বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকায় ফিরছে সন্ত্রাসীরা


২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে অস্ত্রসহ র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী নূর মোস্তফা ওরফে টিনু ১৮ জানুয়ারি জামিনে বেরিয়ে আসেন। গত মাসে জামিনে আসেন র‍্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার তালিকাভুক্ত আরেক সন্ত্রাসী সাইফুল আলম ওরফে লিমন। এর আগে এসেছেন এহতেশামুল হক ওরফে ভোলা।

default-image


২০১৯ সালে ঢাকায় ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান শুরু হওয়ার পরই চট্টগ্রামে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী গা ঢাকা দিয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে তাঁরা এখন এলাকায় ফিরে এসেছেন।


সিআরবি জোড়া খুনের মামলার আসামি হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর নগরের লালখান বাজারে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত এক কাউন্সিলর প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষেও প্রচারণা চালান। চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মহিউদ্দিন বায়েজীদ বোস্তামী শেরশাহ এলাকায়, সিআরবি এলাকার রিটু দাশ ওরফে বাবলু টাইগারপাসে ও জিইসি মোড়ে এবং আবদুর রউফ চকবাজার ও দেওয়ানবাজার এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নেন। এহতেশামুল বিএনপির কোনো পদে না থাকলেও দলটি সমর্থিত প্রার্থীদের প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন বাকলিয়া এলাকায়।

পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে ভোটের দিনে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ও আধিপত্য বিস্তারে প্রকাশ্যে ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নির্বাচনে ব্যবহার হতে পারে।
আখতার কবির চৌধুরী, সম্পাদক, সুজন, চট্টগ্রাম


আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করেন সাইফুল আলম। তিনি বলেন, ‘দীর্ঘদিন ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। তাই প্রচারণায় নেমেছি।’
নগর পুলিশ কমিশনার দাবি করেন, সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
শঙ্কায় ভোটার ও প্রার্থীরা


প্রচারণা শুরুর পাঁচ দিনের মাথায় ১২ জানুয়ারি পাঠানটুলীতে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কাউন্সিলর ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে এক মহল্লা সরদার নিহত হন। এ ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরসহ ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ওই এলাকায় ভোটাররা শঙ্কা কথা জানিয়েছেন। ওই এলাকার জাকির হোসেন ও মো. জুলহাস সরকারি কমার্স কলেজ কেন্দ্রের ভোটার। গত নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি, এবারও শঙ্কায় আছেন।

অতীতের সংঘাতের ইতিহাস, বিদ্রোহী প্রার্থীদের দ্বন্দ্ব ও সর্বশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত করা হয়েছে। কেন্দ্রে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে। ভোটাররা নির্ভয়ে ভোট দিতে পারবেন।
সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, পুলিশ কমিশনার


পাঠানটুলী ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরও অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ওয়ার্ডে সন্ত্রাসীরা অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে।
দক্ষিণ পাহাড়তলীর ১২টি কেন্দ্রের মধ্যে সব ঝুঁকিপূর্ণ। এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ–সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী শফিউল আজিম আশঙ্কা করেন, সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভোট দখল করতে পারে। ওয়ার্ডটিতে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন তৌফিক আহমেদ চৌধুরী।


নির্বাচন প্রসঙ্গে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, পরিস্থিতি যে দিকে যাচ্ছে, তাতে ভোটের দিনে সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ও আধিপত্য বিস্তারে প্রকাশ্য ব্যবহৃত অস্ত্রগুলো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় নির্বাচনে ভাড়ায় ব্যবহার হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন