আজীবন সম্মাননা পেলেন সাংবাদিক শাহেদ কামাল

আজীবন সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করছেন শাহেদ কামাল l ছবি: প্রথম আলো
আজীবন সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করছেন শাহেদ কামাল l ছবি: প্রথম আলো

দেশে সাংবাদিকতার চর্চা ও শিক্ষায় অবদান রাখার জন্য আজীবন সম্মাননা পেলেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক শাহেদ কামাল।

গতকাল রোববার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পাদক আবদুস সালাম স্মারক ট্রাস্ট ফান্ড আজীবন সম্মাননা, স্মারক বক্তৃতা ও বৃত্তি প্রদান-২০১৭ অনুষ্ঠানে তাঁকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক মুজাফফর আহমদ চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিক শাহেদ কামালের হাতে সম্মাননার চেক ও ক্রেস্ট তুলে দেন সভাপ্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দীন।

কবি সুফিয়া কামালের পুত্র শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেওয়ার শুরুর সময়ের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, সেই সময়টা অন্য রকম ছিল। পাকিস্তান আমল শেষ হয়ে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হতে যাওয়ার সেই ক্রান্তিলগ্নের অভিজ্ঞতা বলে বোঝানো যাবে না।

এ বছর স্মারক বক্তা ছিলেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অনারারি অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান। ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার প্রাক্কালে রাজনীতিতে অনিশ্চয়তা ও বিভ্রান্তি: পাকিস্তান সমর্থক পত্রিকার ভূমিকা’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি পাকিস্তানের জন্মলগ্নের রাজনীতির সঙ্গে সাংবাদিকতার মিথস্ক্রিয়ার সেই সময়কে তুলে ধরেন। পাকিস্তান সৃষ্টির পক্ষে-বিপক্ষে ইত্তেহাদ, আজাদ, মর্নিং নিউজ, স্টার অব ইন্ডিয়া, মিল্লাতইত্যাদি খবরের কাগজের ভূমিকা ও অবস্থান উঠে আসে তাঁর আলোচনায়। তিনি বলেন, সেই সময়ে ভারতের সাংবাদিকতা ছিল দারুণভাবে রাজনীতিপ্রবণ। মূলত সংবাদপত্র প্রকাশই হতো রাজনৈতিক স্বার্থে। রাজনৈতিক দলগুলোর মুখপত্র হিসেবে কাজ করত তারা।

অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতা বিভাগের পাঁচ শিক্ষার্থীর হাতে ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শিক্ষাবৃত্তি তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার শিক্ষা হচ্ছে সততা ও মানবিকতার শিক্ষা।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সম্পাদক আবদুস সালামের কন্যা রেহানা সালাম, সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারপারসন ও অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি অধ্যাপক মফিজুর রহমান প্রমুখ। সঞ্চালনায় ছিলেন সহযোগী অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস।