default-image

শেখ শাহজাহান আলী ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক। ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার চাকরিজীবন শেষ করে গেছেন অবসরে। আর ঠিক সেদিনই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠি পৌঁছেছে তাঁর কাছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। কেন তাঁকে শাস্তি দেওয়া হবে না, সে ব্যাপারে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে হবে। চাইলে শাহজাহানকে ব্যক্তিগত শুনানির সুবিধাও দেবে মন্ত্রণালয়।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান অভিযোগনামার এই চিঠি পাঠান।
শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে প্রায় দুই বছর আগে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তখন তিনি ছিলেন সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক। হাসপাতালটিতে যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে ভুয়া বিল পাস করিয়ে ৬ কোটি ৬ লাখ ৯৯ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ করা হয়। ওই সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে শাহজাহান আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল। গত বছরের শেষের দিকে দুদক মামলা করে। কিন্তু সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে আমলে নেয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তখন কেবল তাঁকে বদলি করা হয়, পরে দেওয়া হয় পদোন্নতিও।

বিজ্ঞাপন

১১ মাস আগে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর দুদক মামলা করে। এর আগে ওই বছরের ১৫ মে দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দল হাসপাতালে গিয়ে যন্ত্রপাতির খোঁজ করেন। কিন্তু কোনো অস্তিত্ব পাননি।

আর এত দিন পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দায়ের করা বিভাগীয় মামলায় বলা হয়েছে, শাহজাহান আলী চাহিদা ছাড়াই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া চিত্র সংরক্ষণাগার যোগাযোগব্যবস্থা নামে সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি কেনেন। কিন্তু কেনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া বাজারদর, দরপত্র উন্মুক্তকরণ, দরপত্র মূল্যায়ন ও সার্ভে কমিটি নিজেই গঠন করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

জানতে চাইলে শেখ শাহজাহান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ওই হাসপাতালে এখন যন্ত্রপাতি রয়েছে। তিনি বলেন, একদিন হঠাৎ দুদক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আসেন হাসপাতালে। সে সময় যন্ত্রপাতি অন্য কক্ষে তালা মারা ছিল। তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে জানিয়ে সাবেক এই স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বলেন, ‘আমি অবসরোত্তর ছুটিতে এলাম। আর এখন আমার বিরুদ্ধে চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। সব কারণ ব্যাখ্যা করে চিঠির জবাব দেওয়া হবে।’

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরঞ্জাম কেনার জন্য মেসার্স মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের সঙ্গে পৃথকভাবে চুক্তি করেন এবং ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে কার্যাদেশ দেন শাহজাহান আলী। কিন্তু ওই সফটওয়্যার সরবরাহ না হওয়া এবং না পাওয়া সত্ত্বেও কার্যাদেশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানের পক্ষে তিনটি তারিখে বিল ভাউচার পাস করিয়ে জেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে দাখিল করেন।

বিজ্ঞাপন

এ মামলা তদন্ত করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. ফেরদৌস রহমান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখন থাকলে কী হবে? তখন এসব যন্ত্রপাতির কোনো অস্তিত্ব ছিল না। তা ছাড়া বেশি দাম দেখিয়ে এসব কেনা হয়েছে। আমাদের কাছে সব প্রমাণ আছে।’

মেসার্স মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। তাঁদের কেউ বিদেশে আছেন, কেউ পলাতক। সম্প্রতি ১৪ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মেসার্স মার্কেন্টাইল ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নাম সেই তালিকায় রয়েছে।

সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক রফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি ২০১৯ সালের জুলাই মাসে যোগদান করেন। তিনি এসে যন্ত্রপাতি পেয়েছেন। এরপর তিনি নিজেই বলেন, ‘ওহ ভুলে গেছি, আমি আসার তিন মাস পর অনেক যন্ত্রপাতি এসেছে। ইনস্টল হয়েছে। এর বেশি কিছু জানি না।’

মন্তব্য পড়ুন 0