ইউপি কার্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়ি

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বাঁ পাশে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। গতকাল শুক্রবার তোলা ছবি l প্রথম আলো
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের বাঁ পাশে চলছে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম। গতকাল শুক্রবার তোলা ছবি l প্রথম আলো

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার সাচার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যালয়ের দুটি কক্ষে ৩৫ বছর ধরে সাচার পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চলছে। এতে ইউপি ও পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি এসব কার্যালয়ে এসে স্থানীয় লোকজন যথাযথ সেবা পাচ্ছে না।
জায়গা না থাকায় পুলিশের সদস্যদের একটি কক্ষে গাদাগাদি করে বসবাস করতে হচ্ছে। একই কারণে কক্ষ-সংকটে ইউপি সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে বসতে পারেন না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কচুয়া-গৌরীপুর সড়কের সাচার বাজারের দক্ষিণ পাশে সাচার ইউপি কার্যালয় অবস্থিত। জরাজীর্ণ ভবনটির চারটি কক্ষের মধ্যে দুটিতে ইউপি ও দুটি কক্ষে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চলে। ইউপি কার্যালয়ের দুটি কক্ষের মধ্যে একটি কক্ষে চেয়ারম্যান ও অন্য কক্ষে সচিব বসেন। ইউপি সদস্যদের বসার কোনো স্থান নেই। পুলিশ ফাঁড়ির দুটি কক্ষের মধ্যে একটি কক্ষে ফাঁড়ির ইনচার্জের বসার ও থাকার কক্ষ এবং অন্যটিতে পুলিশ সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি বলেন, পাকিস্তান আমলে সাচার পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন করা হয়। শুরুতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চললেও ১৯৮২ সাল থেকে সাচার ইউপি কার্যালয়ে পুলিশ ফাঁড়ি স্থানান্তর করা হয়।
ইউপি সচিব মাহমুদ আমিন বলেন, ‘জনগণ জন্ম, জাতীয়তা, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সেবা পাওয়ার জন্য কার্যালয়ে আসে। তাদের বসার জন্য স্থান দিতে পারি না। অনলাইন সেবা পেতে সবচেয়ে বেশি লোক কার্যালয়ে আসে।’
সাচার ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য গোলাম মোস্তফা বলেন, কার্যালয়ে এসে বসার জন্য জায়গা পাওয়া যায় না। কখনো চেয়ারম্যানের সামনে, কখনো সচিবের সামনে গিয়ে বসতে হয়। কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা জনগণের সঙ্গে কথা বলার জন্য বসার স্থান পাওয়া যায় না।
শুয়ারোল গ্রামের বাসিন্দা হাসিনা আক্তার বলেন, ছেলের অনলাইনে জন্মনিবন্ধনের জন্য কার্যালয়ে গিয়ে ঘণ্টা খানেক দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। সরকার ডিজিটাল সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বললেও সাচার ইউপি কার্যালয়ে এ সেবা পাওয়া যায় না।
ইউপি চেয়ারম্যান ওসমান গণি মোল্লা বলেন, ‘ইউপি কার্যালয়ের ভবনে বসে সেবা দিতে আমাদের এবং পুলিশের নানা ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পুলিশ ফাঁড়িটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য এমপি মহোদয় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। জায়গার ব্যবস্থা হলে পুলিশ ফাঁড়িটি সরিয়ে নেওয়া হবে।’
সাচার পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রহমত আলী বলেন, তাঁর এখানে তিনিসহ একজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), দুজন নায়েক ও ১৩ জন কনস্টেবল মানবেতর পরিবেশে বসবাস করেন। তিনি তাঁর কার্যালয়ে অফিসের কার্যক্রম করেন, পাশাপাশি বসবাসও করেন। পাশের কক্ষে ১৩ জন কনস্টেবল গাদাগাদি করে থাকেন। একজন এএসআই ও দুজন নায়েক স্থানীয় ডাকবাংলোয় বাস করেন।
কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম এস ইকবাল বলেন, ‘পুলিশ ফাঁড়ির কার্যক্রম চালাতে আলাদা ভবন নির্মাণের জন্য আইজিপি স্যারের কাছে দুই মাস আগে আবেদন করা হয়েছে।’