বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এখন অস্ত্রোপচারের হার কিছুটা বেশি হয়ে গেছে। এটিকে কীভাবে সীমার মধ্যে রাখা যায়, তা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।
অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম, সভাপতি, ওজিএসবি

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ৪ হাজার ৮০৭টি প্রসবের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্ম (সিজারিয়ান সেকশন বা সি-সেকশন) হয়েছে ২ হাজার ৯৮১টি, যা মোট শিশু জন্মের ৬২ শতাংশ। ২০২০ সালে এ হার ছিল ৬২ শতাংশ। ২০১৯ সালে ছিল আরেকটু কম, ৫৭ শতাংশ।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আশরাফুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকা মেডিকেলে সাধারণত জটিল রোগীদের নিয়ে আসা হয়। এ কারণে এ হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের হার বেশি।

অবশ্য সার্বিকভাবেই বাংলাদেশে প্রসবের ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের হার বেশি। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ (বিডিএইচএস) অনুসারে, ১৯৯৯-২০০০ সময়ে দেশে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের হার ছিল ৩ শতাংশের মতো। ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে বাড়তে ২০১৭-২০১৮ সময়ে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৩ শতাংশে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, অস্ত্রোপচারে শিশু জন্ম ৫ শতাংশের নিচে এবং ১৫ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত নয়। একটি দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে এ হার ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত হলে মা, নবজাতক মৃত্যু কমে। এর বেশি হলে তা মা ও শিশু মৃত্যু কমাতে কোনো প্রভাব ফেলে বলে প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত মাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এত সময় দেন না। পরিবারগুলোও ধৈর্য ধরতে চায় না।
ডা. রেজাউল করিম কাজল, সহযোগী অধ্যাপক, বিএসএমএমইউ

ডব্লিউএইচও গত জুনে এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৮ সালের তথ্য অনুসারে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মহারের দিক দিয়ে ১৭২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ৩৮তম, মানে অনেক পিছিয়ে। ভারতে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের হার প্রায় ১৭, পাকিস্তানে ১৪, শ্রীলঙ্কায় ৩৩ ও মালদ্বীপে ৪১ শতাংশের কিছু বেশি।

করোনাকালে দেশে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের হার কত, তা স্বাস্থ্য জরিপ ছাড়া জানা সম্ভব নয়। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি চিত্র পাওয়া যায়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, এসব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হাসপাতালে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত ছয় মাসে ৪৩ হাজার ১১২টি শিশুর জন্ম হয়েছে অস্ত্রোপচারে, যা মোট প্রসবের প্রায় ২৬ শতাংশ। আগের বছর তা ছিল ২৫ শতাংশ। ২০১৯ সালে অস্ত্রোপচারে ২৭ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের (ডিজিএফপি) অধীনে জেলা পর্যায়ে ৬০টি মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের ব্যবস্থা আছে। সেখানে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে ২ হাজার ৪১৮টি শিশুর জন্ম অস্ত্রোপচারে হয়েছে, যা মোট প্রসবের প্রায় ১১ শতাংশ। এ হার ২০১৯ সালে ১৪ ও ২০২০ সালে ১১ শতাংশ ছিল। অবশ্য করোনাকালে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া মায়েদের সংখ্যা কম ছিল। ২০১৯ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা হাসপাতাল ও সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪ লাখ ২১ হাজারের বেশি প্রসব হয়। ২০২০ সালে তা ৩ লাখ ৪৪ হাজারে নেমে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ব্যবসায়িক মনোভাব ও স্বাভাবিক প্রসবে বেদনার ভীতির কারণে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের উচ্চ হার কমানো যাচ্ছে না। মানুষের আর্থিক সামর্থ্যও বেড়েছে। ফলে অস্ত্রোপচারের ব্যয় বহন করতে পরিবার অনেক ক্ষেত্রে আপত্তি করছে না।

অবশ্য চিকিৎসকেরা বলছেন, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার হলে তা নারীদের স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্য সমস্যায় ফেলতে পারে। যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে তা কখনো কখনো নারীর শরীরে স্থায়ী জটিলতা ও প্রতিবন্ধিতা তৈরি করতে পারে। কখনো কখনো মৃত্যুরও কারণ হয়। আন্তর্জাতিক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেনের ২০১৯ সালের তথ্য অনুসারে, বাংলাদেশে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের প্রতি ১০টি ঘটনার অন্তত ৬টি অপ্রয়োজনীয়।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা) মোহাম্মদ শরীফ প্রথম আলোকে বলেন, সরকার এখন অস্ত্রোপচার কমিয়ে স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করতে চাইছে। এ লক্ষ্যে ৮টি উপজেলায় স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রণোদনা দিয়ে পরীক্ষামূলক শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি সফল হলে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে শুরু করা হবে।

অস্ত্রোপচার কেন বাড়ল

স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন অবসটেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯০ সালে দেশে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের হার মাত্র ৩ শতাংশ ছিল। ওই সময় মাতৃমৃত্যু ছিল প্রতি লাখে ৪৫০-এর মতো। তখন অনেক মায়ের জটিল অবস্থা থাকলেও হাসপাতালে নেওয়া হতো না। সচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মাতৃমৃত্যু, নবজাতক মৃত্যু ও মৃত জন্ম প্রতিরোধে অস্ত্রোপচারের হার বাড়ানো হয়। ফলে মৃত্যু কমিয়ে আনা গেছে।

অধ্যাপক ফেরদৌসী আরও বলেন, গর্ভের শিশু অনেক বড় হলে, গর্ভে শিশুর অবস্থান আড়াআড়ি হলে, গর্ভফুল নিচে নেমে গেলে, মায়ের পেটে এমন জায়গায় টিউমার যে শিশু স্বাভাবিকভাবে বের হতে পারবে না—এসব ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার করতেই হয়। তবে এখন অস্ত্রোপচারের হার কিছুটা বেশি হয়ে গেছে। এটিকে কীভাবে সীমার মধ্যে রাখা যায়, তা নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘রিপোর্ট অন বাংলাদেশ স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০১৯’ অনুসারে দেশে প্রতি এক লাখ জীবিত শিশুর জন্মে মাতৃমৃত্যুর ঘটনা ঘটে ১৬৫টি। বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও স্বাস্থ্যসেবা জরিপ (বিএমএমএস) ২০১৬ অনুসারে, এ হার ১৯৬। এর মধ্যে ৩১ শতাংশ মৃত্যু হয় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে।

অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের হার বাড়ার ক্ষেত্রে আরও দুটি কারণ তুলে ধরেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. রেজাউল করিম কাজল। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত মাকে পর্যবেক্ষণে রাখতে হয়। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা এত সময় দেন না। পরিবারগুলোও ধৈর্য ধরতে চায় না। প্রসববেদনার ভীতি থেকেও অনেকে স্বেচ্ছায় অস্ত্রোপচার বেছে নেন।

হার উচ্চ বেসরকারি হাসপাতালে

বিডিএইচএস ২০১৭-১৮ সময়ের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে সন্তান প্রসবের ৫০ শতাংশ হয় স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র অথবা হাসপাতালে। বেসরকারি হাসপাতালে শিশু জন্মের ৮৪ শতাংশই হয় অস্ত্রোপচারে। এর মধ্যে ৪৮ শতাংশ অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় প্রসববেদনা ওঠার আগেই। সরকারি হাসপাতালে শিশু জন্মের ৩৬ শতাংশ ও বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) পরিচালিত হাসপাতালে ৪০ শতাংশ শিশুর জন্ম হয় অস্ত্রোপচারে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সমন্বিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার অস্ত্রোপচার হয়। এর মধ্যে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের আলাদা হিসাব রাখা নেই।

করোনাকালে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু জন্মের চিত্র জানতে চারটি প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করা হয়েছিল। দুটি কোনো তথ্য দিতে রাজি হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক সংস্থা মেরি স্টোপস তথ্য দিয়েছে। তারা সাতটি ক্লিনিক পরিচালনা করে। সংস্থার ব্যবস্থাপক (ক্লিনিক অপারেশনস) শারমিন খান প্রথম আলোকে জানান, চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে তাঁদের ক্লিনিকে ৮৩ শতাংশ শিশুর জন্ম হয়েছে অস্ত্রোপচারে। আগের বছর এ হার ছিল ৮০ শতাংশ। করোনাকালে অস্ত্রোপচার কিছুটা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ সময়ে বেশির ভাগ রোগী জটিল অবস্থায় ভর্তি হয়েছিলেন।

সাভারের আশুলিয়ার সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চাইল্ড হেলথের পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) মো. নূরল আলম প্রথম আলোকে জানান, এ বছরের প্রথম সাত মাসে তাঁদের হাসপাতালে ৪৭ শতাংশ শিশুর জন্ম অস্ত্রোপচারে হয়। তাঁরা স্বাভাবিক প্রসবকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করেন। তিনিও জানান, করোনাকালে মায়েরা জটিল অবস্থা নিয়ে ভর্তি হওয়ায় অস্ত্রোপচারের হার কিছুটা বেড়েছে।

বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সমন্বিত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মুবিন খান প্রথম আলোকে বলেন, ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিদিন ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার অস্ত্রোপচার হয়। এর মধ্যে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মের আলাদা হিসাব রাখা নেই।

খরচের ফারাক অনেক বেশি

রাজধানীর একটি অভিজাত বেসরকারি হাসপাতালে গত ১৬ মে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দেন ফাল্গুনী সাঈদ (৩০)। প্রথম আলোকে তিনি জানান, অস্ত্রোপচারের পূর্বসিদ্ধান্ত ছিল তাঁর। এরপর কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হওয়ায় তিনি বা চিকিৎসক স্বাভাবিক প্রসবের ঝুঁকি নিতে চাননি। চার দিনের প্যাকেজে তাঁর খরচ হয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার টাকা।

এই হাসপাতালে অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মে সর্বনিম্ন খরচ হয় ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। আর স্বাভাবিক প্রসবে ব্যথা কমিয়ে আনতে ‘লেবার এনালজেসিয়া’ ব্যবহারসহ মোট ব্যয় কমপক্ষে ৭১ হাজার ৫০০ টাকা।

আরেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ওমেন অ্যান্ড চাইল্ড হেলথে অস্ত্রোপচার হয় ১২ থেকে ১৬ হাজার টাকায়। তবে স্বাভাবিক প্রসবে ব্যয় ২ হাজার টাকা। লেবার এনালজেসিয়া ব্যবহার করলে অতিরিক্ত দেড় হাজার টাকা নেওয়া হয়। মেরি স্টোপসে অস্ত্রোপচারে ১৩ থেকে ২১ হাজার টাকা এবং স্বাভাবিক প্রসবে ৪ থেকে ১০ হাজার টাকা ব্যয় হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২০ টাকার টিকিট ছাড়া সেবা বিনা মূল্যের। তবে বেশির ভাগ সময় ওষুধপথ্য নিজেদের কিনে নিতে হয়। এতেও দেড়-দুই হাজার টাকা খরচ হয়ে যায়।

সেভ দ্য চিলড্রেন ২০১৯ সালে এক প্রতিবেদনে জানায়, অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের কারণে ২০১৮ সালে মানুষের প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। একেকটি অস্ত্রোপচারে শিশু জন্মে খরচ হয়েছে গড়ে ৫০ হাজার টাকা।

‘তাদের মনোভাবই ব্যবসায়িক’

অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারে শিশু জন্ম বন্ধে ২০১৭ সালে সেভ দ্য চিলড্রেনের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্টপ আননেসাসারি সি-সেকশন’ নামে প্রচার কর্মসূচি শুরু হয়। এই কর্মসূচির পর ২০১৯ সালে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার বন্ধে সরকারি উদ্যোগের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে দুটি রিট আবেদন হয়। ওই রিটগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ওই বছরের ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে সরকারকে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার বন্ধে জাতীয় ‘টাস্কফোর্স’ গঠন এবং একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দুটি নির্দেশই পালন করে।

ওই প্রচার কর্মসূচির সঙ্গে শুরু থেকেই যুক্ত সেভ দ্য চিলড্রেনের কর্মকর্তা ইশতিয়াক মান্নান। তিনি এখন ইরাকে সংস্থাটির প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত। মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, স্বাস্থ্যসেবা হচ্ছে এমন একটি বিষয়, যা ব্যক্তির ইচ্ছার বিষয় নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে নির্ধারিত হবে কার জন্য কোনটা জরুরি। তাই অস্ত্রোপচার হবে কি না, সেটা মা বা স্বজনদের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। অনেক হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের কোনো ব্যবস্থাই রাখা হয় না। তাদের মনোভাবই ব্যবসায়িক।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন