এর বাইরে রাজশাহীতে ২ লাখ, নাটোরে ১ লাখ ৭৫, চুয়াডাঙ্গায় দেড় লাখ ও সাতক্ষীরায় ৮০ হাজার টন আম হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের পরিচালক মেহেদী মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, এ বছর তাঁদের প্রাক্কলন অনুযায়ী নওগাঁর চেয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম উৎপাদন বেশি হবে। ফলে শীর্ষে উৎপাদনে থাকবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

আম উৎপাদনে শীর্ষে যে জেলাই থাক না কেন, আমের বাণিজ্যিক বাগান ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এই পরিবর্তন গত এক দশকের। উৎপাদনের দিক দিয়ে বেশি এগিয়েছে নওগাঁ। জেলার পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় বছর বছর বাড়ছে আমবাগানের সংখ্যা ও পরিসর।

অবশ্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব বিবেচনায় নিলে আম উৎপাদনে নওগাঁ অনেক পিছিয়ে থাকবে। বিবিএসের হিসাবে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে রাজশাহীতে ২ লাখ ৩৫ হাজার টন আম উৎপাদিত হয়েছে। এর পরে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১ লাখ ৮৭ হাজার টন, নাটোর ৭৭ হাজার টন ও নওগাঁ ২৯ হাজার টন।
শীর্ষে যে জেলাই থাক না কেন, আমের বাণিজ্যিক বাগান ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এই পরিবর্তন গত এক দশকের। উৎপাদনের দিক দিয়ে বেশি এগিয়েছে নওগাঁ। জেলার পোরশা, সাপাহার, পত্নীতলা ও নিয়ামতপুর উপজেলায় বছর বছর বাড়ছে আমবাগানের সংখ্যা ও পরিসর। যদিও এক যুগ আগেও নওগাঁর কৃষিচিত্র এ রকম ছিল না। কৃষকেরা ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসলই বেশি আবাদ করতেন। এখন আমবাগান পাল্টে দিচ্ছে জেলার কৃষি অর্থনীতি।

নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বড় আমচাষি সাপাহারের সাখাওয়াত হাবিব। তাঁর ৫৮০ বিঘা জমিতে ১২টির মতো বাগান রয়েছে। সাখাওয়াতের দাবি, পত্নীতলা ও সাপাহারে তিনিই প্রথম বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের আমের বাগান গড়ে তোলেন।

সাখাওয়াত জানান, তিনি ২০০৭ সালের দিকে গরু ও মায়ের গয়না বিক্রি করে বছরে ১২ হাজার টাকা বিঘা চুক্তিতে ৮ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে ল্যাংড়া জাতের আমগাছের বাগান গড়ে তোলেন। এরপর থেকে তাঁকে আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। বাগানের পরিধি ও সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর আয়ও বেড়েছে।

সাখাওয়াতের সফলতা দেখে পত্নীতলা ও সাপাহার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক বছরে কয়েক শ বাগান গড়ে উঠেছে। বাগান করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন এলাকার মানুষ।

সাখাওয়াত বলেন, তাঁর বাগানে এখন সবচেয়ে বেশি আম্রপালি জাতের আমগাছ রয়েছে। পাশাপাশি ল্যাংড়া, বারি-৪, আশ্বিনা, গোপালভোগ ও হাঁড়িভাঙা জাতের আমগাছও লাগিয়েছেন তিনি। এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। সব মিলিয়ে ৫ কোটি টাকার মতো আয় হবে বলে আশা করেন তিনি।

আমবাগানের মালিকেরা বলছেন, ধানের তুলনায় আমে লাভ বেশি। এ কারণে আমবাগান করার প্রবণতা বাড়ছে। নওগাঁয় এক বিঘা জমিতে ধান আবাদ করে এক মৌসুমে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। বিপরীতে সমপরিমাণ জমির আমবাগানে আয় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা।

পোরশার নিতপুর এলাকার আমচাষি রেজওয়ান শাহ বলেন, তাঁর ১৫০ বিঘা জমির আমবাগান রয়েছে। আম গাছে থাকা অবস্থায়ই প্রতি বিঘা জমির বাগান এক মৌসুমের জন্য ৪০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি।

নওগাঁ জেলায় আমের সবচেয়ে বড় পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র মোকাম সাপাহার উপজেলা সদর বাজার। প্রতিবছর আমের মৌসুমে দুই থেকে তিন মাস এই মোকাম ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে মুখর থাকে।

সাপাহার উপজেলা আম আড়তদার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আতিকুর রহমান বলেন, সাপাহার উপজেলায় শুধু সদর বাজারেই ২০০টির বেশি আমের আড়ত রয়েছে। এসব আড়তে ভরা মৌসুমে দিনে ৮ থেকে ১০ কোটি টাকার আম কেনাবেচা হয়।