বিএনপি নেতা ইকবাল বলেন, ‘১২টি কেন্দ্রের ৬৯টি বুথের জন্য বিএনপির ১০০ জন পোলিং এজেন্টের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাঁদের বাড়িতে গিয়ে হুমকি দিয়ে আসছেন। এমনকি পুলিশও এ পর্যন্ত পাঁচ–ছয়জন পোলিং এজেন্টের বাড়িতে গেছে। যে কারণে বিএনপির সবাই আতঙ্কে ভুগছেন। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মনিরামপুরের আওয়ামী লীগের প্রার্থী কাজী মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সারা দেশে নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীরা যে ধরণের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছেন, তারই অংশ হিসেবে মনিরামপুর পৌর নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থী অভিযোগ করছেন। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।’

তারা বিএনপির কর্মী–সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। তাদের স্লোগান হলো, “ভোটকেন্দ্রে যাবি না, পিঠের চামড়া থাকবে না”।
শহীদ মো. ইকবাল হোসেন, যশোরের মনিরামপুর পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী

ভোলার দৌলতখান পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন (কাকন) গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর সমর্থকদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন। উপজেলা বিএনপির কার্যলয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি প্রার্থী বলেন, ‘নৌকার সমর্থকেরা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করেছেন। জনসংযোগে হামলা করেছেন। মাইক ভাঙচুর করেছেন। মাঠ ছেড়ে চলে যেতে বলেছেন।’

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভায় গত মঙ্গলবার থেকে তিন দিনে নৌকার সমর্থকেরা মোটরসাইকেল মহড়া দিচ্ছেন প্রতিটি এলাকায়। রাতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে।

default-image

নির্বাচন থেকে সরে যেতে বিএনপির মেয়র প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিএনপির সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যেতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপির মেয়র প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেনের। তিনি বলেন, নির্বাচন থেকে সরে যেতে তাঁদেরকে মুঠোফোনসহ বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। সুষ্ঠু ভোট হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন না। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান। ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর লোকজন ছয়-সাতটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আসতে নিষেধ করছেন।

লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ নাজিম উদ্দীন বলেন, হুমকি-ধমকির বিষয়টি বিএনপির মেয়র প্রার্থী জানিয়েছেন। নাশকতা ও সহিংসতা রোধে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের পাটোয়ারী উল্টো অভিযোগ করে বলেন, বিগত বিএনপি সরকারের আমলে এখানে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। কেন্দ্রে তারা পেশিশক্তি প্রয়োগ করেছিল। এবারও তারাই ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলা করতে পারে।

নৌকার পক্ষে ফল নেবার কৌশল গ্রহণ করা শেষ। এখন কেবল ভোটের দিন প্রয়োগের পালা।
সালমা আনিকা, কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌরসভা নির্বাচনে সুষ্ঠু ভোট হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি ও স্বতন্ত্র এক মেয়র প্রার্থী। এরই মধ্যে তাঁরা শঙ্কার কথা জানিয়ে প্রতিকার চেয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা বরাবর আবেদন করেছেন। ধানের শীষের তোফাজ্জল হোসেন খান উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক। এর আগে মেয়র পদে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে দুবার জয় পান। তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘প্রচারণায় পদে পদে বাধা পেয়েছি। পরিস্থিতি ভালো ঠেকছে না। ক্ষমতাসীনের মনে মন্দ কিছু আছে।’

একই শঙ্কার কথা জানালেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সালমা আনিকা। তাঁর স্বামী তরিকুল মোশতাক কটিয়াদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক আহ্বায়ক। সালমা বলেন, ‘নৌকার পক্ষে ফল নেবার কৌশল গ্রহণ করা শেষ। এখন কেবল ভোটের দিন প্রয়োগের পালা।’

তবে দুই শক্ত প্রতিপক্ষের অভিযোগকে নিছক নির্বাচনী কৌশলী বক্তব্য হিসেবে দেখছেন নৌকার শওকত উসমান। তিনি বর্তমান মেয়র।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন