বিজ্ঞাপন

মোস্তাফা জব্বারের বক্তব্য গণমাধ্যমে আসার পর ফেসবুকের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, ‘আমরা বিটিআরসির কাছ থেকে ডকুমেন্টারি সরিয়ে নেওয়ার জন্য হাইকোর্টের লিখিত নির্দেশনা পাইনি। আমরা এই বিষয়ে কোনো বিবৃতি দিইনি।’

ফেসবুকের এই বিবৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে মোস্তাফা জব্বার প্রথম আলোকে বলেন, ‘তারা যদি বলে থাকে যে হাইকোর্টের লিখিত নির্দেশনা পায়নি, সেটা তারা ঠিকই বলেছে। কারণ, লিখিত নির্দেশনা বলতে তারা হাইকোর্টের রায়কেই বুঝিয়েছে। সেই রায় তো আমরাও পাইনি। রায় পেতে তো দেরি হয়। আমাদের দিক থেকে স্পষ্টভাবেই তাদের (ফেসবুক) কাছে আমাদের লইয়ার্স লেটারটা (আইনজীবীর চিঠি) পাঠিয়েছি। বিটিআরসি যেটা পাঠিয়েছে, সেটা লইয়ার্স লেটার। আর সেটা পাওয়ার কথা তারা আজ আমার কাছে স্বীকার করেছে।’

আল-জাজিরায় ১ ফেব্রুয়ারি রাতে অল দ্য প্রাইম মিনিস্টারস মেন শিরোনামে একটি তথ্যচিত্র প্রচার করা হয়। এ নিয়ে দেশে-বিদেশে তুমুল আলোচনা হয়। সেটি বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর উল্লেখ করে দেশে আল-জাজিরার সম্প্রচার ও ওয়েবসাইট বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এনামুল কবির ৮ ফেব্রুয়ারি রিটটি করেন। এতে বিটিআরসির চেয়ারম্যানসহ আটজনকে বিবাদী করা হয়।

১০ ফেব্রুয়ারি আদালত রিটের গ্রহণযোগ্যতাসহ কয়েকটি বিষয়ে মতামত দিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি ব্যাখ্যাদানকারী) হিসেবে ছয় আইনজীবীর নাম ঘোষণা করেন। গত সোমবার শুনানির ধার্য তারিখে তাঁরা মতামত তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে আল-জাজিরার সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিটটি গ্রহণযোগ্য নয় বলে গত সোমবার হাইকোর্টের একই বেঞ্চে মত দেন পাঁচ অ্যামিকাস কিউরি। এই পাঁচ অ্যামিকাস কিউরি হলেন এ জে মোহাম্মদ আলী, ফিদা এম কামাল, কামাল উল আলম, প্রবীর নিয়োগী ও শাহদীন মালিক। অপর অ্যামিকাস কিউরি আবদুল মতিন খসরু বলেন, রিট আবেদনকারী ব্যক্তিগত ও জাতীয়ভাবে সংক্ষুব্ধ। আদালত ওই তথ্যচিত্র অপসারণের নির্দেশনা দিতে পারেন।

গত সোমবার ছয় অ্যামিকাস কিউরির অভিমত শোনার পর আদালত গত বুধবার শুনানির দিন রাখেন। ওই দিন তথ্যচিত্রটি দেশ-বিদেশে ইউটিউব, ফেসবুক, টুইটারসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যম থেকে অপসারণে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন