বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ঢাকা–রংপুর মহাসড়ক

ঢাকা থেকে যানবাহনগুলো চার লেন সড়কের সুবিধায় টাঙ্গাইলের কালিহাতীর এলেঙ্গা পর্যন্ত আসতে পারে। কিন্তু এলেঙ্গার পর থেকে সেতু পর্যন্ত সড়ক দুই লেন। চার লেনের যানবাহন দুই লেন সড়কে প্রবেশের সময় যানজটের সৃষ্টি হয়। এবার এলেঙ্গা থেকে সেতুর টোল প্লাজার কাছে গোলচত্বর পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার একমুখী (ওয়ানওয়ে) করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এলেঙ্গা থেকে এই সড়ক দিয়ে ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলবে। আর উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী যানবাহন সেতু পার হওয়ার পর বিকল্প সড়ক হিসেবে গোলচত্বর থেকে উত্তর দিকে ভূঞাপুর হয়ে এলেঙ্গায় মহাসড়কে উঠবে। এটি এখনো চালু হয়নি। ঈদে যানবাহনের চাপ বাড়লেই এই ব্যবস্থা চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার।

জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেন প্রকল্প এবং এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন প্রকল্পের কর্মকর্তারা গত মঙ্গলবার এই মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে জয়দেবপুর-এলেঙ্গা চার লেন প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক নূর-এ-আলম জানান, এই মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াইয়ে নির্মিত উড়ালসড়কটি আগামী ২৫ এপ্রিল যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে।

এদিকে যানজট হলে যাত্রীরা মহাসড়কে যেন দুর্ভোগে না পড়েন, সে জন্য এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়কের পাশে ২৫টি অস্থায়ী শৌচাগার নির্মাণ করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এগুলো নির্মাণ করছেন।

সিরাজগঞ্জ সড়ক বিভাগ ২৫ এপ্রিল থেকে নবনির্মিত নলকা সেতুর একটি লেন চালু করার চেষ্টা করছে। সেই সঙ্গে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতু সংযোগ মহাসড়কের সয়দাবাদ থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত চার লেনে উন্নীতকরণে চলমান উন্নয়নকাজের জন্য সংকুচিত মহাসড়কের বিকল্প হিসেবে পাশেই বিটুমিন, পাথর, ইটের সমন্বয়ে সড়ক সমতল করে দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

ঢাকা থেকে রংপুরগামী ট্রাকচালক সোহেল রানা বলেন, ‘আমরা এই বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিম মহাসড়ক নিয়ে অনেক চিন্তিত থাকি। নলকা সেতু এলাকা থেকেই প্রতিবছর ঈদের সময় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এবার শুনেছি, ঈদের আগেই নবনির্মিত নলকা সেতুর একটি লেন খুলে দেওয়া হবে। এই লেনটি খুলে দেওয়া হলে যানজটের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যাবে।’

মহাসড়কের বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে বগুড়ার চান্দাইকোনা থেকে চাপড়িগঞ্জ পর্যন্ত অংশে এখনো অন্তত ১০টি স্থানে দিনরাতে যানজট তৈরি হচ্ছে। ঈদযাত্রায় মহাসড়কে যানবাহন বেড়ে গেলে ভোগান্তি আরও বাড়ার আশঙ্কা করছেন চালক ও যাত্রীরা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এবারের ঈদযাত্রায় উত্তরবঙ্গগামী মহাসড়কে লাখো যানবাহনের ঢল নামবে। মহাসড়কে চার লেনের কাজ চলমান থাকায় এবার অন্য সময়ের চেয়ে দুর্ভোগ বাড়বে। গতকাল মহাসড়কের রায়গঞ্জ থেকে মহাস্থান পর্যন্ত অংশ ঘুরেও শঙ্কার চিত্র মিলেছে।

তবে ‘এশিয়ান হাইওয়ে সাউথ এশিয়া সাবরিজিওনাল ইকোনমিক কো-অপারেশন (সাসেক) সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২’–এর প্রকল্প পরিচালক ওয়ালিউর রহমান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, বগুড়ার মহাস্থান বাজারে ওভারপাস ঈদের আগে ২৮ এপ্রিল খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক

গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা থেকে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের কাজে যেন হযবরল অবস্থা। চলমান কাজে এলোমেলো অবস্থার কারণে দেখা দিয়েছে ধীরগতি, যার কারণে এবার ঈদেও যানজট আর ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না। রোদ, ধুলা আর বৃষ্টিতে খানাখন্দে ভরা সড়কে জলাবদ্ধতা—এসবই ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের গাজীপুর অংশের রোজকার চিত্র। যেখানে টঙ্গী থেকে গাজীপুর পৌঁছাতে সময় লাগে চার-পাঁচ ঘণ্টা।

যাত্রী, পরিবহনচালক ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টঙ্গীর মিলগেট থেকে তুরাগ ব্রিজ পর্যন্ত পৌঁছাতেই লাগছে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা। সড়কের দুই পাশে বড় বড় নালা নির্মাণ করলেও সেগুলো কোনো কাজে আসছে না। গত বুধবারের কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা ও ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশকেও হিমশিম খেতে হয়েছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (ট্রাফিক) আবদুল্লাহ আল-মামুন প্রথম আলোকে বলেন, করোনার কারণে গত বছর যাত্রীর চাপ কিছুটা কম থাকলেও এবার বেশি থাকবে। ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে তাঁরা বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন। বিআরটি, জেলা প্রশাসন, গাজীপুর এবং ময়মনসিংহ শ্রমিক পরিবহন মালিক সমিতির নেতাদের নিয়ে একাধিক বৈঠক করেছেন। ২৩ এপ্রিল থেকে বিআরটি কিছুদিনের জন্য কিছু এলাকার সড়কের মাঝের লেন খুলে দিলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।

বিআরটি প্রকল্পের পরিচালক এ এস এম ইলিয়াস শাহ বলেন, প্রকল্পের কাজের ৭৩ শতাংশ শেষ হয়েছে। সড়কের যেসব স্থানে বেশি সমস্যা মনে হচ্ছে, সেগুলো ঈদের আগেই সমাধান করা হবে। এখন ঈদযাত্রাকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করা হবে।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি অংশে ঈদযাত্রায় যানজটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। মহাসড়কের এই অংশে সংস্কারকাজ চলছে। কিন্তু বৃষ্টি ও পাথরসংকটের কারণে সংস্কারকাজ দুই দিন ধরে (বুধ ও বৃহস্পতিবার) বন্ধ রয়েছে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা বলেন, কুমিল্লা থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৫০ কিলোমিটার মহাসড়কের এক বছর মেয়াদি চার লেনের পরীক্ষামূলক সংস্কারকাজ গত বছরের নভেম্বরে চান্দিনা উপজেলার কাঠেরপুল এলাকা থেকে শুরু হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে কাজটি পুরোদমে চালু হয়। বিটুমিন ও পাথর ভারত থেকে হিলি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্থলবন্দর দিয়ে আনার কারণে মাঝেমধ্যে সংকট দেখা দেয়। তখন সংস্কারকাজ বন্ধ রাখতে হয়।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ ৩৮ কিলোমিটার। মহাসড়কের এই অংশে কোথাও খানাখন্দ নেই। কিন্তু ৮টি পয়েন্টে অবৈধ পার্কিং, গাড়ি ঘোরানো ও পায়ে হেঁটে মহাসড়ক পারাপার হওয়ার কারণে যানজটের সৃষ্টি হতে পারে। এসব পয়েন্টে যানজট নিরসনে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে বিশেষ কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ৮ পয়েন্টে পুলিশের অতিরিক্ত ছয়টি দল কাজ করবে জানিয়েছিল হাইওয়ে পুলিশ।

ভাটিয়ারী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান নাজিম উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ভাটিয়ারী বাজারে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী বাসগুলো মহাসড়কের ওপর দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠানামা করে। অথচ হাইওয়ে পুলিশ দেখেও দেখে না। ফলে বাজার এলাকায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হয়।

ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক

মহাসড়কের মূল অংশ দখল করে বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা লেগুনা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা স্ট্যান্ডগুলো সরেনি। আগের মতোই সড়কের মাঝে বাস, মিনিবাস, লেগুনা ও ইজিবাইক থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা চলছে। বুধবারের বৃষ্টির পর সড়কের দুই পাশে থাকা গর্তগুলো ছোটখাটো ডোবায় পরিণত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই মহাসড়কে যানজট সৃষ্টির সম্ভাব্য আট কারণের সাতটিরই কোনো সমাধান হয়নি। বরং ঈদের আগেই যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে দীর্ঘ সময়। এমন অবস্থায় ঈদযাত্রা নিয়ে শঙ্কা বাড়ছে এই পথে চলাচলকারী বাসচালক ও যাত্রীদের। তবে এরই মধ্যে সড়কের মাঝখানে ফুলে ওঠা কার্পেট (হাম্প) কেটে সমান করে দেওয়া হয়েছে।

এ সড়কে চলাচলকারী হিমাচল পরিবহনের চালক ইদ্রিস মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের আগেই সড়কটিতে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ঈদ এলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

তবে কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (নারায়ণগঞ্জ সার্কেল) অমৃত সূত্রধর প্রথম আলোকে বলেন, সড়কটির দুই পাশে প্রচুর কলকারখানা থাকায় চাইলেই তিন চাকার যান বন্ধ করা যাচ্ছে না। শ্রমিক পরিবহনের জন্য লেগুনাগুলো চলাচল করে, তবে কোনো স্ট্যান্ড নেই। অন্তত ঈদের আগে সাত দিন যেন সড়কের পাশে অলস ট্রাক না রাখা হয়, সে বিষয়ে কারখানার মালিকদের সঙ্গে কথা বলা হবে উল্লেখ করে তিনি।

[প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেছেন নিজস্ব প্রতিবেদক, টাঙ্গাইল, বগুড়া; প্রতিনিধি, সিরাজগঞ্জ, শেরপুর, গাজীপুর, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম), দাউদকান্দি (কুমিল্লা) এবং সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ]

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন