২০ এপ্রিল ২০১৫, প্রথম আলোর আয়োজনে ‘আমি যদি মেয়র হই’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলোচকদের বক্তব্য সংক্ষিপ্ত আকারে এই ক্রোড়পত্রে প্রকাশিত হলো

আলোচনা

default-image

মতিউর রহমান: সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা। আমাদের সঙ্গে মেয়র পদপ্রার্থীরা ছাড়াও তিনজন বিশেষজ্ঞ আছেন। আমরা জানি, আমাদের প্রার্থীরা খুবই ব্যস্ত। প্রতিটি মিনিট তাঁদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার পরও আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য।
বলতে চাই যে আমরা সুন্দর ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নির্বাচন হোক, এটা সবার প্রত্যাশা। নির্বাচনে যাতে সবাই অংশ নিতে পারেন—এটাও চাই।
ঢাকাবাসীর কাছে আবেদন থাকবে, সবাই যেন ভোট দিতে যান। একই সঙ্গে প্রথম আলোর পক্ষ থেকে প্রার্থীদের বলতে চাই, আপনাদের প্রচারে আমাদের সর্বাত্মক সহায়তা থাকবে। যাঁরা নির্বাচিত হবেন, তাঁদের সব ভালো কাজে সমর্থন দেব। একই সঙ্গে যেকোনো ভুল–ভ্রান্তি–ত্রুটির জন্য আমরা প্রশ্ন তুলব, তর্ক করব, বিতর্ক করব। আপনাদের সবাইকে আবারও ধন্যবাদ। আলোচনা শুরু করবেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।

নজরুল ইসলাম

default-image

আজকে যঁারা মেয়র পদপ্রার্থী, তাঁদের মূল পরিচয় তাঁদের বয়স যা–ই হোক, তাঁরা সবাই তরুণ। সেই সঙ্গে তাঁরা অত্যন্ত আগ্রহী ও উৎসাহী। তাঁদের মধ্যে আন্তরিকতা ও অঙ্গীকার—দুটোই আছে। বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে যা একটি নতুন ধারা তৈরি করছে বলে মনে করি। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ মিলিয়ে জনসংখ্যা প্রায় ৮০ লাখ এবং ভোটার সংখ্যা ৪০ লাখের কাছাকাছি। নগর বিশ্লেষক হিসেবে আমরা বলি, সরকারি হিসাবে বৃহত্তর ঢাকার লোকসংখ্যা পৌনে দুই কোটির কাছাকাছি। এটি বিশ্বের নবম জনবহুল শহর। নারায়ণগঞ্জ থেকে গাজীপুরের কালিয়াকৈর পর্যন্ত এই শহর।
এখানে প্রতিবছর পাঁচ লাখ নতুন লোক যোগ হয়, অর্থাৎ যাঁরা বাইরে থেকে এসেছেন। তাই এই শহরের প্রাকৃতিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা আশা করি মেয়র প্রার্থীরা অনুধাবন করেছেন। অর্থনৈতিক বাস্তবতা হলো, দেশের ৩০ শতাংশ জিডিপি এই ঢাকা থেকে আসে। সামাজিক বাস্তবতা হলো এই শহরে বিশাল জনগোষ্ঠী দরিদ্র, যারা বস্তিতে থাকে। আর রাজনৈতিক বাস্তবতা হলো, এই শহরের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এই নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচিতি পাচ্ছে। আমরা আমাদের মেয়র পদপ্রার্থীদের কথা জানি। কিছু কিছু ইশতেহারে শুনেছি। একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, সতেজ, সচল ও মানবিক শহর, আলোকিত শহর তাঁদের কাছে আমরা পাব বলে তাঁরা বলছেন। আমরা সেটা আশা করছি। আজকে আমরা শুনব এই শহর সম্পর্কে তাঁদের ধারণা কী এবং কোন অবস্থায় আমাদের তাঁরা নিয়ে যেতে চান।

আবদুল্লাহ আল ক্বাফী

default-image

আমরা ৭১ দফা নির্বাচনী অঙ্গীকার দিয়েছি। সেটার সারসংক্ষেপ আপনাদের সামনে তুলে ধরব। আমাদের প্রিয় শহর বহুবিধ সমস্যায় জর্জরিত। এ শহরে রয়েছে দুর্নীতি, ভেজাল, দখলদারত্ব ও লুটপাটের সমস্যা। এসবের বিরুদ্ধে আমরা কার্যকর প্রতিরোধ চাই। আমরা চাই স্বচ্ছ ও জবাবদিহিসম্পন্ন নগর প্রশাসন ও নগর নেতৃত্ব। আমরা দরিদ্র বস্তিবাসী ও শ্রমজীবীদের জন্য চাই উপযুক্ত নাগরিক সেবার সুবিধা। নারী-শিশু-যুবকেরা চায় একটি নিরাপদ নগর। মধ্যবিত্তরা চান সম্মানজনক জীবনযাপন করতে। উৎপাদনশীল পঁুজিপতিরা চান চাঁদাবাজ-মাস্তানমুক্ত ব্যবসায়ের পরিবেশ।
সর্বোপরি নগরের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অর্থাৎ আমরা সবাই চাই একটি সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও যানজটমুক্ত ঢাকা। কিন্তু আমাদের এই স্বপ্নের ঢাকা পাব কীভাবে? এত চাওয়া কীভাবে অর্জন করা যাবে? এসব চাওয়া পূরণের লক্ষ্যে অনেক ভেবেচিন্তে অমরা নির্বাচনী অঙ্গীকারে সুনির্দিষ্ট ৭১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরেছি। প্রশ্ন আসতে পারে, ৭১ কেন? ৭১ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সংখ্যা। ৭১ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সংখ্যা। ৭১ তারুণ্যের বহিঃপ্রকাশ। আমাদের শহর বাসযোগ্য ও মানবিক করার জন্য তারুণ্যের পুনরুত্থান, পুনর্জাগরণ চাই। সেই কারণেই আমাদের ৭১ দফা অঙ্গীকারনামা আপনাদের সামনে হাজির করেছি। আমাদের এই অঙ্গীকার পাঠ করলে বুঝতে পারবেন, প্রতিটি প্রতিশ্রুতি সুনির্দিষ্ট এবং এগুলো ফাঁকা বুলি নয়।
আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের জন্য সর্বোচ্চ শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করব। কাঙ্ক্ষিত ঢাকা নগরের জন্য আপনারা আকুল হলে আমাকে ভোট দিতেই হবে। একটি আদর্শ নীতি ও কর্মসূচির পক্ষে আপনাদের দাঁড়াতেই হবে।
নির্বাচনে হার-জিত থাকেই। তবে নির্বাচনের সর্বোচ্চ প্রকাশ হচ্ছে আপনাদের মূল্যবান ভোট। সেই ভোটের মাধ্যমে একটি নীতিনিষ্ঠ অবস্থান গ্রহণই হচ্ছে নির্বাচনের প্রকৃত গণতান্ত্রিক মর্মবস্তু। আসন্ন নির্বাচনে আপনাদের কাছে সেটাই দাবি ও প্রার্থনা।
মানবিক ঢাকাকে কীভাবে সংজ্ঞায়িত করব? আমাদের শহরে সবার জন্য আবাসন, নিরাপদ পানি, মানসম্মত শিক্ষা, নারীর জন্য নিরাপদ শহর, পরিচ্ছন্ন সবুজ শহর—এটাই হচ্ছে বাসযোগ্য মানবিক ঢাকা।
আপনারা দেখেছেন, গত পয়লা বৈশাখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। আমাদের বোনদের, নারীদের নির্যাতন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি লিটন নন্দী, ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক সুমন সেনগুপ্ত, রমনা থানার সাধারণ সম্পাদক অমিত দে—তাঁরা কীভাবে নিজের জীবন বাজি রেখে নারীদের নিরাপদ রাখতে চেয়েছেন, নারীদের মর্যাদা রক্ষা করতে চেয়েছেন তা আপনারা দেখেছেন।
আমরা ১৯৯৪ সাল থেকে ‘অচল ঢাকা সচল করো’ এই আন্দোলনের মধ্যে আছি। সেটা ক্রমান্বয়ে এখন ‘সবার জন্য বাসযোগ্য ঢাকা’ আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছে। যদি আপনারা আমাকে হাতি মার্কায় ভোট দেন, তাহলে সবার জন্য একটি বাসযোগ্য মানবিক ঢাকা গড়ে তুলতে পারব।
নির্বাচিত হলে সততার সঙ্গে চলব। আমার সম্পদ বিবরণী সর্বসাধারণের কাছে প্রকাশ করব। সবচেয়ে বড় কথা, আমি বিলাসবহুল মেয়র ভবনে যাব না, এখন যে বাসায় থাকি, সেখানেই থাকব। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে একজন ন্যায়পাল নিয়োগ দেব, যিনি স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সব কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

সাঈদ খোকন

default-image

সবকিছু ইতিবাচকভাবে দেখতে চাই। ভালোবাসা ও মায়া-মমতার বন্ধনে এই শহরের মানুষ বেড়ে ওঠে। এখানে মানুষের প্রতি মানুষের রয়েছে অপরিসীম শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
পৃথিবীর আর কোথাও এত শ্রদ্ধা, আবেগ, ভালোবাসা, মায়া-মমতা নেই। এখানকার সামাজিক রীতিনীতি ও রাজনৈতিক ঐতিহ্য পৃথিবীর অন্য কোনো রাজধানীতে নেই। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা করেছেন এই শহর থেকেই। পরাজিত শত্রুরা এই শহরেই আত্মসমর্পণ করেছে। আমরা ঈদের জামাত শেষে সবাই কোলাকুলি করি। পয়লা বৈশাখসহ বিভিন্ন উৎসবকে একসঙ্গে বর্ণিল করে তুলি। একসঙ্গে ভাষাশহীদদের স্মরণে প্রভাতফেরি করি।
পৃথিবীর অনেক শহরে হয়তো নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বেশি। কিন্তু এমন শ্রদ্ধা, ভালোবাসা, আবেগ, ঐতিহ্যের শহর আর কোথাও আছে কি না, জানা নেই। তাই ঢাকার একটা আলাদা নিজস্বতা রয়েছে।
ঢাকা শহরের সমস্যা সীমাহীন। এসব সমস্যার সমাধানও আছে। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে দলমত থাকবে, এটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু ঢাকার সমস্যা নিরসনে সবাইকে নিয়ে কাজ করব। এখানে কোনো দলমত থাকবে না। সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ঢাকা হবে একটি নান্দনিক শহর।
আমার বাবা ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি সবাইকে নিয়ে কাজ করতেন। সিটি করপোরেশনকে কখনো দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেননি। আমিও চাই নগর ভবন হবে নাগরিক সেবার জন্য। একে কেউ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করতে পারবেন না। আমি যদি মেয়র হই, প্রথম বছরের কাজ হবে ঢাকাকে একটি বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা; নগরের সাধারণ নাগরিক, বিবেকবান মানুষ, শিক্ষক, সাংবাদিক—সবাইকে নিয়ে একটি ঢাকা সংলাপ করা।
দ্বিতীয় বছর থেকে শেষ পর্যন্ত কাজ হবে ঢাকা সিটি করপোরেশনকে একটি আন্তর্জাতিক মানের শহর হিসেবে গড়ে তোলার জন্য যা যা করা দরকার, তার সবকিছু করার চেষ্টা করে যাওয়া।

তোফায়েল আহমেদ 

default-image

সুনির্দিষ্ট কোনো ইস্যু নিয়ে বলব না। এতটুকু বলতে চাই, সমকালীন বিশ্বে নগরের বিস্তৃতির ব্যাপকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নগরায়ণ মানেই সমাজের বিভিন্নমুখী রূপান্তর। এই রূপান্তরের মধ্য দিয়েই আসে নতুন সমাজ, নতুন সভ্যতা ও নতুন জীবনপ্রণালি। চলে আধুনিকতা ও বিশ্বজনীনতার অবগাহন। ঐতিহ্যগত শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে ঘটে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন।
কিন্তু বাংলাদেশের নগরায়ণ, নগর শাসন ও নগর সরকারের আধুনিকতার পরিবর্তে একধরনের আদিমতার বিকাশ ঘটেছে। এসব সামনে রেখে দেশের দুটি প্রধান নগরের তিনটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এটি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা মানুষের আগ্রহ দেখেই বোঝা যাচ্ছে। নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ ও আশঙ্কা—দুটোই আছে। ২৮ তারিখ নির্বাচন হবে। তিনজন এতে নির্বাচিত হবেন।
এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেসব কর্মসূচি প্রার্থীরা দিয়েছেন, আশা করি সেগুলো হারিয়ে যাবে না। এর মধ্যে অনেক ভালো উপাদান আছে, অনেক ইতিবাচক দিক আছে। যাঁরাই নির্বাচিত হবেন, তাঁরা সবার কর্মসূচিগুলো ভালোভাবে দেখে এগুলোকে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করবেন বলে আমার বিশ্বাস।
দেশের পুরো স্থানীয় সরকারব্যবস্থাটাই ত্রুটিপূর্ণ ও স্থবির হয়ে আছে। আমরা ঢাকা শহরে আছি, এটাকে দেখছি একভাবে। কিন্তু ঢাকা ও চট্টগ্রামের যেসব সমস্যা, তা পুরো দেশের সমস্যার সঙ্গেই যুক্ত। তাই ঢাকার সমস্যাকে বাংলাদেশের সমস্যা থেকে আলাদা করার সুযোগ নেই।
এই শহরের সমস্যার দুটি রূপ হচ্ছে, একদিকে জাতীয় সমস্যার কেন্দ্রীভূত রূপ এবং অন্যটি সম্প্রসারিত রূপ। সুতরাং ঢাকার সব সমস্যা একজন মেয়র সমাধান করতে পারবেন, তা আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আরেকটা ব্যাপার হলো, আমাদের এখন মেয়রকেন্দ্রিক আলোচনা, মেয়রকেন্দ্রিক কর্মসূচি ও মেয়রকেন্দ্রিক প্রচারণা চলছে। কিন্তু যে কথাটা আমি বারবার বলার চেষ্টা করছি, এই করপোরেশনগুলোতে শুধু মেয়র নন, কাউন্সিলরাও আছেন। সুতরাং, আমি মেয়র প্রার্থীদের বলছি, পুরো কাউন্সিল ব্যবস্থা নিয়ে আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে। না হলে

আপনারা পদে পদে বাধাগ্রস্ত হবেন। এ জন্য তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। আমরা অতীতেও দেখেছি, কোনো কোনো মেয়র দুই-তিন বছর কাউন্সিলরদের সঙ্গে আলোচনায় বসেননি। এখানে একনায়কতান্ত্রিক শাসনের কোনো সুযোগ নেই। বরং অংশগ্রহণমূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সবাই মিলে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।

তাবিথ আউয়াল

default-image

সবাই বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হবে। সত্যি ঢাকা তার বসবাসের অনুকূল পরিবেশ হারিয়েছে। সাধারণ নাগরিকেরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রায় কোথাও গিয়ে তাঁরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না। আর এ সেবার মান ও ধরন খুব নিম্নমানের।
নাগরিক সেবা বলতে যা বোঝায়, এক অর্থে ঢাকা শহরে সেটা অনুপস্থিত। ১৫ বছর ধরে ঢাকা নিয়ে গবেষণা করেছি। ঢাকার সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেছি। কীভাবে এসব সমস্যার সমাধান করতে হবে, তা-ও ঠিক করেছি। বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ এই মহানগরে বাস করেন। তাঁদের মধ্যে ভোটার ছাড়াও অন্যান্য মানুষ রয়েছেন। নগরে বসবাসরত সবার কথা আমাদের ভাবতে হবে।
এ শহরে নিরাপত্তার বড় অভাব। মানুষের নিরাপত্তার জন্য আমার নতুন ধরনের পরিকল্পনা আছে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে বলে বিশ্বাস করি। ঢাকা মহানগরের একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যানজট। প্রতিদিন মানুষের মূল্যবান কর্মঘণ্টা রাস্তায় নষ্ট হয়। এক ঘণ্টার পথ মানুষকে দুই থেকে তিন ঘণ্টায় যেতে হয়। এভাবে মানুষের সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে।
আমার নির্বাচনী প্রতীক বাস। ঢাকা শহরে আরও নতুন রাস্তার প্রয়োজন। পুরোনো বাসগুলোকে তুলে দিয়ে পরিকল্পনামতো নতুন বাস নামাতে হবে। এ ক্ষেত্রে আমার নিজস্ব ভাবনা আছে। ঢাকা শহরে অনেক দরিদ্র নারী কাজ করেন। অনেকের কর্মস্থল অনেক দূরে। তাঁদের চলাচলের কোনো সুব্যবস্থা নেই।
নির্বাচনী প্রচার করার সময় দেখেছি, রাস্তাগুলো কত খারাপ। অনেক রাস্তা এত অপ্রশস্ত যে মানুষ হাঁটতে পারে না। মেয়র নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এসব কাজ করব। সবাই একটি বাসযোগ্য ঢাকা চায়। ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হলে সরকার, কাউন্সিলর ও নাগরিকদের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সমস্যা চিহ্নিত করে সমন্বিতভাবে সমাধানের চেষ্টা করব।
যদি প্রশ্ন করা হয় প্রথম কাজটি কী হবে, তাহলে বলব, প্রথমেই ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন করার উদ্যোগ নেব। বর্জ্য সরানোর সময় থাকবে রাত ১২টা থেকে ভোর পর্যন্ত। বর্জে্যর অব্যবস্থাপনার জন্য অনেক ধরনের রোগজীবাণু ছড়াচ্ছে। সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে পারলে নগরবাসী রোগজীবাণুমুক্ত পরিচ্ছন্ন ঢাকা পাবে। পুলিশ কমিশনারের কাছে যাব। তাঁকে অনুরোধ করব ঢাকা শহরের মানুষের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে। আমাদের স্লোগান আদর্শ, বাসযোগ্য ঢাকা, নারী ও শিশুবান্ধব ঢাকা, এমন ঢাকা যেন সবাই সম্মিলিতভাবে বাস করতে পারি।

মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি

default-image

যখন আমরা টেলিস্কোপকে মার্কা হিসেবে পেলাম, তখন বন্ধুরা স্লোগান তুলল, ‘দূরের সত্যকে কাছে আনে, টেলিস্কোপের এটাই মানে।’ আমরা একটু দূরেও দেখতে চাই। আজকে ঢাকাবাসী তঁাদের যাবতীয় সমস্যা তুলে ধরছেন এবং এর সমাধান আশা করছেন মেয়র বা সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে।
আমি কৈশোর থেকেই ঢাকা শহরে বসবাস করছি। তখন থেকেই দেখেছি, একদিকে রাস্তাঘাট খনন করা হচ্ছে, কিন্তু সেটা পরে ঠিকমতো মেরামত করা হচ্ছে না। আসলে উন্নয়ন ঘটছে, কিন্তু তাতে জনগণের দুর্ভোগ কমছে না, বরং বাড়ছে। এতে জনগণের টাকার ব্যাপক অপচয় হয়। একই কাজ কয়েকবার বিভিন্ন সংস্থা করে থাকে। গত ২০-২৫ বছরেও এই সমস্যার সমাধান হয়নি।
কাজেই আমরা মনে করি, এই নির্বাচন কেবল একজন মেয়র, কাউন্সিলর বা নারী কাউন্সিলর নির্বাচন করা নয়। একই সঙ্গে নগর সরকার আইন করার বিষয়ে জনগণের একটি মতামত কিংবা রায় হিসেবে এই নির্বাচন বিবেচিত হবে।
ঢাকা শহরের প্রকৃতি-প্রতিবেশ রক্ষা, পরিচ্ছন্ন নগর, যানজট, গণপরিবহন, শিক্ষার সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন আছে। বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকা শহরে বসবাস করা সবচেয়ে ব্যয়বহুল। তাই জাতীয় যে নূ্যনতম মজুরি থাকবে, তার চেয়ে ঢাকা শহরে নূ্যনতম মজুরি নিশ্চিতভাবেই বেশি হওয়া দরকার।
সবচেয়ে বড় ব্যাপার দুর্নীতি সবকিছুকে গ্রাস করে ফেলেছে। কীভাবে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে পারি, এ ব্যাপারে কাজ করতে হবে।
আমাদের এই শহরে নাগরিকেরা প্রতিদিন হয়রানির শিকার হচ্ছেন, অপমানিত হচ্ছেন। আপনি যেকোনো সেবা নিতে যান তার ফলাফল হচ্ছে কোনো না কোনোভাবে হয়রানির শিকার হওয়া, হেনস্তা হওয়া, অপমানিত হওয়া।
অধিকার ও দায়িত্বের মাধ্যমে নাগরিকের মর্যাদা গড়ে ওঠে, যে মর্যাদা এই সিটি করপোরেশনের একজন মেয়র আন্তরিকতার সঙ্গে প্রথম দিন থেকে করতে পারেন। এই বিষয়ে উদ্যোগ নিতে পারেন। এটা যদি করা যায়—এক দিনে সমস্যা সমাধান করতে না পারলেও প্রতিদিন একটু একটু করে এ সমস্যা সমাধান করতে পারব।
৩৫ শতাংশ বস্তিবাসী এই শহরে বাস করে। যাদের শ্রমে-ঘামে এই বিত্তবৈভবের ঢাকা শহর। আজ তাদের নিরাপত্তা কোথায়?
আজ ঢাকা নারীবিদ্বেষী শহরে পরিণত হয়েছে। নারীদের জন্য শহরে একটি গণশৌচাগার নেই। তাদের নিরাপত্তা নেই। পয়লা বৈশাখের মতো জাতীয় অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশের উপস্থিতি ও সিসি টিভি থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যৌনসন্ত্রাস চালানো হয়।
এই শহরে সারা জীবন অবদান রাখেন যে বয়স্ক নাগরিকেরা, তঁাদের জন্য ঢাকা বিপৎসংকুল হয়ে পড়েছে। আগামী দিনের জন্য দরকার একটা উৎপাদনশীল অর্থনীতির উপযোগী ঢাকা শহর।
আজকের রাজনীতির প্রেক্ষাপট একদিকে গুম-খুন–সন্ত্রাস, অপরদিকে পেট্রলবোমা-সন্ত্রাস। মানুষ পরিবর্তন চায়। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সেই পরিবর্তনের সূচনা ঘটবে।
বয়স্ক নাগরিকদের যা কিছু প্রাপ্য অধিকার, সেটার জন্য আন্তরিকভাবে সততার সঙ্গে, হয়রানি-হেনস্তা ছাড়াই তঁার কাছে সে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করব। সে ক্ষেত্রে যতটা কঠোরতার সঙ্গে এই প্রশাসনকে ঢেলে সাজানোর প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করব।
আমরা একটা স্লোগান তুলেছি, আগামীর ঢাকা সকলে মিলে। পরিবর্তন সম্ভব, আমরা পরিবর্তন চাই। বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা আছে। কিন্তু পরিবর্তন যে সম্ভব তাদের সেই বিশ্বাস-আস্থা দেওয়া জরুরি।

সারওয়ার জাহান

default-image

এটা অত্যন্ত আনন্দের বিষয় যে একঝাঁক তরুণ এই শহরের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করছেন। এটা একটা নতুন ঘটনা, যেটা আমরা আগে দেখিনি।
আমরা যদি ২০০৯ সালের সিটি করপোরেশনের অ্যাক্টের দিকে তাকাই, তাহলে আমরা দেখতে পাব যে মেয়রদের ওপর যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে দায়িত্বের কোনো শেষ নেই। একটা নগরের যা যা দরকার, তার সবই সেখানে দেওয়া আছে। কিন্তু সমস্যাটা হচ্ছে কাজির গরু কেতাবে আছে কিন্তু গোয়ালে নেই। অর্থাৎ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কিন্তু দায়িত্ব পালনের যে ক্ষমতা, তা পুরোপুরি দেওয়া হয়নি। সে দায়িত্ব পালন করছে ঢাকার প্রায় ১৮টি মন্ত্রণালয় ও প্রায় ৫৬টি সংস্থা। আমার প্রথম প্রত্যাশা, যিনি মেয়র হবেন তিনি সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সে ক্ষমতাটা নিয়ে আসবেন। এটা আমার প্রথম দাবি।
এর পরও মেয়রকে বেশ কিছু ক্ষমতা দেওয়া আছে। একটি হলো বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষমতা। ঢাকাকে পরিষ্কার রাখার পুরো ক্ষমতাটা কিন্তু মেয়রকে দেওয়া হয়েছে। অনেক জরিপে দেখা গেছে, ১৪২টি শহরের মধ্যে ঢাকার স্থান ১৪১তম।
কিন্তু আমি মনে করি ঢাকা শহরকে যদি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হিসেবে রূপান্তর করা যায়, বিশ্বের কাছে তাহলে আমাদের অবস্থান ভালো হবে। শহরে প্রায় ৪০ শতাংশ যাতায়াত রিকশার মাধ্যমে হয়। রিকশার বিষয়টা পুরো মেয়রদের ওপর ন্যস্ত। কীভাবে এগুলো শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা যায়, নিবন্ধনের বিষয়টা কীভাবে ভালো করা যায় মেয়ররা এটা নিয়ে ভাবতে পারেন।
ঢাকার ফুটপাতে প্রায় ২০ শতাংশ লোক হেঁটে চলাচল করেন। তাঁদের জন্য ফুটপাতকে হকারমুক্ত ও চলাচলের উপযুক্ত করার কাজটা মেয়ররা সহজেই করতে পারেন। এটা একটা বড় কাজ হবে।
তারপর হলো স্বাস্থ্য। আমরা যেটা জানি যে ঢাকা ভেজাল খাদ্যের নগরে পরিণত হয়েছে। শুধু খাবার নয়, সবকিছুতে ভেজাল। এ ক্ষেত্রে নগরপিতা যিনি হবেন, তাঁকে যথেষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারপর পানির ব্যবস্থা করা। পরিষ্কার পানির দায়িত্ব যদিও ওয়াসার কাছে কিন্তু আমার মতে মেয়ররাও সেখানে ভূমিকা রাখতে পারেন।
সবশেষে যেটা বলব, সেটাই সবচেয়ে বেশি দরকার। সেটা হলো সুশাসন। মেয়ররা জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে

দায়িত্ব পালন করতে আসবেন। কিন্তু সুশাসনের জন্য যেটা দরকার, সেটা হলো ‘ট্রান্সপারেন্সি’। অর্থাৎ পরিষ্কারভাবে সবকিছু কাজ করা। আর জবাবদিহি। সিটি করপোরেশন সব সেবায় যদি সম্পূর্ণভাবে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারে, তাহলে আমার মনে হয় অনেক কিছু অর্জন করা সম্ভব হবে।

আনিসুল হক

default-image

সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তরুণ ভাইয়েরা যেভাবে এসেছেন, আসলে এটা একটা নতুন ধারার সৃষ্টি হতে চলেছে। ইশতেহার তৈরির আগে ভেবেছিলাম, প্রথমে জানতে হবে নাগরিকের অগ্রাধিকার কী? এখানে যাঁরা যা বলেছেন, তার সবকিছুর সঙ্গে আমি একমত। এখানে যাঁরা আছেন, তাঁদের সবাইকে জিজ্ঞেস করুন ঢাকার প্রথম ১০টা সমস্যা কী? সবাই মোটামুটি একই ধরনের উত্তর দেবেন।
আমরা বলব, শহর পরিষ্কার নয়, লাইট ঠিকমতো জ্বলে না, তীব্র যানজট, ফুটপাত দখলে। এগুলো সাধারণ সমস্যা। আমরা আরও একটু বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছিলাম। আমরা ৫২টা সমস্যা নিয়ে জরিপ করেছি। ৭৬ হাজার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। যাঁদের মধ্যে ২০-৫০ বছর বয়সী ছিলেন ৮৯ শতাংশ। এর মধ্যে ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ও ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ ছিলেন মহিলা। মধ্য আয়ের মানুষ ছিলেন ৬৯ দশমিক ৪ শতাংশ। জরিপের ৬৮ শতাংশ মানুষ বলেছেন, মশা সবচেয়ে বড় সমস্যা।
আমাদের স্বপ্ন অনেক। স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি। আমরা বোঝার চেষ্টা করছি কীভাবে সমস্যার ওপর ভিত্তি করে সেগুলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা যায়।
আমার মতে, প্রথম সমস্যা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও বর্জ্য সমস্যা। তার সঙ্গে রাস্তাঘাটের সমস্যা, ড্রেনেজ ও আলোর সমস্যা। আমরা যাঁরা মেয়র পদে লড়ছি, সবাই চেষ্টা করেছি সুন্দরভাবে ইশতেহার দেওয়ার। ইশতেহার হলো একটা স্পৃহা। আপনারা দেখবেন যে মেয়র পদপ্রার্থী আমরা ৮০ শতাংশ অভিন্ন কথাবার্তা বলছি। কারণ, সমস্যাগুলো অভিন্ন ও চিহ্নিত। সে জন্য আমরা দেয়ালঘড়ির স্লোগানে বলছি—‘সমস্যা চিহ্নিত, এবার সমাধানযাত্রা’।
কিন্তু সুশাসন, এটা আবার নিজের হাতে। এর সঙ্গে আজকে যেটা প্রয়োজন বলে আমার মনে হয় সেটা হলো, সবার একসঙ্গে কাজ করা (পার্টিসিপেটরি)। ঢাকাকে ‘গ্রিন সিটি’ করার যে স্লোগান, সেটা অর্জন করতে হবে। আমাদের পরের প্রজন্মের জন্যও দরকার। এ অগ্রাধিকার ধরে ধরে আমাদের এগোতে হবে।
এ সমস্যাগুলো নিয়ে ‘সমন্বিত পার্টিসিপেটরি’ যাত্রা প্রয়োজন। আমরা নিজেরা যেমন কাজ করব, আমাদের সঙ্গে আপনারা যাঁরা কাজ করবেন। এলাকায় এলাকায় ‘পার্টিসিপেটরি কমিটি’ হওয়া দরকার। তাহলে আমার মনে হয়, নগর ভবনকে ‘নাগরিক ভবনে’ নিয়ে যাওয়া যাবে। আপনারা সবাই সহায়তা করবেন, এটাই আমাদের কামনা।

মাহী বি চৌধুরী

default-image

আমার মার্কা ইগল। ঝড়ের সময় সব পাখি ঘরে ফেরে। কিন্তু ইগল ঝড়কে জয় করে আকাশে ওড়ে। তাই আমাদের একটি স্লোগান আছে। স্লোগানটি হলো, ‘সব পাখি ঝড়ে ঘরে ফেরে, প্রজন্মের ইগল শুধু আকাশে ওড়ে।’
আমাদের আজ অনেক ধরনের ঝড়ের মধ্যে রয়েছি। আদর্শের সংকটের ঝড়, দুর্নীতির ঝড়, লুটপাটের ঝড় আরও বিভিন্ন রকম ঝড়। ঢাকা সিটিতে সমস্যা কী, সমাধান কী, এ ক্ষেত্রে আমরা সবই একমত। কীভাবে সমস্যার সমাধান হবে, সেটি একটি বড় বিষয়।
এ ক্ষেত্রে আমার রয়েছে নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি। প্রজন্ম কী চায়, প্রজন্মের ভাবনাকে ধারণ করতে হবে। সেভাবে আমাদের কাজ করতে হবে। প্রজন্ম পরিবর্তনের বীজ বপন করতে হবে। এ বীজ থেকে একসময় বৃক্ষ হবে। তখন একটি সুন্দর বাংলাদেশ হবে।
একজন নির্বাচিত মেয়রের তিন ধরনের কাজের দায়িত্ব থাকে। এক. বর্জ্য অপসারণ, সড়ক মেরামত ও সেবা প্রদান। দুই. অ্যাডভোকেসি অর্থাৎ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করা, বিভিন্ন বিষয়ে সরকারকে বোঝানো ও সুপারিশ করা। তিন. সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব প্রদান করা।
সমাজ পরিবর্তনের জন্য রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার প্রয়োজন আছে। মানুষের নিরাপত্তা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি—এসব বিষয় কাজ করতে হলে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সততা দরকার। ঢাকা মহানগরকে নিরাপদ, চলমান ও আলোকিত করতে হবে। এর জন্য আমরা বলেছি, ঢাকা শহরের প্রতিটি বাজারের একটি প্রবেশপথ থাকবে। এ প্রবেশপথ থেকে সব ধরনের ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করার পর বাজারে পণ্যসামগ্রী প্রবেশ করবে।
ঢাকা শহরের পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি সংগ্রহের ওপর প্রয়োজনে সহযোগিতা করতে হবে। শহরের হাঁটাপথগুলোকে আরও সম্প্রসারিত ও পরিচ্ছন্ন করতে হবে। প্রতিবছর মেয়র তাঁর কাজের মূল্যায়ন করবেন।
যিনি মেয়র নির্বাচিত হবেন, তিনি আজ যাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বী আছেন, তাঁদের সবাইকে নিয়ে একটি উপদেষ্টা কমিটি গঠন করবেন। কারণ, ঢাকা সিটিকে নিয়ে সবার গঠনমূলক ভাবনা রয়েছে। সেগুলো কাজে লাগাতে পারলে দ্রুত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সমস্যা দূর হবে।

নজরুল ইসলাম
ঢাকা শহরে হাজার রকমের সমস্যা আছে। তা সত্ত্বেও সত্যিকার অর্থে ঢাকার একটি নিজস্বতা আছে। এ নিজস্বতা সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ইত্যাদি।
আজ যাঁরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, এঁরা অধিকাংশই তরুণ, বুদ্ধিদীপ্ত ও সমৃদ্ধ ভাবনার। এঁদের মধ্যে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আছে। নেতৃত্বের গুণ আছে। মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা আছে।
যিনিই নির্বাচিত হন তিনি ঢাকাকে এগিয়ে নিতে পারবেন বলে আমার বিশ্বাস। তবে নেতৃত্ব হতে হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক। এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যাপকভাবে মিশতে হবে। কলম্বিয়ায় এক তরুণ মেয়রকে প্রশ্ন করলাম, এত প্রতিযোগিতার মধ্যে কীভাবে নির্বাচিত হলেন? তিনি বললেন, সপ্তাহে তিন দিন বস্তিবাসীর সঙ্গে বাস করতাম। সেটা মানুষের মনে রেখাপাত করেছে।
টাকাপয়সাওয়ালাদের অনেক সুযোগ-সুবিধা। ফোন করলেই সব হয়। কিন্তু গরিব মানুষের কথা কেউ শোনে না। তাদের কথা মন দিয়ে শোনেন। তাদের জন্য ভাবেন। তাদের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেন।
নিজের মধ্যে সততা ও স্বচ্ছতা থাকতে হবে। মানুষকে সুশাসন দিতে হবে। একটা তথ্যভান্ডার থাকতে হবে। যাতে মানুষ সবকিছু জানতে পারে।
আলোচনায় সুপারিশ
. নগর সরকার গঠনের ব্যবস্থা করা 
. ঢাকাকে আন্তর্জাতিক মানের শহর হিসেবে গড়ে তোলা
. কাউন্সিলরদের নিয়ে মেয়ররা কাজ করবেন
. নগর ভবন হবে নাগরিকদের সত্যিকার সেবাকেন্দ্র
. দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে নগর প্রশাসন পরিচালনা করা হবে
. প্রথম অগ্রাধিকার ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন করা
. সন্ত্রাসমুক্ত শহর ও দুর্নীতিমুক্ত নগর প্রশাসন গড়ে তোলা
. নারী ও শিশুর বাসযোগ্য শহর গড়ে তোলা


যাঁরা অংশ নিলেন
নজরুল ইসলাম
নগর পরিকল্পনাবিদ ও সাবেক চেয়ারম্যান, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন
তোফায়েল আহমেদ
স্থানীয় সরকারবিশেষজ্ঞ
সারওয়ার জাহান
অধ্যাপক, বুয়েট, নগর অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগ
আনিসুল হক
মেয়র প্রার্থী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
তাবিথ আউয়াল
মেয়র প্রার্থী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
সাঈদ খোকন
মেয়র প্রার্থী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন
মাহী বি চৌধুরী
মেয়র প্রার্থী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি
মেয়র প্রার্থী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
আবদুল্লাহ আল ক্বাফী
মেয়র প্রার্থী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন
সঞ্চালক
মতিউর রহমান : সম্পাদক, প্রথম আলো

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য করুন