আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত জানিয়ে সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, আইনমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এটি সুস্পষ্ট যে পরবর্তী নির্বাচন কমিশন নিয়োগ পুরোনো নিয়মেই, অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে, অস্বচ্ছ পদ্ধতিতেই হবে।

সরকারের সদিচ্ছা থাকলে সংসদের আগামী অধিবেশনেই আইন পাস করা যাবে। কারণ, এটি তিন-চার পৃষ্ঠার একটি সহজ ও সংক্ষিপ্ত আইন। সরকার চাইলে গত অধিবেশনেও তা পাস করতে পারত। সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদে যে দ্রুততার সঙ্গে আইনই কেবল পাস করা হয় তা নয়, দ্রুততম সময়ে সংবিধানও সংশোধন হয়। মাত্র ৯ দিনের ব্যবধানে এটি পাস করা হয়।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, অস্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগের কারণে এসেছিল রকিবউদ্দীন কমিশন ও নূরুল হুদা কমিশন। এই দুই কমিশনের সদস্যদের চরম পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। শুধু জালিয়াতির নির্বাচনের মাধ্যমে গুরুতর অসদাচরণেরই নয়, নূরুল হুদা কমিশনের বিরুদ্ধে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। বর্তমান সরকার কি এই দুই কমিশনের সব অপকর্মের দায় এড়াতে পারবে? তিনি বলেন, বর্তমান নূরুল হুদা কমিশন নির্বাচনী ব্যবস্থাকে যে পর্যায়ে নিয়ে গেছে, তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে না পারলে দেশ মহাসংকটের দিকে ধাবিত হতে পারে। আর এ থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন যোগ্য, নিরপেক্ষ ও সাহসী ব্যক্তিদেরকে একটি আইন প্রণয়নের মাধ্যমে কমিশনে নিয়োগ দেওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, ‘প্রচণ্ড হতাশা নিয়ে কথা বলছি। প্রত্যাশা ছিল, সরকার স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় একটি গ্রহণযোগ্য কমিশন গঠনে উদ্যোগী হবে, যার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে একটি আইন পাস করবে। কিন্তু এটি স্পষ্ট যে সরকার আইন করতে চায় না। আজ্ঞাবহ সার্চ কমিটি দিয়ে আজ্ঞাবহ কমিশন গঠনের জন্য সরকার বদ্ধপরিকর।’

শাহদীন মালিক বলেন, ‘দেশের নাগরিকদের ভোট প্রদানের অধিকার আছে। গত জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে সরকার আমাদের ভোট দেওয়ার অধিকার কেড়ে নিয়েছে এবং সরকার ও আইনমন্ত্রী বক্তব্য এবং আচার-আচরণে¯স্পষ্ট করে এটাও বলে দিচ্ছেন যে পরবর্তী নির্বাচনেও আমরা ভোট দিতে পারব না। কারণ, আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন হবে।’

দ্রুত আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়ে এই আইনজীবী বলেন, আজ্ঞাবহ কমিশন করার ফলাফল বহু দেশে বহু জায়গায় দেখা গেছে। জনগণ একটা সময় পর্যন্ত ধৈর্য ধরে থাকে। কিন্তু সরকারের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যায়।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেন, আগামী অধিবেশনেই আইনটি পাস করা যেন সম্ভব হয়, সেটা সরকার বিবেচনা করবে বলে তিনি আশা করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রুবায়েত ফেরদৌস বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যখন ব্যর্থ হয়, তখন রাষ্ট্র ব্যর্থ হয়। নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। কমিশন আইন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

সুজনের কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন