আজ বাইশে শ্রাবণ

আজ বাইশে শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৫তম প্রয়াণ বার্ষিকী। কবিগুরুর প্রিয় ঋতু ছিল বর্ষা। অজস্র রচনায় বাংলার বর্ষাকে তিনি অনিন্দ্যসৌন্দর্যে ফুটিয়ে তুলেছিলেন। ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে প্রিয় ঋতুতেই নির্বাপিত হয়েছিল কবির জীবনপ্রদীপ।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর রবির কিরণের মতোই আপন প্রতিভার আলোয় বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে উদ্ভাসিত করেছিলেন। প্রায় একক প্রতিভায় তিনি বাংলা সাহিত্যকে পৌঁছে দিয়েছেন বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদাপূর্ণ আসনে। কাব্য, সংগীত, উপন্যাস, ছোটগল্প, নাটক, প্রবন্ধ, ভ্রমণকাহিনি, শিশুতোষ রচনাসহ সাহিত্যের প্রতিটি শাখা তাঁর প্রতিভার স্পর্শে দীপ্তিমান হয়ে উঠেছিল। তাঁর বৈচিত্র্যময় রচনাসম্ভার মহৎ মানবিক আবেদনের মহিমায় হয়ে উঠেছে কালজয়ী। ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি হিসেবে তিনি লাভ করেন নোবেল পুরস্কার।
জীবনের শেষ পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর গভীর আগ্রহে চিত্রকলার চর্চা শুরু করেন। তাঁর এসব কাজ ভারতীয় উপমহাদেশের শিল্পকলায় ভিন্ন মাত্রা সংযোজন করেছে। সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি সমাজসংস্কার, শিক্ষাবিস্তার, কৃষি উন্নয়নসহ বিভিন্ন কর্মে নিজেকে জীবনব্যাপী সক্রিয় রেখে এক অনন্যদৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন তিনি।
আজ শনিবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রয়াণ দিবসে বাংলা একাডেমি দুই দিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। বিকেল চারটায় একাডেমির শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে আহমদ রফিক রচিত রবীন্দ্রজীবন (তৃতীয় খণ্ড)-এর প্রকাশনা অনুষ্ঠান। স্বাগত ভাষণ দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান। রোববার বিকেলে একক বক্তৃতা, রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সভাপতিত্ব করবেন একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। একক বক্তৃতা করবেন শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা। অধ্যাপক সৈয়দ আকরাম হোসেন ও শিল্পী তপন চৌধুরীকে রবীন্দ্র পুরস্কার প্রদান করা হবে। এ ছাড়া শিল্পকলা একাডেমি আজ সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।