ইবোলা প্রতিরোধে দেশে ৯০ দিনের সতর্কতা জারি

ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার দেশে ৯০ দিনের সতর্কতা জারি করেছে। এ সময় দেশের আন্তর্জাতিক বিমান, স্থল ও নৌবন্দরে বিশেষ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে বন্দরগুলোতে মেডিকেল টিম কাজ করবে। তারা সন্দেহজনক কাউকে পেলে ইবোলার পরীক্ষা করবে।
এ জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে ২০ শয্যাবিশিষ্ট একটি পৃথক ওয়ার্ড খোলা হচ্ছে। ইবোলা উপসর্গ বহনকারী রোগী পেলে সেই হাসপাতালে নেওয়া হবে।
গতকাল রোববার সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত আন্তমন্ত্রণালয় সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভা শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, ইবোলা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এই ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি যেন কোনোভাবেই দেশে প্রবেশ করতে না পারেন, সেদিকে লক্ষ রেখে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে কেবল সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সভায় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্যসচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মো. নূরুল হক, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ইকবাল আর্সলান, সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মাহমুদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আন্তর্জাতিক বন্দরগুলোতে নিয়োজিত মেডিকেল টিমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, বেসরকারি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা থাকবেন। স্বাস্থ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কেন্দ্রীয়ভাবে তাঁদের কাজ সমন্বয় ও তদারকি করবে।
এদিকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গিনি থেকে আসা এক ভারতীয় নাগরিককে ইবোলা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে ভারতের চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার রাতে তাঁকে চেন্নাই বিমানবন্দর থেকে হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে দ্য হিন্দুতে খবর বেরিয়েছে।
সম্প্রতি গিনি, লাইবেরিয়া, সিয়েরা লিওন, নাইজেরিয়া—পশ্চিম আফ্রিকার এই চারটি দেশে ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। এতে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এ সপ্তাহের শুরুতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ব্যাপকভাবে ইবোলা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে বিশ্বব্যাপী জরুরি জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি বলে ঘোষণা করেছে।
ইবোলায় আক্রান্ত রোগীদের তীব্র জ্বর হয়। জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুহার ৯০ শতাংশ। বন্য প্রাণী থেকে এই ভাইরাস প্রথমে মানুষে এবং পরে মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায়।