
এখন প্রকৃতিতে বসন্তের হাওয়া। প্রকৃতি ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন তরুপল্লব গত ফেব্রুয়ারির শেষে ঢাকার রমনা পার্কে মাধবীবরণ উৎসবের আয়োজন করেছিল। মাধবী বাংলাদেশের এক দুর্লভ লতা। বসন্তেই ফোটে সামান্য সময়ের জন্য। বৈজ্ঞানিক নামের শেষে রয়েছে বেঙ্গলেনসিস, যার অর্থ হলো এই লতার আদিভূমি এই বাংলার বনে-জঙ্গলে। মাধবীবরণ উৎসবে ছিলেন নিসর্গবিদ দ্বিজেন শর্মা ও পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক। রমনায় এই বসন্তে অনেক ফুলই ফুটেছে, তার মধ্যে রয়েছে পলাশ, রক্তকাঞ্চন, মণিমালা, শিমুল, শ্বেত শিমুল, নাগেশ্বর, মান্দার, জংলি বাদাম, বিউমেনশিয়া, মাধবীসহ নানা ফুল।
এত সব ফুলের ভিড়ে কয়েকটি গাছে রয়েছে বাহারি রঙিন পাতা। যেন পুরো পার্ক তাকিয়ে আছে সেই সব গাছের দিকে। খুবই উজ্জ্বল এই পাতার ঝলক। চোখ জুড়িয়ে যায়। প্রতিদিনই পাতার রং বদলাতে থাকে। শীতের শেষ দিকে যখন কুসুমের পাতা ঝরা শুরু হয়, গাছতলা ছেয়ে যায় কমলা রঙের পাতায় পাতায়। সেদিন ইনাম আল হক কুসুমের নতুন পাতা দেখে মুগ্ধ হয়ে গাছটির নাম জানতে চেয়েছিলেন।
এই কুসুম নামটি ভারতে বেশি প্রচলতি। রমনা পার্কে ১০-১২টি বড় কুসুমগাছ আছে, দুটি মাত্র চারা গাছ দেখেছি। বড় গাছগুলো সম্ভবত রমনা গ্রিনের স্থপতি প্রাউড লকের লাগানো। বসন্তের কালে কুসুমের পাতার লাল টকটকে রঙে চোখ আটকে যায়। নতুন পাতা লাল থেকে কয়েক দিনের মধ্যে হালকা হলদে সবুজে এবং পরে গাঢ় সবুজে পরিণত হয়। কুসুমের বৈজ্ঞানিক নাম Schleichera oleosa। ইংরেজি নাম Ceylon oak। পরিবার Sapindaceae। পাতার বর্ণিল রঙের কারণে এই গাছের ফুল অদেখাই রয়ে যায়। তবে লম্বা মঞ্জরিদণ্ডে পিতসবুজাভ ছোট ছোট ফুল ধরে নতুন পাতা আসার পরপরই। পাতা ঝরা, নতুন পাতার আগমন ও ফুল ফোটা সবই বসন্তে। ফুলের পাপড়ি যখন তলায় ঝরে পাড়ে, সেই দৃশ্য উপভোগ্য। ফল গোলাকার, কচি ফল দেখতে সবুজ, পরিণত হলে ইট রং ধারণ করে। ফলের বীজ থেকে তেল হয়, ভারতে কুসুম তেল চুলের যত্নে ব্যবহার করা হয়।
কুসুমের আদি আবাস দক্ষিণ এশিয়া। সাধারণত কিছুটা শুষ্ক এলাকা, পাহাড়ের ঢালে ভালো হয়। গাজীপুরের শালবন এলকায় একটি কুসুমগাছ দেখেছি কয়েক বছর আগে। কসুম সুন্দর গড়নের পতাঝরা ছায়াতরু। বছরে একবারই পাতা ঝরে। লম্বা সারি করে রোপণ করা মানানসই। গাছের বৃদ্ধি ধীর প্রকৃতির। গাছ প্রায় ২০-৩০ মিটার লম্বা হয়।