আলোচিত ৭ নভেম্বর আজ

আজ ৭ নভেম্বর, ঘটনাবহুল ও আলোচিত দিন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পৃথক নামে দিনটি পালন করে। বিএনপি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে। জাসদ দিবসটি পালন করে ‘সিপািহ-জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে। আর মুক্তিযুদ্ধের সপক্ষের দল ও সংগঠনগুলো পালন করে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে।

 দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন দল ও সংগঠন পৃথক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি গতকাল রোববার পর্যন্তও সমাবেশের অনুমতি পায়নি। তবে আশা ছাড়েনি। এ বিষয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, ৮ নভেম্বর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সরকার ন্যক্কারজনক খেলায় মেতে উঠেছে। তবে বিএনপি এখনো দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, কাল মঙ্গলবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া যাবে।

রিজভী বলেন, আজ সোমবার ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শেরেবাংলা নগরে জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা জানাবেন এবং ফাতেহা পাঠ করবেন।

জাসদের একাংশ আজ বিকেল চারটায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে শহীদ কর্নেল তাহের মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। আরেক অংশ বেলা তিনটায় তোপখানা রোডে শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। খালেদ মোশাররফ বীর উত্তম স্মৃতি পরিষদ ‘মুক্তিযোদ্ধা ও সৈনিক হত্যা দিবস’ উপলক্ষে আজ বেলা ১১টায় শাহবাগে জাতীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে স্মরণসভার আয়োজন করেছে। আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নামের একটি সংগঠন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে আজ বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে। আওয়ামী মুক্তিযোদ্ধা লীগ সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে।

 ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার পটপরিবর্তন ঘটে। এর আড়াই মাস পর ৩ নভেম্বর শুরু হয় সেনাবাহিনীতে অভ্যুত্থান-পাল্টা অভ্যুত্থানের ঘটনা। ৩ নভেম্বর কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় জাতীয় চার নেতাকে। এসব ঘটনার একপর্যায়ে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দী হন। ৭ নভেম্বর অপর এক অভ্যুত্থানে তিনি মুক্ত হন। ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, কর্নেল এ টি এম হায়দারসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তাকে সেদিন হত্যা করা হয়।