অলরাউন্ডার রামিসার গল্প

রামিসা মালিয়াত l ছবি: সৌরভ দাশ
রামিসা মালিয়াত l ছবি: সৌরভ দাশ

তিন বছরের দুরন্ত রামিসা। টেলিভিশনে নাচের অনুষ্ঠান এলেই স্থির। অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। ব্যাপারটা ধরা পড়ে মায়ের চোখে। মা মাস ছয়েক বাদে মেয়েকে নিয়ে হাজির শিশু একাডেমীতে। ভর্তি করিয়ে দিলেন নাচের ক্লাসে। সেই শুরু। নাচের সঙ্গে ঘর বসতি। শুধুই কী নাচ! অভিনয়, গান ও আবৃত্তিতেও সমানে-সমান। যেকোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নিলেই বাজিমাত।
গল্পটা ২০১০ সালে মার্কস অলরাউন্ডার খেতাব জয়ী রামিসা মালিয়াতের। পঞ্চম শ্রেণিতে থাকা অবস্থায় এই খেতাব জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল চট্টগ্রামের এই মেয়েটি। ছোট্ট রামিসা এখন নবম শ্রেণির ছাত্রী। পড়ছে বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চবিদ্যালয়ে। পড়াশোনার পাশাপাশি নাচ আর আবৃত্তি নিয়েই কাটছে সারা বেলা।
কৈশোরে এমন সাফল্য, অনুপ্রেরণা কার? প্রশ্ন শুনেই এক গাল হেসে পাশে বসা মা নাজমা করিমের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমার সবকিছুর মূলে মা-বাবা। আর মঞ্চের সঙ্গে ভালোবাসাটা সেই ছোটবেলা থেকেই। যেকেনো প্রতিযোগিতায় মা আমাকে নিয়ে যেতেন। পুরস্কারও জিততাম। আমার খুব ভালো লাগত। এভাবেই নিজের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। যার ফলে আমি পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই মার্কস অলরাউন্ডার হই।’
মার্কস অলরাউন্ডার প্রসঙ্গ আসতেই রামিসার চোখমুখে আনন্দের ঝিলিক। চার বছর আগের সেই দিনগুলোর কথা একেবারে জ্বলজ্বলে তার স্মৃতিতে। এখনো কানে বাজে বিচারকদের কথা। ওই সময় বিচারক ছিলেন জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, কণ্ঠশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ ও অভিনয়শিল্পী অপি করিম। তিনজনই তার নাচ দেখে উচ্ছ্বসিত।
রামিসার মার্কস অলরাউন্ডার হওয়ার পেছনের গল্পটা অনেকটা ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’ টাইপের। আগের বছর ২০০৯ সালে এই প্রতিযোগিতায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত গিয়েও ছিটকে পড়ে। মা-মেয়ের মনে জেদ চাপে—দেখি এবার কে হারায়। এভাবেই প্রতিটি বিভাগে মনোযোগ দেয় রামিসা। যার ফল পায় পরের বছরই।
রামিসা এ পর্যন্ত নাচ, গান ও অভিনয়ে জিতেছে শ খানেক পুরস্কার। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ২০০৯ সালে জাতীয় শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় ভরতনাট্যমে স্বর্ণপদক, ২০১১ সালে একই প্রতিযোগিতায় সাধারণ ও লোকনৃত্যে স্বর্ণপদক জিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া। এ ছাড়া আরও চারটি প্রতিযোগিতায় সে স্বর্ণপদক জিতেছে।
নাচ-গান নিয়ে পড়ে থাকলেও রামিসা পড়াশোনায়ও একেবারে পাক্কা। গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে জেএসসি পরীক্ষায়। ক্লাসেও প্রথম।
ভবিষ্যতে কী হতে চাও? রামিসার পটাপট উত্তর, ‘নাচ থাকবে সারা জীবন। পাশাপাশি অভিনয় করার ইচ্ছা আছে।’ অবশ্য লক্ষ্যের পথে এগোতে শুরু করেছে সে। এর মধ্যে বিজ্ঞাপনচিত্র ও মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছে।