রাজধানী ঢাকা এখনো শিক্ষা, চিকিৎসা ও চাকরির প্রধান গন্তব্য। ফেরিঘাটে অপেক্ষায় থেকে রোগীর প্রাণহানির শঙ্কা কিংবা ভোগান্তির ভয়ে উন্নত চিকিৎসার ইচ্ছাকে মাটিচাপা দেন অনেকে। পদ্মা সেতু চালু হলে রোগীকে আর এভাবে অপেক্ষায় থাকতে হবে না। প্রত্যন্ত গ্রামের তরুণও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখতে সাহস পাবেন। স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত খরচ কমে যাবে। আবার দক্ষিণাঞ্চলে শিল্পায়নের মধ্য দিয়েও কর্মসংস্থান বাড়বে।

ফেরি যাতায়াত এড়াতে অনেকেই স্পিডবোট কিংবা লঞ্চে পাড়ি দিতেন। এটা একদিকে ঝুঁকির, আবার বাড়তি খরচের বোঝাও। স্পিডবোটে পদ্মা পাড়ি দিতে প্রত্যেককে প্রায় ২০০ টাকা দিতে হয়। প্রায়ই স্পিডবোট দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়। পদ্মা সেতু এসব শঙ্কা ও ঝুঁকি কমিয়ে আনবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী, পদ্মার ওপারের ২১টি জেলায় ১৩৩টি উপজেলা আছে। এসব উপজেলার মধ্যে ৫৩টি উচ্চ দারিদ্র্য ঝুঁকিতে আছে। এর মধ্যে ২৯টি বরিশাল বিভাগে। এ ছাড়া ৪২টি উপজেলা মধ্যম দারিদ্র্য এবং ৩৮টি নিম্ন দারিদ্র্য ঝুঁকিতে আছে। রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগের পর খুলনা ও বরিশাল বিভাগে দারিদ্র্যের হার বেশি। এ দুটি বিভাগে দারিদ্র্যের হার যথাক্রমে সাড়ে ২৭ ও সাড়ে ২৬ দশমিক ৫০ শতাংশ।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সেতু চালুর পর ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হলে দ্রুত ওই সব এলাকার মানুষের আয় বেড়ে দারিদ্র্য বিমোচন হবে।

সেতুর অভাবে এত বছর দক্ষিণাঞ্চলে বড় কোনো শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি। জীবন-জীবিকার তাগিদে ঢাকামুখী স্রোত ছিল সেখানকার মানুষের। তবে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকে নদীর ওপারে শিল্পকারখানা স্থাপনের দিকে ঝুঁকতে থাকে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা। বেশ কয়েকটি শিল্পকারখানা দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। আবার কোথাও কোথাও শিল্পকারখানার নির্মাণকাজ শুরু হতে যাচ্ছে শিগগিরই। এতে ঢাকামুখী না হয়ে নিজ এলাকায় কর্মসংস্থানের স্বপ্ন দেখছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ।

পদ্মা সেতু নিয়ে ২০১৯ সালে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) একটি মূল্যায়ন প্রতিবেদন তৈরি করে। আইএমইডি কর্মকর্তারা পদ্মা সেতুর আশপাশের কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার ৭৫০ ব্যক্তির ওপর জরিপ চালান। এতে অংশ নেওয়া ৩০ শতাংশ জানান, সেতুর কাজ শেষ হলে তাঁদের আয় ১৬ থেকে ২০ শতাংশ বাড়বে। পদ্মা সেতু চালুর পর প্রায় সাড়ে সাত লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দারিদ্র্যহার হ্রাসে গতি বাড়বে দশমিক ৮৪ শতাংশ।

পায়রা, কচা, পদ্মা—এই তিন নদী দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল, রাজধানীসহ সারা দেশের সঙ্গে বরিশালকে বিচ্ছিন্ন রেখেছিল। এগুলো চালুর মাধ্যমে বরিশাল বিভাগ হবে ব্যবসা-বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এ অঞ্চল হবে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। জাজিরা থেকে কুয়াকাটা, বরিশাল থেকে মোংলা, খুলনা অঞ্চলে শিল্পের প্রসার ঘটবে। এসব এলাকায় ইতিমধ্যে অনেক শিল্পোদ্যোক্তা জমি কিনেছেন।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন