বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

টিকা কতটা নিরাপদ
ল্যানসেট-এর ওই গবেষণা প্রবন্ধে বলা হয়েছে, টিকার ওপর আস্থা সবচেয়ে বেশি রাখে আর্জেন্টিনা ও বাংলাদেশের মানুষ। বাংলাদেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ মানুষের ধারণা, টিকা নিরাপদ। এই হার বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। প্রথম স্থানে আছে ম্যারাডোনা-মেসির দেশ আর্জেন্টিনা। দেশটির প্রায় ৮৯ শতাংশ মানুষ টিকা নিরাপদ বলে মনে করে। ফ্রান্স ও জাপানের মানুষ টিকাকে সবচেয়ে কম নিরাপদ বলে মনে করে। এই দুটি দেশের ৯ শতাংশ মানুষ টিকা নিরাপদ বলে মনে করে।

বিশ্বের ১৪৯টি দেশের ২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮১ জনের মতামত ওই গবেষণার জন্য নেওয়া হয়েছে। ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই মতামত নেওয়া হয়। মতামত দেওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ১৮ বছর বা তার বেশি। গবেষকেরা দাবি করছেন, টিকা কতটা নিরাপদ বা টিকার ওপর আস্থা বিষয়ে এত বড় গবেষণা এর আগে হয়নি।

টিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ
রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে টিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, এ নিয়ে কী ভাবছে মানুষ গবেষণায় সেটিও উঠে এসেছে। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, টিকাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে ইথিওপিয়ার ৯৬ শতাংশ মানুষ। দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ টিকাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। টিকার কোনো গুরুত্ব নেই জর্জিয়ার মানুষের কাছে। দেশটির মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ মনে করে টিকা গুরুত্বপূর্ণ।

টিকা কতটা কার্যকর
ইথিওপিয়ার লোকজন টিকাকে শুধু গুরুত্বপূর্ণই মনে করে, তা নয় দেশটির নাগরিকেরা বলছেন, রোগ প্রতিরোধে টিকা যথেষ্ট কার্যকর। ইথিওপিয়ার ৮৭ শতাংশ মানুষ মনে করে টিকা রোগ প্রতিরোধ করে অর্থাৎ, টিকা কার্যকর। বাংলাদেশের ৭৫ শতাংশ মানুষেরও এ রকম ধারণা। তবে এই ধারণা সবচেয়ে কম মরক্কোর মানুষের মধ্যে। দেশটির মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ মনে করে রোগ প্রতিরোধে টিকা কার্যকর।


গবেষকেরা বলছেন, ২০১৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে আফগানিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মানুষের মধ্যে টিকার ব্যাপারে আস্থা কমেছে। আবার ২০১৮ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আয়ারল্যান্ড ও ইতালির মানুষের মধ্যে আস্থা বেড়েছে।

বাংলাদেশের মানুষ মনে করে, স্বাস্থ্যের জন্য টিকার গুরুত্ব আছে, রোগ প্রতিরোধে টিকা কার্যকর এবং টিকা নিরাপদ। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির কর্মকর্তারা বলেছেন, বাংলাদেশে জন্মের পর থেকে ২ বছর বয়সী শিশুদের ১০টি রোগের টিকা দেওয়া হয়। এ ছাড়া ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী মহিলাদের টিটেনাস ও ডিফথেরিয়ার টিকা দেওয়া হয়। দেশে টিকাদানের হার ৮০ শতাংশের বেশি। টিকা দেওয়ার ফলে বাংলাদেশ থেকে গুটিবসন্তের বিলোপ ঘটেছে। দেশে নিউমোনিয়া, টিটেনাস ও হামের প্রকোপ কমেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেকে সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন। স্বাস্থ্য খাতে ১০টি চ্যালেঞ্জের একটি টিকার ব্যাপারে এই সিদ্ধান্তহীনতা বা দ্বিধায় থাকা। গবেষকেরা বলছেন, কোনো কোনো দেশে ধর্মীয় বিশ্বাস বা বিশেষ কোনো ঘটনার কারণে টিকার ব্যাপারে আস্থা নষ্ট হয়। এই আস্থা ধরে রাখার জন্য নিয়মিত নজরদারি জরুরি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি সফল, কারণ মানুষকে টিকার ব্যাপারে সচেতন করা সম্ভব হয়েছে। টিকার প্রতি মানুষের এই আস্থা করোনার টিকা দেওয়ার সময় কাজে লাগবে।’

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন