আহমদ শরীফ অন্যের কথা ধার করে বলতে চাইতেন না। তিনি যা ভাবতেন, যা বুঝতেন এবং যা জানতেন, তাই লিখেছেন। সমকালের মানুষকে পীড়িত করতে পারে, এমন সব কথাও লিখেছেন নির্ভয়ে। তিনি লিখেছেন, ‘মানুষ মাত্রেরই প্রথম ও শেষ পরিচয় হোক সে মানুষ।’
অধ্যাপক আহমদ শরীফ স্মারক বক্তৃতায় তাঁকে এভাবেই স্মরণ করলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রাবন্ধিক আহমদ কবির। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিরাজুল ইসলাম লেকচার হলে গতকাল শুক্রবার অধ্যাপক আহমদ শরীফ স্মারক বক্তৃতা ও সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘বাঙলাদেশ ভাষা সমিতি’।
‘শরীফের সুবচন’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায় আহমদ কবির বলেন, আহমদ শরীফ বিশ্বাস করতেন, মানুষে মানুষে মিলনের প্রতিবন্ধক সাম্প্রদায়িকতা। তিনি মানবপ্রেমের সঙ্গে ব্যক্তিপ্রেমের কথাও বলেছেন। ‘পরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনাকে নিজের বলে অনুভব করাই সাহিত্যরস’—নিজের ভাষায়, নিজের ভাবনায় আহমদ শরীফ তৈরি করেছেন এমন অনেক আপ্তবাক্য।
অনুষ্ঠানে গবেষক ও ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিককে ‘আহমদ শরীফ সম্মাননা’ দেওয়া হয়। আহমদ রফিকের হাতে সম্মাননা তুলে দেন বাঙলাদেশ ভাষা সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মনসুর মুসা। অনুষ্ঠানে আহমদ শরীফের পরিবারের হাতেও তুলে দেওয়া হয় স্মারক ক্রেস্ট। পরিবারের পক্ষে ক্রেস্ট গ্রহণ করেন তাঁর জ্যেষ্ঠ সন্তান মাহমুদ করিম।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মনসুর মুসা বলেন, ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে তিনি আসামির কাঠগড়ায় নীত হয়েছিলেন। তিনি যে ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন, আজ সেই ধর্মান্ধতা জিঙ্গরূপ ধারণ করে মানবতাকে অবনমিত করছে প্রতিনিয়ত। মুক্তিযুদ্ধের অমৃত ফল মুক্তচিন্তা আজ সর্বত্র দলিত হচ্ছে অপরাজনীতির ছত্রচ্ছায়ায়।’
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং স্বাগত বক্তব্য দেন বাঙলাদেশ ভাষা সমিতির সম্পাদক সাখাওয়াৎ আনসারী।

বিজ্ঞাপন
বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন