অবৈধ রিকশার গ্যারেজ ব্যবসা জমজমাট

মিরপুরের বাউনিয়াবাদে অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ িরকশা। ছবিটি গতকাল দুপুরের। প্রথম আলো
মিরপুরের বাউনিয়াবাদে অবাধে চলছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ িরকশা। ছবিটি গতকাল দুপুরের। প্রথম আলো

প্রধান সড়কে প্রবেশে মানা, তবে মিরপুরের অলিগলিতে দেদার চলছে ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা। দিন শেষে এই রিকশাগুলোর ঠাঁই হয় মিরপুরের বাউনিয়াবাদে। ফলে সেখানে রাস্তা এবং খালি জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে একের পর এক গ্যারেজ।

বাস্তুহারাদের পুনর্বাসনের জন্য বাউনিয়াবাদে ৮৭ একর জমি রয়েছে। এর চারদিক ঘিরে রাস্তা। অভিযোগ আছে, স্থানীয় প্রভাবশালীরাই ব্যাটারিচালিত এসব অবৈধ রিকশার গ্যারেজ ব্যবসা খুলে বসেছেন। তাঁদের অনেকে আবার স্থানীয় কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠ। ফলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিও অবৈধ রিকশা বন্ধে কিংবা জায়গা দখল করে গ্যারেজ ব্যবসা খুলতে কোনো ধরনের বাধা দিচ্ছেন না।

হাইকোর্ট ২০১৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করে। তবে ঢাকার অন্যান্য অনেক এলাকায় কয়েক বছর ধরে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। বাউনিয়াবাদ এবং আশপাশের এলাকায় এখন সেই সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়ে। আর রিকশার গ্যারেজের সংখ্যা কয়েক বছর ধরে বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে বাউনিয়াবাদে রিকশার গ্যারেজের সংখ্যা কমপক্ষে ৭০।

গ্যারেজের মালিক মো. নুরু মিয়া আগে রিকশা সারাইয়ের কাজ করতেন। ব্যাটারিচালিত রিকশায় আয়ের সুযোগ বেশি থাকায় তিনি নিজেই বছর দেড়েক আগে ডি ব্লকে একটি গ্যারেজ খুলেছেন। নুরু মিয়া বলেন, একটা ব্যাটারিচালিত রিকশার রোজ ৩০০ টাকা জমা পান। আর সাধারণ রিকশায় দিনে জমা ১০০ টাকা। ব্যাটারি চার্জের জন্য বিদ্যুতের খরচও তেমন নয়। লাভ বেশি। তাই ব্যাটারিচালিত রিকশা কিনে তা ভাড়া দেওয়ায় গ্যারেজ মালিকদের আগ্রহ বেশি।

মিরপুর কালশী মোড় থেকে পুরো বাউনিয়াবাদ এলাকা, ১১ নম্বর সেকশনের বিভিন্ন ব্লক, ১২ নম্বর সেকশনের বিভিন্ন ব্লক, ১৩ নম্বরের বিভিন্ন অলিগলিতে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো চলে। কেবল প্রধান সড়কে ওঠে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব রিকশা চালাতে টোকেনের দরকার হয়, যা রিকশার পেছনে লাগানো থাকে। প্রতিটি ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য মাসিক এক হাজার টাকার বিনিময়ে এসব টোকেন মেলে। রিকশাচালক ও গ্যারেজের মালিকেরা জানিয়েছেন, স্থানীয় প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি ‘টোকেন ব্যবসা’ পরিচালনা করেন। প্রতি মাসে গ্যারেজের মালিকেরা চালকদের থেকে টাকা নিয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে দেন। এর বিনিময়ে নির্দিষ্ট ধরনের টোকেন আসে গ্যারেজে।

গতকাল মঙ্গলবার বাউনিয়াবাদের বিভিন্ন ব্লকে ঘুরে দেখা যায়, একটু পরপরই রিকশার গ্যারেজ। রাস্তার ওপর এবং ফাঁকা জায়গা দখল করেই এসব গ্যারেজ দেওয়া হয়েছে। বাউনিয়াবাদে পাঁচটি ব্লকের মধ্যে বি, ডি এবং ই ব্লকে গ্যারেজের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। এসব গ্যারেজে ব্যাটারিচালিত রিকশার পাশাপাশি প্যাডেলচালিত রিকশাও আছে। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য।

বি ব্লকে ১০ কাঠা জমি ওপর গ্যারেজ তৈরি করেছেন মো. জাহাঙ্গীর। তাঁর নিজের ৬০টি রিকশা রয়েছে। এর মধ্যে ২০টি ব্যাটারিচালিত। এর বাইরে অনেকে তাঁর গ্যারেজে রিকশা চার্জ করেন। প্রতিটি রিকশা চার্জ দিতে ২০ টাকা করে লাগে। মো. জাহাঙ্গীর বলছেন, ব্যাটারিচালিত রিকশার চাহিদা চালকদের মধ্যে বেশি। প্যাডেলচালিত রিকশাগুলো গ্যারেজে পড়েই থাকে।

গ্যারেজ মালিকের অনেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুর রউফের ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, নিজের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় অবৈধ রিকশা এবং গ্যারেজ মালিকদের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নেন না।

নাম না প্রকাশের শর্তে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বাউনিয়াবাদ ছোট জায়গা। কাউন্সিলর চাইলেই এসব অবৈধভাবে গড়ে ওঠা গ্যারেজ এবং অবৈধ রিকশা বন্ধ করতে পারেন। কাউন্সিলরের মৌন সম্মতি এবং চলাচল বন্ধ না করায় এসব ব্যাটারিচালিত রিকশার গ্যারেজ বাড়ছে।

যোগাযোগ করা হলে ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আবদুর রউফ বলেন, ‘বাউনিয়াবাদের রাস্তা সিটি করপোরেশনের নয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জায়গা দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদে সহায়তা চাইলে দেব। আর সরকারি দলের লোকেরা ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যবসায় যুক্ত হওয়ায় আমি কিছু করতে পারছি না।’