হচ্ছেন, তাঁদের সবারই করোনার উপসর্গ রয়েছে। সোমবার তাঁদের বুকের এক্স-রেও করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা শিক্ষার্থীদের আরটি–পিসিআরে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে তাঁদের কেউই যেতে রাজি হননি। সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হলেও কাউকে না জানিয়ে চলে যাচ্ছেন তাঁরা।

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মো. নাজমুল হাসান আরও বলেন, ‘যদি সেখানে কেউ করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন, তাহলে সেটি সবার মধ্যে ছড়াবে। এর পাশাপাশি চিকিৎসক দলেও ছড়াবে। এ জন্য আমরা সাময়িক স্থগিত রেখেছি।’

সোমবার মধ্য রাতের জরুরি সংবাদ সম্মেলনে আন্দোলনকারী আরিফুল ইসলাম বলেন, আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সব মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর সোমবার দুপুরের পর থেকে কাজ করছে না। ওই মুঠোফোন নম্বরগুলো সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, অনশনরত শিক্ষার্থীদের সবার অবস্থার অবনতির দিকে যাচ্ছে। তাঁরা ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।

প্রথম আলোর পক্ষ থেকে মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরগুলো সংগ্রহ করে ফোন দেওয়া হলে সেগুলো বন্ধ করা হয়েছে বলে জানানো হচ্ছে।

এদিকে আজ মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত অনশনরত ২৮ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অনশন করছেন নয় শিক্ষার্থী। তাঁদের পাশে অন্য সহপাঠীরাও আছেন।

শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত ১৩ জানুয়ারি। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম সিরাজুন্নেসা চৌধুরী হলের প্রাধ্যক্ষ জাফরিন আহমেদের বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ তুলে তাঁর পদত্যাগসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন হলের কয়েক শ ছাত্রী। ১৫ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ছাত্রীদের আন্দোলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। ১৬ জানুয়ারি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি ভবনে উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করেন। তখন পুলিশ শিক্ষার্থীদের লাঠিপেটা করে ও তাঁদের লক্ষ্য করে শটগানের গুলি ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে। ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। এর পর থেকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের পদত্যাগের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।